বিশ্বজিৎ মাইতি, বরানগর: কোথাও ভেঙে দেওয়া হল তৃণমূলের বুথ ক্যাম্প। কোথাও লাঠি উঁচিয়ে তাড়া করা হল কর্মীদের। এমনকি, তৃণমূল নেতার বাড়ি ঘিরে তল্লাশি পর্যন্ত চালাল কেন্দ্রীয় বাহিনী। বাহিনীর এই ‘অতিসক্রিয়তা’র আবহে উত্তর শহরতলির একের পর এক বিধানসভা কেন্দ্রে কার্যত দূরবিন দিয়ে খুঁজতে হল বিজেপির বুথ ক্যাম্প! শুধু তাই নয়, বহু বুথে তাদের এজেন্টের দেখাও মেলেনি। সেই তুলনায় সিপিএমের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। তৃণমূলের দাবি, কেন্দ্রীয় বাহিনীর ভরসায় ভোট লড়তে এসেছিল বিজেপি। যদিও বিজেপির দাবি, প্রতিটি বুথে ‘নীরব বিপ্লব’ ঘটে গিয়েছে।
কামারহাটি পুরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের কুমারপাড়া উর্দু প্রাথমিক স্কুলের বুথে মোট ভোটার ৮৯১ জন। বিকাল সাড়ে ৩টের মধ্যেই ৭০০টি ভোট পড়ে যায়। সেখানে বিজেপির কোনো এজেন্টকে দেখা যায়নি। সিপিএম এজেন্ট হিসাবে বসেছিলেন শাহজাদা খান। তাঁর নিজের নামই এসআইআরে বাতিল হয়ে গিয়েছে। এই ওয়ার্ডের সাতটি বুথের মধ্যে মাত্র দু’টিতে বিজেপির এজেন্ট ছিল। ২ থেকে ৭ নম্বর ওয়ার্ডের ৪৫টি বুথে বিজেপির কোনো এজেন্ট ছিল না। একই চিত্র উত্তর দমদমের ফতুল্লাপুর এলাকায়। পানিহাটি ও খড়দহের সিংহভাগ জায়গায় বিজেপির কোনো ক্যাম্প চোখে পড়েনি। বহু বুথে এজেন্টও ছিল না। দমদমের চিত্রও একইরকম। সেই তুলনায় পানিহাটি, কামারহাটি, দমদম, দমদম উত্তরে সিপিএমকে অনেক বেশি চোখে পড়েছে। দমদমের তৃণমূল নেতা প্রবীর পাল বলেন, ‘বিজেপি হাওয়ায় আছে। মাঠে নেই।’
এর মধ্যেই শহরতলিজুড়ে কেন্দ্রীয় বাহিনীর দাপাদাপি চোখে পড়েছে। এদিন ভোট শুরু হতে না হতেই খড়দহের তৃণমূল সভাপতি (গ্রামীণ) প্রসেনজিৎ সাহাকে তাড়া করে বাহিনী। দুপুরে তাঁর বন্দিপুরের বাড়ি ঘিরে ফেলে আধাসেনা। তাঁর বাড়ির দরজায় লাথি মারা এবং তাঁর বৃদ্ধা মা, স্ত্রী ও কন্যাদের গালিগালাজ করা হয় বলে অভিযোগ। বিলকান্দার শহরপুর এলাকায় তৃণমূলের বুথ ক্যাম্প ভাঙচুর এবং কর্মীদের মারধর করা হয় বলে অভিযোগ। মহিষপোতায় বুথ থেকে অনেকটা দূরের ক্যাম্পও ভেঙে দেওয়া হয়। বাধ্য হয়ে ভোটের মাঝপথে খড়দহের তৃণমূল প্রার্থী দেবদীপ পুরোহিত কেন্দ্রীয় বাহিনীর বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন করে তোপ দাগেন। পানিহাটির ৪, ৬, ৭, ২৫ নম্বর ওয়ার্ডে তৃণমূল কর্মীদের জওয়ানরা মারধর করেন বলে অভিযোগ। চার নম্বর ওয়ার্ডে বুথ ক্যাম্প ভেঙে দেওয়া হয়। দিনভর ফুরফুরে মেজাজে থাকা কামারহাটির তৃণমূল প্রার্থী মদন মিত্র বলেন, ‘বাহিনীর ভয়াবহ অত্যাচারের বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষ রুখে দাঁড়িয়েছিল। বন্দুকের ভয় দেখিয়ে বাংলা দখল হবে না, তা মানুষ প্রমাণ করে দিয়েছেন।’