


শ্রীকান্ত পড়্যা, তমলুক: ভোটের জন্য কালো টাকার ভাণ্ডার নিয়ে এসেছে বিজেপি। এগরা, পটাশপুরে ২০জন করে বেছে নিয়ে টাকা দিচ্ছে। মোটা টাকার গল্প চলছে। মঙ্গলবার তমলুক বিধানসভার আস্তাড়ায় তৃণমূল প্রার্থী দীপেন্দ্রনারায়ণ রায়ের সমর্থনে নির্বাচনি সভায় এসে বিজেপির বিরুদ্ধে ভোট কেনার অভিযোগ তুললেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এনিয়ে তিনি দলীয় কর্মীদের সতর্ক করে দেন। ভোটারদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আপনাদের ভোট নেওয়ার জন্য বিজেপি টাকা দিচ্ছে। যদি এদের জিতিয়ে দেন তাহলে আপনাদের অধিকার কেড়ে নেবে। আগামী ১৫ তারিখ ‘ডিলিমিটেশন বিল’ আনছে বলে শুনতে পাচ্ছি। বাংলাকে খণ্ড খণ্ড করতে চায়। তারপরই হবে এনআরসি। ডিটেনশন ক্যাম্পে পাঠাবে। আমাদের সরকার থাকলে কাউকে সরাব না। কাউকে তাড়াব না। সবাইকে রক্ষা করব।
গত ১২ ও ১৩ এপ্রিল পটাশপুর বিধানসভার ব্রজলালপুর ও বড়হাটে গোবলয় থেকে পদ্মপার্টির নেতারা এসে বিজেপি প্রার্থীর সমর্থনে বাড়ি বাড়ি হাজির হন। তখনই তৃণমূল কংগ্রেসের কর্মীরা তাঁদের বাধা দেন। সেইসঙ্গে ঘেরাও করে রাখা হয়। খবর পেয়ে পুলিশ পৌঁছায়। ভিনরাজ্যের বিজেপির লোকজন এসে টাকা বিলি করছেন বলে তৃণমূলের অভিযোগ। স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রী এদিন এনিয়ে সতর্ক করে দেন। দুপুরের তীব্র রোদ ও গরম উপেক্ষা করে এদিনের সভায় ব্যাপক ভিড় হয়। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, সংবিধানের ড্রাইটিং কমিটির চেয়ারম্যান ছিলেন আম্বেদকর। তাঁকে সম্মান জানিয়ে তমলুকের মাটি থেকেই এই সভা শুরু করলাম। তমলুক ঐতিহাসিক জায়গা। এখান স্বাধীনতার আগেই তৈরি হয়েছিল তাম্রলিপ্ত জাতীয় সরকার। একথা আমরা কেউ ভুলে যাইনি।
এদিন দীপেন্দ্রনারায়ণ রায়কে ‘আমার প্রিয় প্রার্থী’ বলে সম্বোধন করেন মুখ্যমন্ত্রী। ‘এদিকে আয়’ বলে হাত বাড়িয়ে মুখ্যমন্ত্রী তাঁকে কাছে ডেকে নেন। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, আমাদের প্রার্থী তমলুক রাজবাড়ির ছেলে। ইতিহাস প্রসিদ্ধ রাজবাড়ি। ওদের দুর্গাপুজো এখন সর্বজনীন রূপ নিয়েছে। অবিভক্ত মেদিনীপুরের সকল জোড়াফুল প্রার্থীকে ভোট দেওয়ার আবেদন করছি।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, তমলুক বিধানসভার মধ্যেই আমরা মাতঙ্গিনী হাজরার নামে গভর্নমেন্ট মহিলা কলেজ করেছি। এখানে নতুন প্রশাসনিক ভবন হয়েছে। পুলিশেরও নতুন ভবন হয়েছে। মেডিকেল কলেজ হয়েছে। ৩৮লক্ষ টাকা ব্যয় করে মাতঙ্গিনীর হাজরার বসতবাড়িও সংস্কার করেছি। পূর্ব মেদিনীপুর জেলায় জগন্নাথধাম তৈরি করে আমি নিজেকে ধন্য মনে করেছি। এটা ঐতিহাসিক পুণ্যতীর্থ। এই মন্দিরকে কেন্দ্র করে পুরো জেলা আন্তর্জাতিক পর্যটন ও ধর্মীয় স্থান হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে। এই জেলায় দীঘা-তমলুক রেল লাইন আমি বানিয়ে দিয়েছিলাম। মাত্র ন’মাসে ন’টি ব্রিজ বানিয়ে দিয়েছিলাম। নন্দীগ্রাম জমি আন্দোলনের সময় অনেক বাধা বিপত্তি টপকে আন্দোলনকারীদের পাশে দাঁড়িয়েছিলাম। এখন যিনি বিজেপির বড়ো নেতা, ওই ঘটনায় তাঁরও হাত ছিল। জগাই মাধাই সব বোঝাপড়া করে এসব করেছিল।
এদিনের সভায় তমলুক গ্রামীণ ও শহর এলাকা থেকে প্রচুর মানুষজন উপস্থিত হয়েছিলেন। সভায় মন্ত্রী বিপ্লব রায়চৌধুরী, তমলুকের বিধায়ক সৌমেন মহাপাত্র, জেলা তৃণমূল সভাপতি সুজিত রায় সহ আরও অনেকে উপস্থিত ছিলেন। এদিনের সভায় হাজির ছিলেন বিজেপি থেকে তৃণমূলে যোগ দেওয়া শহিদ মাতঙ্গিনী পঞ্চায়েত সমিতির সভানেত্রী সঙ্গীতা আদক মাইতিও। তিনি বলেন, মা যেমন সন্তানকে আগলে রাখেন, তেমনি মুখ্যমন্ত্রী বাংলার মানুষকে আগলে রেখেছেন। নির্লজ্জ বিজেপি আমাকে অপমান করেছে। তাই ২০২৫সালের ১৫আগস্ট তৃণমূলে যোগ দিয়েছি। দিদিকে ক্ষমতা থেকে সরানোর ক্ষমতা এখনো কারও হয়নি।