সংবাদদাতা, বজবজ: এবার বজবজ বিধানসভা কেন্দ্রে আরজিকর হাসপাতাল থেকে পাশ করা ডাক্তার তরুণ আদককে প্রার্থী করেছে পদ্মশিবির। বজবজ পুরসভার ১৪ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা তরুণবাবুদের পরিবারের চার প্রজন্ম চিকিৎসক। তাঁর দাদু ডাঃ জোতিন্দ্র আদক, বাবা ডাঃ প্রতাপচন্দ্র আদক, তিনি নিজে চিকিৎসক এবং ছেলে ডাঃ রোনক আদকও ডাক্তার। তরুণবাবুর কাছে হিরো হলেন সুভাষচন্দ্র বসু। এক সময় ট্রেড ইউনিয়ন আন্দোলনে নেতৃত্ব দিতে বজবজে নিয়মিত আসতেন নেতাজি। দাদু ও বাবার কাছে সেই সব দিনের গল্প শুনেছেন। মানুষের কল্যাণে নিজেকে যুক্ত করার ইচ্ছা থেকে কখনও সরকারি চাকরি করেননি। বজবজে এসে পৈতৃক বাড়িতে প্রাইভেট প্র্যাকটিস শুরু করেন। গরিব মানুষদের রোজ বিনা পয়সায় দেখে দেন। যাঁদের সামর্থ্য আছে, তাঁদের কাছ থেকেই ফি নেন।
তরুণবাবুর কথায়, আমার দাদুর আদি বাড়ি ছিল বজবজের গ্রামীণ এলাকায়, উত্তর রায়পুরের নয়াচকে। তখন গ্রামের সঙ্গে এই শহরের যোগাযোগের রাস্তা ছিল না। কোনও স্কুল, বিদ্যুৎ, হাসপাতাল ছিল না। দাদু গ্রামে এইসব ক্ষেত্রে উন্নতি ঘটানোর জন্য কলকাতা শহরে প্রাইভেট প্র্যাকটিস করার সুযোগ পেলেও যাননি। গ্রামে সেখানে রোগী দেখতেন, জমি দান করে সেখানেই তৈরি করেছিলেন নয়াচক প্রাথমিক বিদ্যালয়। তাঁর সঙ্গে গ্রামের অন্য বাসিন্দারাও এগিয়ে এসেছিলেন। রাস্তা তৈরি থেকে অনেক উন্নতির কাজে যুক্ত ছিলেন দাদু।
সেই স্কুল মাধ্যমিক পর্যায়ে উন্নীত হয়েছিল। আমি সেই স্কুল থেকেই সবচেয়ে বেশি নম্বর ও লেটার মার্কস নিয়ে মাধ্যমিকে প্রথম বিভাগে পাশ করা প্রথম ছাত্র। আমার দাদু, বাবা কংগ্রেস করতেন। বজবজ কেন্দ্রের বিধায়ক এবং এবারও তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী অশোক দেব যতদিন কংগ্রেসে ছিলেন, আমাদের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ ছিল। উনি শ্রদ্ধার পাত্র। তবে ওঁর বয়স হয়েছে। খুবই অসুস্থ। ভালোভাবে চলাফেরাও করতে পারেন না। ওঁর চলাফেরার জন্য একজন লোক লাগছে। এই পরিস্থিতিতে বজবজের উন্নতির জন্য একজন সুস্থ, সক্রিয় এবং উদ্যমী ব্যক্তিকে চাই, যিনি দৌড়ঝাঁপ করে জনকল্যাণের কাজ করতে পারবেন। তাই আমজনতার অনুরোধে ভোটের অঙ্গনে এসেছি। তবে এটাও স্পষ্ট করে দিতে চাই, আমি অশোকবাবুর বিরুদ্ধে লড়াই করছি না। তবে অশোকবাবুদের দলের একাংশের অনৈতিক এবং অমানবিক আচরণের বিরুদ্ধে, ন্যায় বিচারের জন্য জনতার দরবারে এসেছি।
কিন্তু অশোক দেব তো সেই ’৯৬ সাল থেকে এই কেন্দ্র থেকে একবারও হারেননি। আর আপনি ২০২১ সালেও এই কেন্দ্র থেকে প্রথম প্রার্থী হয়ে অশোক দেবের কাছে হেরেছিলেন ৪৪ হাজার ৭১৪ ভোটে। তাহলে এবার কোনও অঙ্কে টক্কর দেওয়ার কথা ভেবেছেন? ডাঃ তরুণ আদক উত্তরে বলেন, এবার জোর টক্কর হবে। কারণ তৃণমূলের অপশাসন থেকে মুক্তি পেতেই এবার আমাকে লড়াই করতে উৎসাহ দিচ্ছেন ভোটাররা। যদিও বিজেপি প্রার্থীর এইসব ভাবনাকে গুরুত্ব দিতে নারাজ বিধায়ক অশোক দেবের ঘনিষ্ঠ বজবজ পুরসভার চেয়ারম্যান গৌতম দাশগুপ্ত। তিনি বলেন, বর্ষীয়াণ আইনজীবী ও শিক্ষাগত যোগ্যতার নিরিখে ভারত জুড়ে অশোক দেবের সুনাম রয়েছে।
এছাড়াও বজবজে সামগ্রিক উন্নয়নের কাণ্ডারী হিসাবে তাঁর বিরাট অবদান রয়েছে। আর সব মানুষেরই অসুখ করে। অশোকবাবুও তার বাইরে নন। কিন্তু তিনি রোজ বজবজে প্রতিটি অনুষ্ঠানে যোগ দেন। গভীর রাতে বাড়ি ফেরেন। এখনও। সব সময় তাঁকে পাওয়া যায়। ফলে বিজেপি প্রার্থী যাই বলুন, তা অশোকবাবুর ভোটে এগিয়ে থাকার ব্যাপারে ছাপ ফেলতে পারবে না।