বিজেপির গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব, সংখ্যাগরিষ্ঠতার অভাবে ১০টি পঞ্চায়েত সমিতির বোর্ড গঠন আটকে
  • ২৮ অক্টোবর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

শ্রীকান্ত পড়্যা, তমলুক: পূর্ব মেদিনীপুর জেলায় এখনও ১০টি পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতির আসন ফাঁকা। পালাবদলের পর পরিস্থিতির চাপে তৃণমূল কংগ্রেস পরিচালিত পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতিরা ইস্তফা দিয়েছেন। কিন্তু, নানা জটিলতায় বিজেপি অন্তত ১০টি পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি নির্বাচন করতে পারছে না। এরমধ্যে সভাধিপতি বামদেব গুছাইতের নিজের এলাকা শহিদ মাতঙ্গিনী, পাঁশকুড়া, নন্দকুমার, মহিষাদল, সুতাহাটা, ভগবানপুর-২, পটাশপুর-২, খেজুরি-১, রামনগর-১ ও ২ প্রভৃতি পঞ্চায়েত সমিতি রয়েছে। কোথাও বিজেপির সদস্য সংখ্যা মাত্র একজন, আবার কোথাও প্রয়োজনীয় সদস্য থাকা সত্ত্বেও গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের কাঁটা সভাপতি নির্বাচনে বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে। আইন অনুযায়ী একটানা ছ’মাসের বেশি সভাপতি আসন ফাঁকা থাকলে প্রশাসক নিয়োগ বাধ্যবাধকতা। তাই পুজোর ছুটির পর সরকারি অফিস খুলতেই আবার এনিয়ে প্রশাসনিক তৎপরতা বাড়ছে। বিজেপিও সভাপতি নির্বাচন নিয়ে সক্রিয় হয়ে উঠছে।

Advertisement

২০২৩সালে শহিদ মাতঙ্গিনী পঞ্চায়েত সমিতি দখল করেছিল বিজেপি। পঞ্চায়েত সমিতির সভানেত্রী হয়েছিলেন বিজেপির সংগীতা আদক মাইতি। পরবর্তীতে তিনি তৃণমূলে যোগ দেন। পালাবদলের পর সংগীতা ইস্তফা দেন। মোট আসনের নিরিখে বিজেপির সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকা সত্ত্বেও গোষ্ঠীকোন্দলের জেরে সভাপতি নির্বাচন নিয়ে সমস্যায় পড়েছে শাসকদল। তাই শহিদ মাতঙ্গিনী পঞ্চায়েত সমিতিতে বোর্ড গঠন করতে পারেনি বিজেপি। সুতাহাটা পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি হিসেবে হলদিয়া-১ মণ্ডল কমিটির সভাপতি অরুণ মাইতির নাম নেতৃত্বের বিবেচনায় রয়েছে। কিন্তু, সুতাহাটায় দলের সদস্যসংখ্যা মাত্র পাঁচজন। সেক্ষেত্রে ন’টি স্থায়ী সমিতির কর্মাধ্যক্ষ হিসেবে তৃণমূল কংগ্রেসের সদস্যদের সুযোগ দিতে হবে। এনিয়ে নিজেদের মধ্যে টানাপোড়েন চলছে। সেখানে সভাপতি নির্বাচন ঝুলে রয়েছে। মহিষাদলের সভাপতি হওয়ার দৌড়ে এগিয়ে আছেন প্রবীণ নেতা তথা বিরোধী দলনেতা রঘুনাথ পণ্ডা। কিন্তু, তিনি পার্টিতে গোষ্ঠী রাজনীতির শিকার। বিজেপি পরিচালিত অমৃতবেড়িয়া পঞ্চায়েতের প্রধানের বিরুদ্ধে অনাস্থা আনার নেপথ্যে তাঁর ভূমিকা রয়েছে বলে ওই প্রবীণ বিজেপি নেতার বাড়ি ঘেরাও করে বিক্ষোভ দেখিয়েছে দলের লোকজন। সেখানেও সভাপতি নিয়ে আতান্তরে পড়েছে দল।
পটাশপুর-২ পঞ্চায়েত সমিতিতে বিজেপির সদস্য মাত্র একজন। অন্যদিকে, তৃণমূলের সদস্য সংখ্যা ২০জন। একজন সদস্য নিয়ে কীভাবে বিজেপি বোর্ড গড়বে, তা নিয়ে কুলকিনারা পাচ্ছে না। অথচ তৃণমূল কংগ্রেস পরিচালিত বোর্ডের সভাপতি চাপের মুখে ইস্তফা দিয়েছেন। একইভাবে রামনগর-১পঞ্চায়েত সমিতিতে বিজেপির সদস্য সংখ্যা মাত্র চার। বোর্ড গঠন করতে হিমশিম অবস্থা। কারণ, ন’টি স্থায়ী সমিতির কর্মাধ্যক্ষ কারা হবেন, তা নিয়ে জটিলতা তৈরি হচ্ছে।
এভাবেই জেলায় ১০টি পঞ্চায়েত সমিতির বোর্ড ভেঙে যাওয়ার পরও নতুন বোর্ড গঠন ঝুলে রয়েছে। তবে, নন্দীগ্রাম উপ নির্বাচনের নির্ঘণ্ট জারি হওয়ায় বোর্ড গঠন প্রক্রিয়া আটকে গিয়েছিল। পুজোর ছুটির পর সরকারি অফিস খুলতেই এখন ফের সভাপতি নির্বাচন নিয়ে তৎপরতা শুরু হয়েছে। বিজেপির জেলা সাধারণ সম্পাদক মেঘনাদ পাল বলেন, আমরা দলের পক্ষ থেকে জেলাশাসকের সঙ্গে সাক্ষাৎ করব। পঞ্চায়েত সমিতিগুলিতে নতুন বোর্ড গঠন দ্রুত সেরে ফেলার জন্য উদ্যোগী হতে বলব। প্রশাসনও এই কাজ তাড়াতাড়ি সেরে ফেলতে চায়। গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব কোনও ইস্যু নয়। নন্দীগ্রাম উপ নির্বাচন ও পুজোর ছুটির জন্য দেরি হয়ে গেল।