সঞ্জিত সেনগুপ্ত, শিলিগুড়ি: বিধায়ক হিসাবে গত পাঁচ বছরে বিজেপি প্রার্থী শিখা চট্টোপাধ্যায়ের ব্যর্থতা নিয়ে প্রথম থেকেই সরব তৃণমূল কংগ্রেস। কিন্তু ডাবগ্রাম-ফুলবাড়ি বিধানসভা কেন্দ্রের নির্বাচনি লড়াইয়ে নতুন মাত্রা যোগ করেছে তৃণমূল ও বিজেপি প্রার্থীর সুস্থতা ও অসুস্থতা নিয়ে পারস্পরিক মন্তব্য। গত পাঁচ বছরে এই কেন্দ্রের উন্নয়ন নিয়ে বিতর্কের মধ্যেই এবার ভোট প্রচারে এই ইস্যু ঘিরে চর্চা তুঙ্গে।
তৃণমূল প্রার্থী রঞ্জন শীলশর্মা বিজেপি প্রার্থী শিখাদেবীকে ‘মা’ বলে সম্বোধন করেন। শিখাদেবী তা মেনেও নিয়েছেন। আর এই সম্পর্ককে হাতিয়ার করে বিজেপি প্রার্থীর শারীরিক অসুস্থতার প্রসঙ্গ প্রচারে ব্যাপকভাবে তুলে ধরছেন তৃণমূল প্রার্থী। প্রচারে রঞ্জন উদ্বেগভরা গলায় সাধারণ মানুষকে বোঝাচ্ছেন, শিখাদেবীর বয়স হয়েছে, তিনি অসুস্থ। ঠিকমতো চলাফেরা করতে পারেন না। ডাক্তার ওঁকে অনেক ওষুধ প্রেসক্রাইব করেছেন। কিন্তু নিয়মিত ওষুধ খান না। ভোট প্রচারে উদ্বেগ প্রকাশ করেন রঞ্জন সরাসরি বলছেন, এই বয়সে শিখাদেবীর বিশ্রাম নেওয়া উচিত এবং রাজনৈতিক জীবন থেকে সরে দাঁড়ানো নিয়ে ভাবা দরকার।
রঞ্জন শীলশর্মার প্রচারের এই কৌশলে তিনি যে কিছুটা অস্বস্তিতে পড়েছেন তা ভোট প্রচারে বুঝিয়ে দিচ্ছেন বিজেপি প্রার্থী শিখা চট্টোপাধ্যায়। তিনিও প্রচারে বলছেন, রঞ্জন শীলশর্মা আমাকে নিয়ে যেসব কথা বলছেন তার পিছনে রয়েছে রাজনৈতিক চক্রান্ত। এমন অবস্থায় প্রতিটি প্রচার ও জনসভায় বিজেপি প্রার্থী নিজেকে সুস্থ প্রমাণ করতে বেশি সচেষ্ট থাকছেন।
শিখা চট্টোপাধ্যায় বলেন, হ্যাঁ, আমার বয়স হয়েছে। কিন্তু আমি সম্পূর্ণ সুস্থ। নিয়মিত কাজ করছি, মানুষের সঙ্গে আছি। সারাদিনে ব্লাড প্রেসারের জন্য একটি ওষুধই খাই। যিনি আমার বয়স ও অসুস্থতা নিয়ে কথা বলছেন তাঁঁর আগে দেখা উচিত তাঁর দলে আমার থেকে বেশি বয়সের প্রার্থী রয়েছেন। যাঁরা আমাকে অসুস্থ বলছেন তাঁরা বছরে ক’বার হায়দরাবাদ, চেন্নাই যাচ্ছেন চিকিৎসার জন্য, সেটা খোঁজ নিয়ে দেখুন।
ডাবগ্রাম-ফুলবাড়ি কেন্দ্রের এই দুই প্রার্থীর মধ্যে সুস্থতা-অসুস্থতা নিয়ে চাপানউতোর এখন ভোটের অন্যতম আলোচিত বিষয় হয়ে উঠেছে। এর প্রভাব ভোটারদের উপর কতটা পড়বে, তা সময়ই বলবে।