বালিটিকুরি ইএসআই হাসপাতালের সুপারকে ঘেরাও, বিক্ষোভ বিজেপির
  • ৩ নভেম্বর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, হাওড়া: ১২ জন কর্মীকে কাজ থেকে বসিয়ে দেওয়ার প্রতিবাদে বালিটিকুরি ইএসআই হাসপাতালে বিক্ষোভ দেখাল বিজেপি। শুধু কর্মী ছাঁটাই নয়, হাসপাতালের ভিতরে দীর্ঘদিন ধরে চুরি ও একাধিক অনিয়মের অভিযোগও তুলেছে তারা। সোমবার বিজেপির ডোমজুড় ৪ নম্বর মণ্ডলের সভাপতি নারায়ণ বিশ্বাসের নেতৃত্বে কর্মীরা হাসপাতালের সুপারের ঘরে ঢুকে দীর্ঘক্ষণ বিক্ষোভ দেখান। কাজ হারা কর্মীদের অবিলম্বে কাজে ফিরিয়ে নেওয়ার দাবি জানান তাঁরা। পাশাপাশি সুপারের পদত্যাগের দাবিও তোলেন। কর্মীদের চাকরি যাতে না যায়, সেই বিষয়টি বিবেচনা করে দেখার আশ্বাস দিয়েছেন হাসপাতালের সুপার।

Advertisement

হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে, কিছুদিন আগে ১২ জন কর্মীকে কাজ থেকে বসিয়ে দেওয়া হয়। বিজেপির দাবি, ওই কর্মীরা হাসপাতালে দীর্ঘদিন ধরে চলা চুরি ও অনিয়মের প্রতিবাদ করেছিলেন। তার জেরেই তাঁদের সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। যদিও হাসপাতালের সুপার ডাঃ সুপ্রসেনজিৎ রায়ের দাবি, ওই ১২ জন একটি আউটসোর্সিং সংস্থার অধীনে কাজ করতেন। সংস্থা পরিবর্তনের কারণেই তাঁদের বসিয়ে দেওয়া হয়েছে। গোটা সিদ্ধান্ত হেড কোয়ার্টার থেকে হয়েছে। এতে তাঁর কোনো হাত নেই। তবে কর্মীদের পরিবারের কথা বিবেচনা করে তাঁদের ফের কাজে নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট সংস্থার কাছে আবেদন জানানো হয়েছে। এদিন হাসপাতালের পিছনে থাকা ফাঁকা বহুতল আবাসন থেকে দিনের পর দিন লিফটের যন্ত্রাংশ সহ বিভিন্ন আসবাব চুরির অভিযোগও তোলেন বিজেপি কর্মীরা। এই চুরির পিছনে সুপারের মদত রয়েছে বলে অভিযোগ নারায়ণ বিশ্বাসের।
তাঁর দাবি, গত পাঁচ মাস ধরে হাসপাতালের অনিয়ম নিয়ে কথা বলতে চাইলেও সুপার তাঁদের সময় দেননি। কর্মীরা চুরির প্রতিবাদ করায় অন্যায়ভাবে তাঁদের বসিয়ে দেওয়া হয়েছে। নিজের পছন্দের কর্মী নিয়োগের জন্যই এই পদক্ষেপ বলে অভিযোগ তাঁর। বিগত সরকারের আমলে শাসকদলের একাংশের মদতে এই অনিয়ম চলেছে বলে দাবি বিজেপির। চুরির ঘটনায় সুপারের যোগ থাকার অভিযোগ তুলে তাঁর পদত্যাগ দাবি করেছে দল।
হাসপাতালের কর্মী কোয়ার্টার নিয়েও দুর্নীতির অভিযোগ তুলেছে বিজেপি। তাদের দাবি, কোয়ার্টারে থাকা অধিকাংশ পরিবারের কোনো সদস্য একসময় হাসপাতালে কাজ করলেও এখন তাঁরা অবসর নিয়েছেন। অথচ ওই পরিবারগুলি বছরের পর বছর সেই কোয়ার্টার দখল করে রয়েছে। ওই কোয়ার্টারগুলি থেকে ভাড়া ও বিদ্যুতের বিল বাবদ বিপুল টাকা তোলা হয় বলে অভিযোগ। গোটা ব্যবস্থার সঙ্গে সুপার সরাসরি যুক্ত বলে দাবি বিজেপির। এদিকে কাজ হারানো কর্মী স্বাতী কর বলেন, ‘চার বছর ধরে এখানে কাজ করছি। মা অসুস্থ, শয্যাশায়ী। ইএসআই কার্ডে তাঁর চিকিৎসা চলে। এই অবস্থায় চাকরি চলে গেলে পরিবার সামলাব কীভাবে? অন্যায়ভাবে আমাদের বসিয়ে দেওয়া হয়েছে।’  -ঘেরাও করা হয়েছে সুপারকে। নিজস্ব চিত্র