সংবাদদাতা, কান্দি: প্রধান নির্বাচনের সময় বিজেপির দুই পঞ্চায়েত সদস্যকে তৃণমূলের পক্ষে ভোট দেওয়ার নির্দেশ দেওয়ার অভিযোগ উঠল এক বিজেপি নেতার বিরুদ্ধে। বিনিময়ে ওই বিজেপি নেতা ছ’ লক্ষ টাকা নিয়েছেন বলে দাবি। খড়গ্রাম ব্লকের পারুলিয়া পঞ্চায়েতের এই ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক শোরগোল পড়েছে। ওই দুই পঞ্চায়েত সদস্য ও অভিযুক্ত বিজেপি নেতা স্যোশাল মিডিয়ায় দাবি, পাল্টা দাবি করেই চলেছেন। বিজেপির স্থানীয় পদাধিকারিরাও বিষয়টি নিয়ে অস্বস্তিতে পড়েছেন।
বিজেপির ওই দুই পঞ্চায়েত সদস্য হলেন স্থানীয় পলাশী গ্রামের ঝর্না মণ্ডল ও পোড্ডা গ্রামের আরতি বাগদি। বৃহস্পতিবার সকালে ওই দুই পঞ্চায়েত সদস্যকে পাশে বসিয়ে উভয়ের স্বামী স্যোশাল মিডিয়ায় বিস্ফোরক দাবি করেন। উভয়েই স্যোশাল মিডিয়ায় দাবি করেন, পঞ্চায়েত ভোটে আমরা জয়ী হওয়ার পর স্থানীয় বিজেপি নেতা তথা জঙ্গিপুর সাংগঠনিক জেলার তফসিলি জাতি ও উপজাতি যুব সভাপতি আদিত্য মৌলিক আমাদের জোর করে তৃণমূলের প্রধানকে ভোট দিয়ে জয়ী করতে নির্দেশ দিয়েছিলেন। আমরা ওঁর কথামতো সমর্থনও করেছিলাম। বিনিময়ে তৃণমূলের প্রধানের স্বামীর কাছে থেকে তিন লক্ষ করে ছ’ লক্ষ টাকা কামিয়েছেন বিজেপি নেতা আদিত্য। সম্প্রতি তিনি ফের অন্য এক তৃণমূল সদস্যকে প্রধান নির্বাচন করতে চান বলে জানিয়েছেন। এবারেও তাঁকে ভোট দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। উত্তরে আমরা ‘ফুটবল’ হতে রাজি নই বলে জানিয়েছি। বারবার চাপ সহ্য করতে না পেরে দলের হস্তক্ষেপ চেয়ে এই বার্তা সকলের কাছে পৌঁছে দিতে চেয়েছি। এ বিষয়ে বিজেপির ওই দুই মহিলা পঞ্চায়েত সদস্যর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তাঁরা জানান, তাঁদের স্বামীর বক্তব্য তাঁদের অনুমতি নিয়েই দেওয়া হয়েছে। ওই বক্তব্যকে তাঁরা পূর্ণ সমর্থন জানাচ্ছেন।
এদিকে পাল্টা বার্তা স্যোশাল মিডিয়ায় পোস্ট করেছেন বিজেপি নেতা আদিত্য। পঞ্চায়েত প্রধানের স্বামী ও বিরোধী দলের এক নেতার কথাবার্তার দু’টি ভয়েস রেকর্ড স্যোশাল মিডিয়ায় পোস্ট করেছেন। যেখানে তিনি জানাতে চেয়েছেন যে প্রধান গঠনে সহযোগিতা করা হলেও কোনো আর্থিক লেনদেন হয়নি। আদিত্যবাবু বলেন, তৃণমূলের একাংশ চক্রান্ত করে এসব করাচ্ছেন। এদিন খড়গ্রাম থানায় ওই দুই পঞ্চায়েত সদস্যর স্বামীর বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগও করা হয়েছে।
তবে এমন ঘটনায় বিজেপির স্থানীয় নেতৃত্ব অস্বস্তিতে পড়েছে। বিজেপির খড়গ্রাম ১ নম্বর মণ্ডল সভাপতি দোলচাঁদ মাল বলেন, বিষয়টি স্যোশাল মিডিয়ায় দেখেছি। তবে এখনও কোনটা সত্যি বুঝতে পারিনি। বিষয়টি তদন্তসাপেক্ষ। খড়গ্রাম ব্লকের বিজেপির ২ নম্বর মণ্ডল সভাপতি তাপসকুমার পাল বলেন, দুর্নীতির করলে কেউ ছাড়া পাবেন না। তাতে তিনি দলের যতবড়ই নেতা হোন না কেন। বিষয়টি নিয়ে জেলা ও রাজ্য নেতাদের ইতিমধ্যে জানানো হয়েছে। এর তদন্ত হবে ও দোষী প্রমাণিত হলে দল ব্যবস্থা নেবে।