Bartaman Logo
৬ জুলাই, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

গোবলয় থেকে আসা নেতাদের বোকামিতে বিপাকে বিজেপি,ফর্ম-৭ জমা দিয়েও শুনানিতে যেতে ভয়!

‘পরিযায়ী নেতা’দের ফরমান ছিল, ‘যত পারো ফর্ম-৭ জমা করো’। শাসক দলের ভোট ব্যাঙ্কে ধস নামানোই তাঁদের টার্গেট ছিল।

গোবলয় থেকে আসা নেতাদের বোকামিতে বিপাকে বিজেপি,ফর্ম-৭ জমা দিয়েও শুনানিতে যেতে ভয়!
  • ২২ জানুয়ারি, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, বর্ধমান: ‘পরিযায়ী নেতা’দের ফরমান ছিল, ‘যত পারো ফর্ম-৭ জমা করো’। শাসক দলের ভোট ব্যাঙ্কে ধস নামানোই তাঁদের টার্গেট ছিল। গোবলয়ের নেতাদের কথায় চলতে গিয়ে বিজেপি নেতা-কর্মীরা বিপাকে পড়েছেন। বহু চেষ্টার পর তাঁরা জেলায় সাকুল্যে ২৪৯৫টি ফর্ম-৭ জমা করেছেন। কয়েকদিন পর থেকে তার শুনানি হবে। সেই পর্বে অভিযোগকারীদের থাকতে হবে। তাতেই বিজেপি নেতাদের মাথায় হাত পড়েছে। অনেকে পড়ার লোকজনকে অবৈধ ভোটার দেগে ফর্ম-৭ জমা করেছেন। কিন্তু বাস্তবে তিনি বৈধ ভোটার। শুনানির সময় তাঁরা কী করে সেখানে হাজির থাকবেন, সেই চিন্তায় রাতের ঘুম চলে গিয়েছে। কারণ শুনানি কেন্দ্রে গিয়ে মিথ্যে কথা বললে গণরোষের শিকার হতে হবে। তাই অনেকেই শুনানিতে যাবেন না বলে ঠিক করেছেন।

Advertisement

কমিশন সূত্রে জানা গিয়েছে, পূর্ব বর্ধমান জেলায় ২৪৯৫টি ফর্ম জমা পড়েছে। গলসিতে ১১৪টি, আউশগ্রামে ১৮১টি, মঙ্গলকোটে ১৯৫টি, কেতুগ্রামে ১২২টি, কাটোয়ায় ১৭২টি, পূর্বস্থলী উত্তরে ৪৮টি, পূর্বস্থলী দক্ষিণে ১০৬টি ফর্ম জমা হয়েছে। ভাতারে ২২৩টি, বর্ধমান উত্তরে ২৮১টি, মেমারিতে ৪০টি, কালনায় ৭৫টি, মন্তেশ্বরে ১০৫টি ফর্ম জমা পড়েছে।

বিজেপি সূত্রে জানা গিয়েছে, ভিনরাজ্যের নেতাদের পরিকল্পনা ছিল বৈধ ভোটারদের নাম বাদ দেওয়া। কিন্তু বাঁকুড়ায় ফর্ম সহ গাড়ি ধরা পড়ার পর তাদের সব পরিকল্পনা ভেস্তে যায়। প্রতিটি শুনানি কেন্দ্রে তৃণমূলের নেতা এবং কর্মীরা পাহারা দিতে থাকেন। অনেক জায়গায় তাঁরা জনতার তাড়া খেয়ে পিছু হটেন। সেই কারণে তাঁরা খুব বেশি ফর্ম-৭ জমা করতে পারেননি। খণ্ডঘোষ ব্লকের তৃণমূলের সভাপতি অপার্থিব ইসলাম বলেন, বিজেপির কথামতোই নির্বাচন কমিশন চলছে। সেই কারণে ফর্ম-৭ জমা দেওয়ার সময়সীমা কমিশন বাড়িয়ে দেয়। কিন্তু তাতেও লাভ হয়নি। সাধারণ মানুষ ওদের পরিকল্পনা ভেস্তে দিয়েছে। এসব করে ওরা মানুষের থেকে আরও দূরে চলে গিয়েছে।

বিজেপি নেতা মৃত্যুঞ্জয় চন্দ্র বলেন, ফর্ম-৭ নিয়ে তৃণমূল কেন এত আতঙ্কিত ছিল, বুঝতে পারিনি। এই ফর্ম জমা করলেই তো আর নাম বাদ যাচ্ছে না। শুনানি হত। এখন শুনছি, ওরা নাকি বিজেপি নেতাদের শুনানি কেন্দ্রেও যেতে দেবে না।

বিজেপি সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, ফর্ম-৭ এর শুনানি নিয়ে দলের অন্দরমহলেই কোন্দল শুরু হয়ে গিয়েছে। দলের অনেকেই চাইছেন, অভিযোগকারীদের সঙ্গে জেলা নেতৃত্বও শুনানি কেন্দ্রে হাজির থাকুক। কিন্তু সেটা নেতারা করতে চাইছেন না। আর ভিনরাজ্য থেকে আসা নেতারা ফর্ম-৭ জমা দেওয়ার পর্বে টের পেয়ে গিয়েছেন এরাজ্যে সংগঠনের হাল কেমন!

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ