Bartaman Logo
৮ আগস্ট, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

হুগলিতে পরিষেবা স্বাভাবিক রাখার নাম করে পঞ্চায়েতের মাথায় নজরদারি কমিটি বিজেপির

হুগলির পঞ্চায়েতগুলির কাজ এবার থেকে কার্যত বিজেপি নেতৃত্ব করবে। নির্বাচিত বোর্ড থাকলেও ঘুরিয়ে ক্ষমতার ‘রাজদণ্ড’ থাকবে পদ্মপার্টির হাতে।

হুগলিতে পরিষেবা স্বাভাবিক রাখার নাম করে পঞ্চায়েতের মাথায় নজরদারি কমিটি বিজেপির
  • ৮ আগস্ট, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, চুঁচুড়া: হুগলির পঞ্চায়েতগুলির কাজ এবার থেকে কার্যত বিজেপি নেতৃত্ব করবে। নির্বাচিত বোর্ড থাকলেও ঘুরিয়ে ক্ষমতার ‘রাজদণ্ড’ থাকবে পদ্মপার্টির হাতে। সেই পরিকল্পনা কার্যকর করতেই বিজেপি নেতৃত্ব বিভিন্ন পঞ্চায়েতে ‘নজরদার’ কমিটি বসাচ্ছে। নামে নজরদার কমিটি হলেও আসলে তা ‘প্রশাসকমণ্ডলী’। পঞ্চায়েতে তাঁদের কথাই হবে পরিকল্পনা রূপায়ণের শেষবাক্য। বিজেপির হুগলি সাংগঠনিক জেলায় দলীয় স্তরে ওই কমিটি তৈরি শুরু হয়ে গিয়েছে। ইতিমধ্যেই শহর লাগোয়া কোদালিয়া ১ নম্বর পঞ্চায়েতে ওই কমিটি কাজ করতে শুরু করেছে। পদ্মপার্টির অন্দরে অবশ্য এ নিয়ে রাখঢাক নেই। নেতৃত্ব বলছে, নাগরিক পরিষেবা বহাল রাখার স্বার্থেই এই পদক্ষেপ করা হয়েছে। ওই কমিটি কোনো প্রশাসনিক কাজ করবে না। নাগরিক ও পঞ্চায়েত প্রশাসনের মধ্যে সমন্বয় রাখবে।

Advertisement

তাৎপর্যপূর্ণ এই যে, তৃণমূলের কালীঘাট ঘনিষ্ঠ অংশ থেকে ঋতব্রত-তৃণমূল, সকলেই নীরব। মুখ খুলতে নারাজ তৃণমূলের পঞ্চায়েত কর্তারাও। ফলে, সাফল্যের সঙ্গে নিজেদের ‘নাগরিক প্রশাসকমণ্ডলী’ বসানোর কাজ করছে বিজেপি। বিজেপির হুগলি সাংগঠনিক জেলার সভাপতি গৌতম চট্টোপাধ্যায় বলেন, তৃণমূলের নির্বাচিত বোর্ড কাজ করছে না। প্রধান সহ কর্তারা অফিসেই আসছেন না। নাগরিক পরিষেবা বেহাল হয়ে পড়েছে। এই পরিস্থিতিতে নাগরিকদের সঙ্গে প্রশাসনের সমন্বয় রক্ষার জন্য আমরা কমিটি গড়ছি। উন্নয়ন পরিকল্পনা ও সমস্যার সমাধানে ওই কমিটি প্রশাসনের কাজে সাহায্য করবে। নির্বাচিত বোর্ড নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়ার কারণেই এই কাজ করতে হচ্ছে। কালীঘাট-তৃণমূলের হুগলি জেলার সভাপতি তথা চুঁচুড়ার প্রাক্তন বিধায়ক অসিত মজুমদার বলেন, এ বিষয়ে দলীয় স্তরে খোঁজ নেব। তারপর নেতৃত্বের সঙ্গে পরামর্শ করে পদক্ষেপ করব। যদিও তৃণমূলের জেলাস্তরের এক নেতা বলেন, ইতিমধ্যেই বিজেপি কোদালিয়া ১ নম্বর পঞ্চায়েতে নজরদার কমিটি বসিয়েছে। ওই পঞ্চায়েতে তৃণমূলের কর্তাদের সকলেই অসিতবাবুর ঘনিষ্ঠ।
বিজেপি সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রতিটি পঞ্চায়েতে পাঁচ থেকে সাতজনের কমিটি তৈরি করা হচ্ছে। মূলত, দলীয় সদস্যদের নিয়ে ওই কমিটি তৈরি করা হলেও কিছু ক্ষেত্রে স্থানীয় বিশিষ্ট নাগরিকদেরও রাখতে চাইছে নেতৃত্ব। দলের দাবি, তাতে ‘নাগরিক প্রশাসকমণ্ডলী’ তৈরির বার্তা দেওয়া যাবে। দলীয় বিধায়কদের সঙ্গে সমন্বয় রেখেই ওই কমিটি তৈরির কাজ চলছে। ২০২৩ সালের মাঝপর্বে তৈরি পঞ্চায়েত বোর্ড ভাঙতে এখনও অনেকটা সময় বাকি। ফলে, ডবল ইঞ্জিনের আরও এক মডেল প্রতিষ্ঠার পথে হাঁটছে বিজেপি। এমনটাই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ