মুম্বই, ১৩ অক্টোবর: যেদিন দিল্লিতে সিজেপির প্রতিবাদ ঘিরে ধুন্ধুমার পরিস্থিতি। ধরপাকড় চলছে রাজধানী জুড়ে। দিল্লির পাশাপাশি বিক্ষোভের ঝাঁঝ লক্ষ্য করা যায় এদিন মুম্বইতেও। দাবি ছিল মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ, এসআইআর বাতিল-সহ আরও একাধিক। সেই কর্মসূচিতেই গিয়েছিলেন অভিনেতা ইমরান খান, এমনটাই অভিযোগ। এরপরে তাঁকে আটক করা হয় পুলিশের তরফে। ‘ভারত থেকে তাড়ানো উচিত’, দাবি করছেন বিজেপি নেতা তথা প্রাক্তন সাংসদ কিরিট সোমাইয়া।
শুধু ইমরান খান নয় এছাড়াও ১০ অক্টোবর আটক করা হয় তাঁর পরিবারের সদস্যদের এবং বান্ধবী তথা অভিনেত্রী লেখা ওয়াশিংটনকেও। সেদিন ঠিক কী ঘটেছিল? ‘ভয়ঙ্কর’ অভিজ্ঞতার কথা নিজের সোশ্যাল মিডিয়ায় লিখে পোস্ট করেছেন অভিনেত্রী লেখা।
লেখা মঙ্গলবার বলেন, শনিবার যখন তাঁরা আগস্ট ক্রান্তি ময়দানে আটক হওয়া বন্ধুদের খোঁজ নিতে গিয়েছিলেন। সেখানে কোনো জমায়েত ছিল না। কেবল চারপাশে পুলিশের ব্যারিকেড বসানো ছিল। তিনি আরও বলেন, ‘এরপরে ইমরান সেখানে পৌঁছলে, সাংবাদিকরা ইমরানকে ঘিরে ধরেন। ইমরান তাঁদের প্রশ্নের উত্তরও দেন। ইমরান বলেন, আমাদের কোনো দাবি নেই, আমরা কোনো সংগঠনের অংশ নই। আমি এখানে একজন নাগরিক হিসেবে এসেছি এবং একজন মানুষ হিসেবে এসেছি। কারণ আমি এই শহরের বাসিন্দা।’ লেখার অভিযোগ, ‘এরপরেই তাঁদের দিকে পুলিশ ছুটে আসে এবং জাপটে ধরে, এতে আমাদের শরীরে আঘাত লাগে। এরপরে আমাদের সবাইকে জোর করে গাড়িতে তুলে নিয়ে যাওয়া হয় এবং প্রায় দুই ঘণ্টা ধরে আমাদের নিয়ে ঘুরে বেড়ায়।’ এর আগে, অভিনেত্রী জেন মারিও ইনস্টাগ্রামে একটি রিল শেয়ার করে বিক্ষোভের সময় পাওয়া আঘাতের চিহ্ন দেখিয়েছিলেন।
যদিও ইমরান খানের এভাবে কোনো বিক্ষোভ কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করাকে মোটেই ভালো চোখে দেখছে না বিজেপি। তারও ইঙ্গিত মিলেছে বিজেপি নেতা তথা প্রাক্তন সাংসদ কিরিট সোমাইয়ার এক বক্তব্যে। বিস্ফোরক দাবিও করছেন তিনি। বিজেপি নেতার দাবি, ইমরান খান মার্কিন নাগরিক এবং কোনো বিদেশি নাগরিক কি রাজনৈতিক আন্দোলনে অংশগ্রহণ করতে পারেন? প্রশ্নও তুলেছেন কিরিট সোমাইয়া। এছাড়াও সমাজ মাধ্যমে পোস্ট করে তিনি লেখেন, ‘অভিনেতা ইমরান খানকে অবিলম্বে ভারত থেকে বহিষ্কার করা উচিত। সরকারের বিরুদ্ধে কথা বলার অধিকার সকলের রয়েছে। কিন্তু ইমরান খানের মতো মানুষ ভারতে অরাজকতা উসকে দেওয়ার চেষ্টা করছেন।’ এছাড়াও অবিলম্বে অভিনেতার বিরুদ্ধে সমন জারি করার দাবিও করেছেন বিজেপি নেতা।



