Bartaman Logo
২৪ জুলাই, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

নামমাত্র আবেদনকারীকে নাগরিকত্ব প্রদান, সিএএ’তে বিশ্বাসভঙ্গের অভিযোগে বিদ্ধ বিজেপি

এসআইআর চালু হতেই কার্যত পাড়ায় পাড়ায় শিবির করে করে বসেছিলেন নেতারা। আতঙ্কে সেই সব শিবিরে ভিড়ও করেছিলেন মানুষজন। জমা হচ্ছিল আবেদনের পাহাড়।

নামমাত্র আবেদনকারীকে নাগরিকত্ব প্রদান, সিএএ’তে বিশ্বাসভঙ্গের অভিযোগে বিদ্ধ বিজেপি
  • ১৭ মার্চ, ২০২৬ ১২:০৩
Prefer us on Google

অগ্নিভ ভৌমিক,কৃষ্ণনগর: কথায় বলে, নিজের অস্ত্রও কখনও কখনও নিজের কাছেই বিপজ্জনক হয়ে ওঠে। সেটা এখন হাড়ে হাড়ে টের পাচ্ছে বঙ্গ বিজেপি। এতদিন সিএএ নামক গাজর ঝুলিয়ে বাংলার ভোটে সামান্য হলেও সুফল ঘরে তুলেছিল। এবারও ঠিক সেটাই করতে চেয়েছিল। বিশেষ করে নদীয়া জেলার মতুয়া ভোট ব্যাঙ্ককে পাখির চোখ করে সিএএ অস্ত্রে শান দিয়েছিল বিজেপি। এসআইআর চালু হতেই কার্যত পাড়ায় পাড়ায় শিবির করে করে বসেছিলেন নেতারা। আতঙ্কে সেই সব শিবিরে ভিড়ও করেছিলেন মানুষজন। জমা হচ্ছিল আবেদনের পাহাড়।  কিন্তু, নির্বাচন ঘোষণার পর দেখা গেল, নাগরিকত্ব পেয়েছেন নামমাত্র আবেদনকারী। স্বাভাবিকারণেই বিজেপির উপর আস্থা হারিয়ে ক্ষোভে ফুঁসছেন জেলাবাসীর একটা বড় অংশ। আরও স্পষ্ট করে বললে মতুয়া অধ্যুষিত এলাকার মানুষজন। যাঁদের ভোট-শক্তিতে বিগত নির্বাচনগুলিতে বলিয়ান হয়ে উঠেছিল গেরুয়া শিবির।  

Advertisement

সরকারি তথ্য বলছে, জেলায় এখন পর্যন্ত মাত্র দেড় হাজার আবেদনকারী সিএএ’তে  নাগরিকত্বের শংসাপত্র পেয়েছেন। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, মতুয়া ভোটকে অনকূলে টানতে সিএএ ইস্যুকে বড় রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে আসছে বিজেপি। কিন্তু, কেন্দ্রের গড়িমসির কারণে নাগরিকত্ব প্রদানের প্রক্রিয়া গতি পাচ্ছে না। ফলে, বিপুল সংখ্যক আবেদনকারীর প্রত্যাশা পূরণ হয়নি। ফলত, বিজেপির সিএএ ফানুস এখন  চুপসে যাওয়ার জোগাড়! 
নথিপত্র সংক্রান্ত সমস্যার কারণে মতুয়া সম্প্রদায়ের বহু মানুষের নাম চূড়ান্ত ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়েছে। বিজেপির জোর গলায় বলেছিল, চিন্তার কারণ নেই। সিএএ’র মাধ্যমে নাগরিকত্বের শংসাপত্র দিয়ে ফের ভোটার তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্ত করা হবে। এই প্রতিশ্রুতিকে সামনে রেখে সিএএ নিয়ে এসআইআর পর্বে জোরদার প্রচার করে বিজেপি। গত বছরের আগস্ট মাস থেকে ডাক বিভাগের মাধ্যমে সিএএ সংক্রান্ত আবেদনপত্রের শুনানি প্রক্রিয়া শুরু হয়। বর্তমানে কৃষ্ণনগর হেড পোস্ট অফিস এবং সংশ্লিষ্ট ডাক বিভাগীয় দপ্তরে মোট পাঁচটি টেবিলে প্রতিদিন শুনানি চলছে। কেন্দ্রীয় সরকারের প্রতিনিধিরাই সেখানে আবেদনকারীদের নথিপত্র যাচাই করছেন। প্রতিদিন গড়ে প্রতিটি টেবিলে ৫০ থেকে ৬০ টি আবেদনের শুনানি হচ্ছে। জমা পড়া মোট ৪০ হাজার আবেদনের মধ্যে শুনানি সম্পন্ন হয়েছে মাত্র ১০ হাজার আবেদনের। সাত হাজার হিয়েছে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের ঘরে। নাগরিকত্ব পেয়েছেন মাত্র দেড় হাজার আবেদনকারী।  
এই পরিসংখ্যান বিজেপির পক্ষে অত্যন্ত বিড়ম্বনার বলে মনে করছে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা। কেননা,  নদীয়া জেলায় প্রায় ৩৫ শতাংশ মতুয়া ভোট রয়েছে। যা একাধিক বিধানসভা আসনে জয়-পরাজয়ে নির্ণায়ক ভূমিকা নিয়ে থাকে। সেই কারণেই ভোট এলে সিএএ নিয়ে বাজার গরম করে বিজেপি। তাতে বিগত কয়েকটি নির্বাচনে সুফলও মিলেছে। এবার কিন্তু সিএএ অস্ত্র কাজে আসবে না বলেই মনে করা হচ্ছে। উল্টে, বিশ্বাসভঙ্গের অভিযোগে বিদ্ধ হবে বিজেপি। কৃষ্ণনগর সাংগঠনিক জেলার তৃণমূলের যুব সভাপতি অয়ন দত্ত বলেন, ‘সীমান্তের মানুষকে বিভ্রান্ত করতেই বিজেপি সিএএ ইস্যু সামনে আনে। যাঁরা ভারতীয় তাঁকে কেন নাগরিকত্বের পরিচয় দিতে হবে? মতুয়ারা ভারতীয়।’ কৃষ্ণনগর সাংগঠনিক জেলার বিজেপির সহ সভাপতি রঞ্জন অধিকারী বলেন, ‘ধর্মের কারণে যারা নিপীড়িত হয়েছিলেন, তাঁদের নাগরিকত্ব দেওয়ার অঙ্গীকার বিজেপি করেছিল। সেটাই আজ বাস্তবায়িত হচ্ছে।’ 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ