সংবাদদাতা, উলুবেড়িয়া: গ্রাম পঞ্চায়েতের মোট ২২ জন সদস্য। তার মধ্যে তৃণমূলের সদস্য সংখ্যা ২০ এবং বিজেপির মাত্র দু’জন। কিন্তু বিজেপির এই দুই সদস্যের মধ্যেই একজন প্রধান নির্বাচিত হলেন। তাছাড়া ঠিক হয়েছে, আগামী সপ্তাহে অন্যজন উপপ্রধান নির্বাচিত হবেন। আর এর সবটাই হল তৃণমূল সদস্যদের ভোটে।
সম্প্রতি উলুবেড়িয়া দক্ষিণ বিধানসভার ধান্দালি গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান এবং উপপ্রধানের বিরুদ্ধে অনাস্থা আনেন বিজেপির দুই সদস্য সহ তৃণমূলের একাংশ। সেইমত দু’জনকে অপসারণও করা হয়। এরপর বৃহস্পতিবার ছিল প্রধান নির্বাচন। এদিন বিজেপির অষ্টমী মান্না প্রধান নির্বাচিত হন। তবে এদিন তৃণমূলের ৬ সদস্য ভোটাভুটিতে অংশ নেননি। সূত্রের খবর, আগামী সপ্তাহে বিজেপির প্রতাপচন্দ্র দাসকে উপপ্রধান হিসাবে নির্বাচিত করা হবে।
এদিন প্রধান নির্বাচনের পরেই বিজেপি কর্মী, সমর্থকরা গেরুয়া আবির মেখে আনন্দে মেতে ওঠেন। তৃণমূলের একাংশের অভিযোগ, বিধানসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর থেকেই প্রধান লাবনী মণ্ডল এবং উপপ্রধান সুভাষ মণ্ডল পঞ্চায়েতে আসা প্রায় বন্ধ করে দিয়েছিলেন। ফলে সাধারণ মানুষ ঠিকভাবে পরিষেবা পাচ্ছিলেন না। তাই প্রধান এবং উপপ্রধানের বিরুদ্ধে অনস্থা আনা হয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক তৃণমূল পঞ্চায়েত সদস্যর বক্তব্য, পঞ্চায়েতে প্রশাসক বসলে মানুষের পরিষেবা পেতে সমস্যা হতো। সেই সম্ভাবনা রুখতেই বিজেপিকে সমর্থন করতে হয়েছে। অন্যদিকে, তৃণমূলের সমর্থনে প্রধান নির্বাচিত হওয়ায় বিজেপির গোষ্ঠী কোন্দল প্রকাশ্যে এসেছে। বিজেপির উলুবেড়িয়া দক্ষিণ কেন্দ্রের ২ নম্বর মণ্ডলের সম্পাদক প্রবীর সেনাপতি অভিযোগ করেন, মণ্ডলের সভাপতি তাপস সর্দার কিছু কর্মীর সঙ্গে দলের নির্দেশ অমান্য করে তৃণমূলকে সঙ্গে নিয়ে এই বোর্ড গঠন করেছেন। আমরা মুখ্যমন্ত্রীর পাশাপাশি দলের জেলা সভাপতিকে বিষয়টি জানিয়েছি। আর বিজেপির হাওড়া গ্রামীণ জেলা সভাপতি দেবাশিস সামন্ত বলেন, দলের সিদ্ধান্ত ছিল, কোনোভাবেই তৃণমূলকে সঙ্গে নিয়ে কোনো বোর্ড গঠন করা যাবে না। এক্ষেত্রে দলের সিদ্ধান্ত মানা হয়নি। এটা দলবিরোধী কাজের সমান। দল ওদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে।