নিজস্ব প্রতিনিধি, সিউড়ি: এক গৃহবধূকে ধর্ষণের অভিযোগে বিজেপি নেতাকে গ্রেপ্তার করল সিউড়ি থানার পুলিস। রবিবার রাতে সিউড়ির ডাঙ্গালপাড়া এলাকায় বাড়িতে হানা দিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিস জানিয়েছে, ধৃতের নাম সুনীল মুর্মু। ঘটনার জেরে জেলার রাজনৈতিক মহলে শোরগোল পড়েছে। দলীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ধৃত সুনীল বিজেপির এসসি এসটি মোর্চার পদাধিকারী। ঘটনায় পদ্ম শিবির অস্বস্তিতে পড়েছে। যদিও বিজেপি নেতৃত্বের দাবি, মিথ্যা মামলায় ওই নেতাকে ফাঁসানো হয়েছে। তৃণমূল নেতৃত্ব বিজেপির বিরুদ্ধে সুর চড়িয়েছে। সোমবার ধৃত বিজেপি নেতাকে সিউড়ি আদালতে পেশ করা হলে বিচারক চারদিন পুলিসি হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছেন। সরকারি আইনজীবী মুক্তাব হোসেন বলেন, তদন্তের স্বার্থে আদালত ধৃতকে চারদিন পুলিসি হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছে। জেলার পুলিস সুপার আমনদীপ বলেন, ধর্ষণের অভিযোগে একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ঘটনায় তদন্ত চলছে।
অভিযোগ, ২০২৩ সালের জুন মাস থেকে টানা প্রায় এক মাস ওই গৃহবধূকে ধর্ষণ করা হয়। গৃহবধূর অভিযোগ, পানীয়ের সঙ্গে মাদক মিশিয়ে তাঁকে ধর্ষণ করা হয়েছিল। পরবর্তীতে তাঁর সম্পত্তিও হাতিয়ে নেওয়া হয়। চলতি বছর মার্চ মাসে ওই গৃহবধূ থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগের প্রেক্ষিতে পুলিস তদন্তে নামে। যদিও ওই বিজেপি নেতা গাঢাকা দেওয়ায় এতদিন গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি। পুলিসের দাবি, একসময় সুনীল বিজেপির পার্টি অফিসেও লুকিয়েছিল। এমনকী, শহর ছেড়ে কলকাতায়ও কিছুদিন লুকিয়েছিল। যদিও রবিবার রাতে বাড়ি ফেরে ওই নেতা। গোপন সূত্রে খবর পেয়ে সিউড়ি থানার আইসি সঞ্চয়ন বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে পুলিস হানা দেয়। রাতেই বাড়ি থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। ধর্ষণের অভিযোগে বিজেপি নেতা গ্রেপ্তার হতেই জেলার রাজনৈতিক মহলে হইচই শুরু হয়েছে। সম্প্রতি সিউড়িতে বিজেপির সভামঞ্চে ধৃত বিজেপি নেতাকে দেখা গিয়েছিল। ওই সভায় রাজ্যের নেতারাও ছিলেন। সভায় ছিলেন বলে স্বীকারও করেছেন ধৃত বিজেপি নেতা। এদিন আদালত থেকে বেরনোর সময় সংবাদ মাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে ফাঁসানো হয়েছে বলে ধৃত নেতা দাবি করে। ধৃত বিজেপি নেতা বলে, দেউচা পাচামি ইস্যুতে আন্দোলন করায় এবং বিজেপির সভায় থাকায় আমাকে এভাবে হেনস্তা করা হচ্ছে।