Bartaman Logo
২৬ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

বসিরহাটে নয়া সমীকরণ গড়ছে বিজেপি, সন্দেশখালি ও হিঙ্গলগঞ্জে জোড়া ধাক্কা তৃণমূলের

সংখ্যার হিসেবে তৃণমূল কংগ্রেস এগিয়ে থাকলেও বসিরহাট মহকুমার নির্বাচনি ফলাফলে রাজনৈতিক বার্তার দিক থেকে স্পষ্টভাবে উত্থান ঘটেছে বিজেপির। সাতটি বিধানসভা আসনের মধ্যে হিঙ্গলগঞ্জ ও সন্দেশখালি—এই দুই কেন্দ্র দখল করে বিজেপি যে নতুন সমীকরণ তৈরি করছে, তা নিয়ে জোর চর্চা শুরু হয়েছে রাজনৈতিক মহলে।

বসিরহাটে নয়া সমীকরণ গড়ছে বিজেপি, সন্দেশখালি ও হিঙ্গলগঞ্জে জোড়া ধাক্কা তৃণমূলের
  • ৫ মে, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, বসিরহাট: সংখ্যার হিসেবে তৃণমূল কংগ্রেস এগিয়ে থাকলেও বসিরহাট মহকুমার নির্বাচনি ফলাফলে রাজনৈতিক বার্তার দিক থেকে স্পষ্টভাবে উত্থান ঘটেছে বিজেপির। সাতটি বিধানসভা আসনের মধ্যে হিঙ্গলগঞ্জ ও সন্দেশখালি—এই দুই কেন্দ্র দখল করে বিজেপি যে নতুন সমীকরণ তৈরি করছে, তা নিয়ে জোর চর্চা শুরু হয়েছে রাজনৈতিক মহলে। বিশেষ করে এই দুই আসনের ফলাফল শুধু জয়-পরাজয়ের অঙ্কে আটকে নেই, বরং জনমনের পরিবর্তন, স্থানীয় ইস্যুর গুরুত্ব এবং আন্দোলনের প্রভাবকে সামনে নিয়ে এসেছে। 

Advertisement

সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ সন্দেশখালি কেন্দ্রের ফলাফল। গত কয়েকমাস ধরে নারী আন্দোলন, জমি-সংক্রান্ত অভিযোগ এবং দুর্নীতির ইস্যুতে উত্তপ্ত ছিল এই এলাকা। রাজ্যের সীমানা ছাড়িয়ে জাতীয় রাজনীতিতেও বারবার উঠে এসেছে সন্দেশখালির নাম। সেই প্রেক্ষাপটে বিজেপি এখানে ধারাবাহিকভাবে আন্দোলনের সুরকে রাজনৈতিক ময়দানে তুলে ধরার চেষ্টা করে। তারই ফল হিসেবে দলের প্রার্থী সনৎ সর্দার তৃণমূল প্রার্থীকে পরাজিত করে জয়লাভ করেন। ১৭,৫১০ ভোটে জিতেছেন তিনি। এই জয়কে বিজেপি শিবির দেখছে ‘মানুষের রায়’ হিসাবে। জয়ের পর সনৎ সর্দার বলেন, সন্ত্রাসমুক্ত সন্দেশখালি গড়াই লক্ষ্য। যারা আন্দোলন করেছেন, তাঁদের অধিকার ফিরিয়ে দেওয়া হবে। 
এদিকে হিঙ্গলগঞ্জ কেন্দ্রেও একইভাবে রাজনৈতিক চমক দেয় বিজেপি। সন্দেশখালি আন্দোলনের অন্যতম মুখ রেখা পাত্রকে প্রার্থী করে দল যে ঝুঁকি নিয়েছিল, তা সফল হয়েছে। তিনি প্রতিদ্বন্দ্বীকে হারিয়ে জয়ী হন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আনন্দ সরকারকে ৫৪২১ ভোটে হারিয়েছেন রেখাদেবী। ভোট-পরবর্তী প্রতিক্রিয়ায় রেখা পাত্র বলেন, এটা হিঙ্গলগঞ্জের মানুষের জয়। দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসন গড়ে তোলাই এখন মূল লক্ষ্য।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই জয় প্রমাণ করে আন্দোলনের নেতৃত্বকে সরাসরি ভোটের রাজনীতিতে নিয়ে আসার কৌশল কার্যকর হয়েছে। এই দুই আসনের ফলাফলকে ঘিরেই এখন সবচেয়ে বেশি আলোচনা—কারণ উভয় ক্ষেত্রেই স্থানীয় ক্ষোভ, নারী আন্দোলন এবং প্রশাসনিক প্রশ্ন সরাসরি ভোটের বাক্সে প্রতিফলিত হয়েছে বলেই মনে করছেন অনেকে। 
পর্যবেক্ষকদের মতে, দীর্ঘদিন ধরে সংগঠন মজবুত করা, বুথস্তরে কাজ এবং ইস্যুভিত্তিক প্রচারের যে কৌশল বিজেপি নিয়েছিল তারই বাস্তব ফল মিলেছে এই দুই কেন্দ্রে। 
অন্যদিকে, সামগ্রিকভাবে বসিরহাট মহকুমায় প্রভাব বজায় রেখেছে তৃণমূল কংগ্রেস। বাদুড়িয়া, বসিরহাট উত্তর, বসিরহাট দক্ষিণ, হাড়োয়া, স্বরূপনগর ও মিনাখাঁ এই ছয়টি আসনে জয় পেয়ে তারা সংখ্যার নিরিখে এগিয়ে। বসিরহাট দক্ষিণে সুরজিৎ মিত্র (বাদল), বাদুড়িয়ায় বুরহানুল মুকাদ্দিম লিটন, বসিরহাট উত্তরে তৌসিফুর রহমান, স্বরূপনগরের বীণা মণ্ডল, হাড়োয়ায় আব্দুল মাতিন এবং মিনাখাঁয় উষারানি মণ্ডল জয়ী হন। 
ফলাফল দেখিয়ে তৃণমূল নেতৃত্ব দাবি করছে যে, সংগঠন ও উন্নয়নের ভিত্তিতে তারা এখনো এই অঞ্চলে শক্ত অবস্থানে রয়েছে। তবে এই ফলের ভিতরেই রয়েছে স্পষ্ট সতর্কবার্তা। কারণ, সন্দেশখালি ও হিঙ্গলগঞ্জে বিজেপির জয় দেখিয়ে দিয়েছে—স্থানীয় অসন্তোষ, দুর্নীতির অভিযোগ বা আন্দোলন যদি তীব্র হয় তা সরাসরি নির্বাচনের ফলাফল বদলে দিতে পারে। 
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই দুই আসনের ফল ভবিষ্যতে বৃহত্তর রাজনৈতিক লড়াইয়ের ইঙ্গিত বহন করছে। সব মিলিয়ে বসিরহাটের রায় দ্বিমুখী বার্তা দিচ্ছে। একদিকে সংখ্যায় এগিয়ে তৃণমূল, অন্যদিকে মাত্র দুই আসন জিতেও রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রে বিজেপি। আগামী দিনে এই প্রবণতা কোনদিকে মোড় নেয় এখন সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ