


সংবাদদাতা, চাঁচল ও হরিশ্চন্দ্রপুর: সর্বশক্তি প্রয়োগ করেও ভোট পাওয়ার নিশ্চয়তা নেই! তাই কী ভোট কেনার চেষ্টা? বিজেপি প্রার্থীর ভাইয়ের কাছ থেকে বিপুল নগদ উদ্ধারের পর এমনই প্রশ্ন তুলল তৃণমূল কংগ্রেস।
ভোটের দু’দিন আগে মঙ্গলবার ২ লক্ষ ৭৯ হাজার টাকা সহ গ্রেপ্তার হয়েছে চাঁচল বিধানসভার বিজেপি প্রার্থী রতন দাসের ভাই। মঙ্গলবার সকাল ১০টা নাগাদ চাঁচল বিধানসভার বরুই অঞ্চলে অভিযান চালায় হরিশ্চন্দ্রপুর থানার পুলিশ। গ্রামীণ রাস্তায় টহল দেওয়ার সময় সন্দেহভাজন ওই যুবকের বাইক আটকান পুলিশকর্মীরা। তল্লাশি চালাতেই চোখ কপালে ওঠে তাঁদের। বাইকের ডিকি থেকে উদ্ধার হয় নগদ।
পুলিশ জানিয়েছে, ধৃতের নাম বিপ্লব দাস। তিনি চাঁচল থানার কলিগ্রামের বাসিন্দা। তাঁর কাছ থেকে নগদ ২ লক্ষ ৭৯ হাজার টাকা উদ্ধার হয়েছে। নির্দিষ্ট ধারায় মামলা রুজু করে ঘটনার তদন্ত চলছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ওই বিজেপি কর্মী চাঁচল বিধানসভার বিজেপি প্রার্থী রতন দাসের ভাই। তৃণমূল কংগ্রেসের অভিযোগ, বিজেপি বুথে বুথে টাকা বিলি করে ভোট কেনার চেষ্টা করছে। সেজন্য টাকা নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল।
যদিও মালদহ উত্তরের বিজেপির যুব মোর্চার সাধারণ সম্পাদক প্রসেনজিৎ শর্মা বলেন, পুলিশ যাঁকে গ্রেপ্তার করেছে, তিনি প্রার্থীর ভাই হলেও একজন ব্যবসায়ী। তবে, দলের সঙ্গে যুক্ত নন। গত লোকসভা ভোটেও বিরোধীরা একই অভিযোগ করেছিল। পরবর্তীতে প্রমাণ হয় সেই টাকা ব্যক্তিগত। মালদহ জেলা তৃণমূলের সভাপতি আব্দুর রহিম বক্সির মন্তব্য, ভোটের মরশুমে এভাবে বিপুল টাকা উদ্ধারের ঘটনা অবাক করছে। ভোট কেনার জন্য ওই টাকা ব্যবহার করার পরিকল্পনা ছিল বলে মনে হচ্ছে। ঘটনার তদন্ত করে টাকার উৎস খুঁজে বের করুক পুলিশ।চাঁচল বিধানসভার বিজেপি প্রার্থী রতন দাসকে একাধিকবার ফোন করা হলে তোলেননি। মেসেজ করলেও উত্তর দেননি তিনি। হরিশ্চন্দ্রপুর থানার আইসি সুমিত কুমার ঘোষ বলেন,তল্লাশি চালিয়ে ধৃতের কাছ থেকে ২ লক্ষ ৭৯ হাজার টাকা উদ্ধার হয়েছে। ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে। গত লোকসভা ভোটের আগে চাঁচলের বাইপাসে গাড়ি আটকে এক বিজেপি কর্মীর কাছ থেকে কয়েক লক্ষ টাকা উদ্ধার করেছিল চাঁচল থানার পুলিশ। এবার বিধানসভা ভোটের ঠিক দু’দিন আগে ফের এমন ঘটনায় অস্বস্তিতে পড়েছে গেরুয়া শিবির। তবে, তারা অভিযোগ মানতে নারাজ।