বারাকপুরে আড়াআড়ি বিভক্ত বিজেপি শিবির কৌস্তভ বাগচীকে সমর্থন দুই বিধায়কের
  • ৩০ অক্টোবর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাকপুর: বারাকপুর ও টিটাগড় পুরসভার প্রাক্তন দুই চেয়ারম্যান উত্তম দাস এবং প্রশান্ত চৌধুরীকে বিজেপিতে নিলে আত্মহত্যার হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন বারাকপুরের বিধায়ক কৌস্তভ বাগচী। বিজেপির রাজ্য অফিসের সামনে গায়ে কেরোসিন তেল ঢেলে আত্মহত্যার হুমকি দিয়েছিলেন তিনি। ওই দুই নেতাকে দলে নেওয়ার ইস্যুতে কৌস্তভের পাশে দাঁড়িয়ে তাঁর বক্তব্যকে সমর্থন করলেন পার্শ্ববর্তী জগদ্দল ও নৈহাটির বিজেপি বিধায়ক রাজেশ কুমার ও সুমিত্র চট্টোপাধ্যায়। 

Advertisement

অপরদিকে, বিষয়টি নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় কৌস্তভের নাম না করে তাঁর বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন বীজপুরের বিজেপি বিধায়ক সুদীপ্ত দাস। বিজেপির একাধিক নেতা-কর্মী কৌস্তভকে সরাসরি আক্রমণের পাশাপাশি শ্রম ও পরিবহণ মন্ত্রী অর্জুন সিংয়ের পক্ষ নিয়েছেন শুধু নয়, তাদের তরফে তৃণমূল এবং সিপিএমের নেতাদের সঙ্গে কৌস্তভ বাগচীর ছবি তুলে ধরে তাঁকে আক্রমণ করা হচ্ছে। অর্জুন অনুগামীরা ফেসবুকে লিখছেন, বারাকপুর শিল্পাঞ্চলে অর্জুনের বিকল্প নেই। স্বাভাবিকভাবেই বারাকপুর শিল্পাঞ্চলে শাসক বিজেপির অন্দরে শুরু হয়েছে দ্বন্দ্ব। তার অবসান হওয়া তো দূরের কথা, উলটে যত দিন যাচ্ছে তা যেন প্রকট হচ্ছে। বারাকপুর শিল্পাঞ্চলে বিজেপি আড়াআড়িভাবে ভাগ হয়ে গিয়েছে। যদিও, কৌস্তভের বক্তব্য, অর্জুন সিংয়ের সঙ্গে আমার কোনো দ্বন্দ্ব নেই। আমি শুধু উত্তম দাসকে দলে নিতে বারণ করেছি। তবে গোটা ঘটনা নিয়ে অর্জুন কোনো মন্তব্য করতে চাননি। 
প্রসঙ্গত, তৃণমূলের প্রাক্তন চেয়ারম্যান উত্তম দাসের দুর্গাপুজোর মঞ্চে হাজির হয়েছিলেন মন্ত্রী অর্জুন সিং, বিজেপির বারাকপুর সাংগঠনিক জেলার সভাপতি তাপস ঘোষ, চন্দ্রমণি শুক্লা সহ স্থানীয় বিজেপি নেতৃত্ব। দিন কয়েক আগে সেই ছবি তুলে ধরে বারাকপুরের বিধায়ক কৌস্তভ বাগচী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, এই ছবি দেখতে ভালো লাগে না। তাঁদের বিজেপিতে নেওয়া হলে আত্মহত্যার হুমকি দিয়েছিলেন তিনি।
 কিন্তু তার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই বিজেপির একদল স্থানীয় নেতা উত্তম দাসের বাড়িতে মিষ্টির হাড়ি নিয়ে হাজির হয়ে বিজয়ার শুভেচ্ছা জানিয়ে আসেন। ফলে উত্তম দাস ও প্রশান্ত চৌধুরীকে নিয়ে বিজেপির অন্দরে জল্পনা চড়ছে। এরইমধ্যে বৃহস্পতিবার কৌস্তভের পাশে দাঁড়িয়ে জগদ্দলের বিধায়ক রাজেশ কুমার বলেন, ‘বারাকপুরের বিধায়ক যা বলেছেন মনের কথা বলেছেন। কৌস্তভের বক্তব্যকে সমর্থন করি।’ একধাপ উপরে উঠে তাঁর বক্তব্য, ‘আমরা সবাই তো যোগ্য বিধায়ক। তাহলে কেন অন্য লোককে অন্যের বিধানসভা এলাকায় ঢুকতে হবে?’ নৈহাটির বিধায়ক সুমিত্র চট্টোপাধ্যায় বলেন, ‘কৌস্তভ নিশ্চয় কোনো প্রমাণ হাতে রেখে কথাগুলি বলেছেন। ও তো দল বিরোধী কথা বলেনি। সাবধান করেছে কাদের নেব, কাদের নেব না।’