নিজস্ব প্রতিনিধি, চুঁচুড়া: স্রোতের উলটোপথে হেঁটে চুঁচুড়া পুরসভায় বোর্ড গড়ার উদ্যোগ নিয়েছিল তৃণমূল। অভিযোগ, বিজেপি কর্মীদের অবরোধে সেই উদ্যোগ ভেস্তে গিয়েছে। সোমবার পুরসভার গেটে অবরোধ করে বিজেপি কর্মীরা ‘চোর চোর’ স্লোগান দেন। প্রবল বাধার মুখে তৃণমূল কাউন্সিলারদের একাংশ পুরসভাতেই ঢুকতে পারেননি। তবে, এদিন কাউন্সিলারদের অন্দরের দ্বন্দ্ব প্রকাশ্যে এসেছে। দুপুরে বোর্ড গড়ার বৈঠকের আগেই তিন কাউন্সিলার পদত্যাগ করেন। তারমধ্যে তৃণমূলের শহর সভাপতিও ছিলেন। তিনি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গত্যাগের কথাও ঘোষণা করেছেন। বৈঠক ভেস্তে যাওয়ার পর জয়দেব অধিকারী নামের আরও এক কাউন্সিলার পদত্যাগ করেন। তাৎপর্যপূর্ণভাবে, তাঁকেই সামনে রেখে নতুন বোর্ড গড়ার পরিকল্পনা করা হয়েছিল বলে জানা গিয়েছে। নতুন বোর্ড গড়ার অন্যতম উদ্যোক্তা চুঁচুড়ার প্রবীণ কাউন্সিলার তথা প্রাক্তন চেয়ারম্যান অমিত রায় বলেন, বিজেপি কর্মীরা পরিকল্পিতভাবে অবরোধ তৈরি করে বোর্ড গড়ার বৈঠক করতে দেননি। ওরা স্থানীয় বাসিন্দাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেছে। আমরা ক্ষমতায় থাকাকালীন বিজেপির সাংসদকে কাজ করতে বাধা দিইনি। বিজেপির হুগলি সাংগঠনিক জেলার সভাপতি গৌতম চট্টোপাধ্যায় বলেন, বিজেপি কোনো অবরোধ করেনি। তৃণমূলের শাসন মানুষ চাইছেন না। তাই সাধারণ মানুষ প্রতিবাদ করে থাকতে পারেন। জয়দেব অধিকারী বলেন, এদিন যেভাবে পুরসভার কাজে বাধা দেওয়া হয়েছে, তারপর আর কাউন্সিলার পদে থাকার অর্থ ছিল না। তাই পদত্যাগ করেছি। এদিন কাউন্সিলার তথা শহর তৃণমূলের সভাপতি শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় পদত্যাগ করেছেন। তাঁর সঙ্গে আরও দুই কাউন্সিলার অনিন্দতা মণ্ডল ও অর্পিতা সাহাও ইস্তফা দিয়েছেন। চুঁচুড়া পুরসভায় ২৯ জন কাউন্সিলার ছিলেন। সকলেই তৃণমূলের। তারমধ্যে সম্প্রতি চেয়ারম্যান ও ভাইস চেয়ারম্যান সহ চারজন পদত্যাগ করেন। তারপর বোর্ড ভেঙে গিয়েছিল। কিন্তু তারপর গত কয়েকদিনে নতুন সমীকরণ তৈরির চেষ্টা হয়েছিল। কিন্তু অভিযোগ, বিজেপির বাধায় সেই চেষ্টাও বিফল হয়েছে।



