Bartaman Logo
২৪ জুলাই, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

মেখলিগঞ্জে ভোটব্যাংক ধরে রাখা চ্যালেঞ্জ বিজেপির, ফুরফুরে মেজাজে তৃণমূল প্রার্থী

উত্তরবঙ্গের রাজনীতির সমীকরণ বরাবরই বাকি রাজ্যের চেয়ে কিছুটা ভিন্ন। কিন্তু এবার মেখলিগঞ্জ বিধানসভা কেন্দ্রকে ঘিরে যে রাজনৈতিক চাপানউতোর শুরু হয়েছে, তা রীতিমতো চিন্তায় ফেলেছে বিজেপিকে।

মেখলিগঞ্জে ভোটব্যাংক ধরে রাখা চ্যালেঞ্জ বিজেপির, ফুরফুরে মেজাজে তৃণমূল প্রার্থী
  • ১৯ এপ্রিল, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

বিষ্ণুপদ রায়, হলদিবাড়ি: উত্তরবঙ্গের রাজনীতির সমীকরণ বরাবরই বাকি রাজ্যের চেয়ে কিছুটা ভিন্ন। কিন্তু এবার মেখলিগঞ্জ বিধানসভা কেন্দ্রকে ঘিরে যে রাজনৈতিক চাপানউতোর শুরু হয়েছে, তা রীতিমতো চিন্তায় ফেলেছে বিজেপিকে। গত লোকসভা নির্বাচনে নিজস্ব ভোটব্যাংক গেরুয়া শিবিরের বড় শক্তির জায়গা ছিল, তাতে এবার ধস নামার আশঙ্কায় কপালে ভাঁজ পড়েছে পদ্ম শিবিরের। অন্যদিকে, প্রচারে ভালো সাড়া পেয়ে ফুরফুরে মেজাজে রয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। 

Advertisement

এই কেন্দ্রে বিজেপির প্রার্থী দধিরাম রায়। ভূমিপুত্র হিসেবে তাঁর জনপ্রিয়তা থাকলেও উল্টোদিকে তৃণমূল প্রার্থী পোড়খাওয়া রাজনীতিবিদ পরেশ চন্দ্র অধিকারী। দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা এবং প্রশাসনিক দক্ষতা, এই দুই অস্ত্রকে কাজে লাগিয়ে পরেশবাবু গেরুয়া দুর্গে ফাটল ধরাতে মরিয়া।
পার মেখলিগঞ্জ গ্রাম পঞ্চায়েতের ভোটার বিপ্লব রায় বলেন, বিজেপি শুধুমাত্র হিন্দুত্বের কথা বলে। তাহলে এসআইআরে হিন্দুদের নাম ডিলিট হল কেন? এরা মনে হয় লুটে নেওয়ার জন্য পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতায় আসতে চাইছে। বক্সিগঞ্জ গ্রাম পঞ্চায়েতের আর এক ভোটার মৃন্ময় বর্মন বলেন, কয়েকবছর আগে তো পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনে ধর্ম আসত না। আমরা সবাই এক ছিলাম। কিন্তু এখন ধর্ম নিয়ে রাজনীতি হচ্ছে।
রাজনৈতিক মহলের মতে, পরেশের ব্যক্তিগত স্বচ্ছ ভাবমূর্তি এবং এলাকার মানুষের সঙ্গে তাঁর পুরনো যোগসূত্র বিজেপির মাথাব্যথার অন্যতম কারণ। মেখলিগঞ্জের রাজনীতিতে পরেশবাবুর নিজস্ব অনুগামী গোষ্ঠী রয়েছে, যা জাতি-ধর্ম নির্বিশেষে ভোট টানতে সক্ষম।
তৃণমূল এবার অত্যন্ত কৌশলীভাবে এগচ্ছে। তারা হিন্দু ভোট বিভাজন করতে সরকারের উন্নয়নমূলক প্রকল্প যেমন লক্ষ্মীর ভাণ্ডার, দুর্গাপুজোর অনুদানকে হাতিয়ার করছে। পরেশ নিজেই বাড়ি বাড়ি গিয়ে জনসংযোগ সারছেন। যেখানে তিনি বিজেপির ধর্মীয় রাজনীতির বদলে উন্নয়নের কথা তুলে ধরছেন।
পালটা প্রচারে নামছে বিজেপিও। দধিরাম রায় মূলত রাজবংশীদের ভাবাবেগকে চাঙ্গা করার চেষ্টা করছেন। কেন্দ্রের বিভিন্ন প্রকল্পের খতিয়ান তুলে ধরে ভোটব্যাংক একজোট রাখার আপ্রাণ চেষ্টা চালাচ্ছে গেরুয়া শিবির। তবে বিজেপির অন্দরের খবর, দলের মধ্যেই টিকিট বণ্টন নিয়ে মৃদু অসন্তোষ এবং আদি নব্য দ্বন্দ্ব প্রচারের গতিতে কিছুটা বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
তৃণমূলের হলদিবাড়ি ব্লক সভাপতি মানস রায় বসুনিয়া বলেন, বিজেপি হল একটি সাম্প্রদায়িক দল। আমরা সকল ধর্মের মানুষের ভোট পাই। এজন্য মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ১৫ বছর ধরে মুখ্যমন্ত্রী রয়েছেন। এবছর মেখলিগঞ্জ বিধানসভা কেন্দ্র থেকে বিপুল ভোটে জয়ী হবেন আমাদের দলের প্রার্থী। এবিষয়ে বিজেপির হলদিবাড়ি দক্ষিণ মণ্ডল সভাপতি শংকর বর্মন বলেন, এবারের বিধানসভা নির্বাচনে আমাদের ভোটব্যাংকে কেউ থাবা বসাতে পারবে না। দধিরাম বিপুল ভোটে জয়ী হবেন।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ