রবীন রায়, আলিপুরদুয়ার: মহিলাদের লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের টাকা বৃদ্ধি ও বেকার যুবকদের জন্য যুবসাথী প্রকল্প চালু হওয়ায় কুমারগ্রাম বিধানসভাজুড়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক উন্মাদনা শুরু হয়েছে। এই উন্মাদনা তৃণমূল কংগ্রেসের পালে হাওয়া ছড়িয়েছে। বিধানসভা ভোটে সেই হাওয়া ধরে রাখতে সকাল থেকে রাত পর্যন্ত বুথে বুথে চষে বেড়াচ্ছেন দলের আলিপুরদুয়ার জেলা সভাপতি প্রকাশচিক বরাইক ও দলের ব্লক সভাপতি সুদয় নার্জিনারী। তাঁরা প্রচারে রাজ্য সরকারের বিভিন্ন উন্নয়ন কাজের ফিরিস্তি তুলে ধরছেন।
রাজ্যসভার সাংসদ প্রকাশচিক নিজেও অসম-বাংলা সীমানায় সংকোশ ও রায়ডাক নদী দিয়ে ঘেরা কুমারগ্রাম বিধানসভার বাসিন্দা। শেষ তিন বছরে এই বিধানসভার নদী ভাঙন, রাস্তাঘাট, পানীয় জল, সেচ ও স্বাস্থ্য পরিকাঠামোয় ১৫০ কোটি টাকা খরচ করা করা হয়েছে। তাই উন্নয়নের তাস দিয়েই এবার কুমারগ্রাম দখলে আত্মবিশ্বাসী রাজ্যের শাসকদল। যদিও বিজেপি নেতৃত্বের দাবি, কুমারগ্রাম বিধানসভা এবারও তাঁদের দখলেই থাকবে।
প্রতিবেশী ভুটান ও অসমের পাশে কুমারগ্রাম পঞ্চায়েতের উত্তর হলদিবাড়ির বাসিন্দা ব্যবসায়ী অঞ্জন মল্লিক। স্ত্রী শম্পাদেবী নিয়মিত লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের টাকা পাচ্ছেন। বড় ছেলে সুমন যুবসাথীতে আবেদন করেছে। অঞ্জনবাবু বলেন, লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের টাকা বৃদ্ধি ও যুবসাথী প্রকল্প চালু হওয়ায় আমরা খুশি। তা নিয়ে গ্রামেগঞ্জে মানুষের মধ্যে যে বিপুল উন্মাদনা দেখতে পাচ্ছি তাতে তৃণমূল সুবিধাজনক জায়গায় আছে। যদি তৃণমূলে কোনো গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব না হয়।
মধ্য হলদিবাড়ির বাসিন্দা খোকন সরকারেরও একই বক্তব্য। খোকনবাবু বলেন, লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের টাকা বেড়ে যাওয়ায় ও যুবসাথী প্রকল্পের কারণে গ্রামের যুবক-যুবতী ও মহিলাদের মধ্যে যে উন্মাদনা দেখতে পাচ্ছি তাতে কুমারগ্রামে তৃণমূলকে এবার কেউ আটকাতে পারবে না। আমার স্ত্রী সুচিত্রা কর সরকারও লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের টাকা পাচ্ছে।
তৃণমূলের জেলা সভাপতি তথা রাজ্যসভার সাংসদ প্রকাশচিক বরাইক বলেন, রাজ্য সরকারের এই উন্নয়নের কথাই সাধারণ মানুষের কাছে প্রচারে তুলে ধরছি। লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের টাকা বৃদ্ধি, যুবসাথী ও আমাদের পাড়া আমাদের সমাধানে বিভিন্ন প্রকল্পের জন্য সাধারণ মানুষ উপকৃত হচ্ছে। শেষ তিন বছরে শুধু কুমাগ্রামে বিধানসভায় ১৫০ কোটি টাকা খরচ করা হয়েছে। সব মিলিয়ে কুমারগ্রামে এবার আমরাই জিতছি।
তৃণমূলের পালে এই হাওয়া ওঠায় ও চব্বিশের লোকসভা ভোটে কুমারগ্রামে দলের লিড মাত্র সাত হাজারের উপরে হওয়ায় উদ্বিগ্ন বিজেপি নেতৃত্ব। যদিও এলাকার বিজেপি বিধায়ক মনোজ ওরাওঁ বলেন, আমাদের দল কোনো উদ্বেগে নেই। এবারও কুমারগ্রাম বিধানসভায় আমরাই জিতছি।
কুমারগ্রাম বিধানসভায় রয়েছে ১৮টি পঞ্চায়েত। তারমধ্যে আলিপুরদুয়ার-২ ব্লকের আছে সাতটি গ্রাম পঞ্চায়েত। একুশের বিধানসভা ভোটে কুমারগ্রামে বিজেপির জয়ের মার্জিন ছিল ১১ হাজার ১ ভোটের। আর লোকসভায় বিজেপির সেই মার্জিন তৃণমূল নামিয়ে এনেছে ৭ হাজার ৬৪১ ভোটে। স্বাভাবিকভাবেই কুমারগ্রামে এবার চাপে রয়েছে পদ্মপার্টি। তাই আত্মবিশ্বাসী জোড়াফুল।