Bartaman Logo
২২ আগস্ট, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

বিজেপি আশ্রিত গুন্ডারা খুন করতে এসেছিল: শশী পাঁজা

ব্রিগেডের সভায় প্রধানমন্ত্রীর নরেন্দ্র মোদির ভাষণ শুরুর ঠিক আগে রাজ্যের মন্ত্রী শশী পাঁজার বাড়িতে বিজেপি আশ্রিত গুন্ডারা ‘বর্বরোচিত’ হামলা চালিয়েছে।

বিজেপি আশ্রিত গুন্ডারা খুন করতে এসেছিল: শশী পাঁজা
  • ১৫ মার্চ, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ব্রিগেডের সভায় প্রধানমন্ত্রীর নরেন্দ্র মোদির ভাষণ শুরুর ঠিক আগে রাজ্যের মন্ত্রী শশী পাঁজার বাড়িতে বিজেপি আশ্রিত গুন্ডারা ‘বর্বরোচিত’ হামলা চালিয়েছে। স্বয়ং মন্ত্রী শশী পাঁজা অভিযোগ করেছেন, তাঁকে খুন করতেই এসেছিল বিজেপি আশ্রিত গুন্ডারা। শুধুমাত্র বাড়িতে ভাঙচুর নয়, মন্ত্রীকে শারীরিকভাবেও নিগ্রহ করা হয়েছে বলে অভিযোগ। দুষ্কৃতীদের আক্রমণে জখম হয়েছেন মন্ত্রী। তাঁর কোমরে ও গলায় ইটের আঘাত লেগেছে। শশীকে বাঁচাতে গিয়ে জখম হয়েছেন বেশ কয়েকজন দলীয় কর্মী। 

Advertisement

পরে আহত দলীয় কর্মীদের নিয়ে বিকেলে তৃণমূল ভবনে এসে গোটা ঘটনার বিবরণ দেন মন্ত্রী শশী পাঁজা। তাঁর বক্তব্য, আমাকে খুনের পরিকল্পনা ছিল বিজেপি আশ্রিত গুন্ডাদের। আমি সে ব্যাপারেই ছবি, ভিডিও সহ থানাতে এফআইআর করছি। তাঁর কথায়, গিরিশ পার্কে ‘বয়কট বিজেপি’ লেখা যে ফ্লেক্সগুলি ছিল, সেগুলি ছিড়ে দিয়েছিল বিজেপি কর্মীরা। বাসে চেপে আসা বিজেপি কর্মীরা রড, কাচের বোতল, ইট-পাথর নিয়ে এসেছিল। তা দিয়েই  আমার বাড়িতে হামলা চালানো হয়। আমি আক্রান্ত হই। দুষ্কৃতীরা আমার বাড়ির সদর দরজা ভেঙে ভিতরে ঢুকে পরার চেষ্টা করছিল। দুষ্কৃতীরা সবাই জয় শ্রীরাম স্লোগান দিচ্ছিল আর অকথ্য গালিগালাজ করছিল।
যে ঘটনা বিজেপি কর্মীরা ঘটিয়েছে, আর তাতে মোদির বক্তব্যের সঙ্গে মিল খুঁজে পেয়েছেন শশী। তাঁর অভিযোগ, নরেন্দ্র মোদি সভায় বলেছেন, ‘হিসেব বুঝে নেব’। আর তার কিছুক্ষণ আগেই তাঁর দলের লোকজন আমার হামলা চালিয়েছে। তাহলে তো এটা স্পষ্ট হয়ে গিয়েছে, বিজেপির উদ্দেশ্য ও পরিকল্পনা কী ছিল! একটা ব্রিগেডের সভার দিন বিজেপি গুন্ডারা যে ন্যক্কারজনক ঘটনা ঘটিয়েছে, তা নজিরবিহীন। এটা ব্রিগেড নয়, বি-গ্রেড সভা হয়েছে।
এদিন তৃণমূল ভবনের সাংবাদিক বৈঠকে রাজ্যের মন্ত্রী ব্রাত্য বসু এবং সাংসদ সায়নী ঘোষ চড়া সুরে প্রতিবাদ জানান বিজেপির এদিনের আচরণকে। তাঁদের অভিযোগ, হিংসাত্মক রাজনীতি, ধর্মীয় বিভাজন, উগ্র স্লোগান, গুন্ডাগিরি, হামলা— এটাই বিজেপির রাজনৈতিক পরিকল্পনা। মন্ত্রীর বাড়িতে মাত্র দু-তিনজন পুলিশ কর্মী ছিলেন। কিন্তু বিজেপি আশ্রিত ২০০-৩০০ গুন্ডা চড়াও হয়ে হামলা চালিয়েছে। রাজ্যের একজন মহিলা মন্ত্রীর উপর বিজেপির সভা চলাকালীন এই হামলা থেকে স্পষ্ট, বিজেপি আগামী দিন ঠিক কী ধরনের পরিবর্তন আনতে চাইছে। ওরা আসলে চায় বাংলার সুষ্ঠু রাজনৈতিক বাতাবরণকে পরিবর্তন করে ভয়াবহ পরিস্থিতি গড়ে তুলতে।
প্রধানমন্ত্রী এদিন তৃণমূল সরকারের বিরুদ্ধে যে যে অভিযোগ তুলেছেন, তারও তথ্য সহকারে জবাব দিয়েছেন তৃণমূলের নেতারা। তৃণমূল ভবন থেকে স্পষ্ট ভাবে বলা হয়েছে, মন্দিরের কাঠামো দিয়ে যারা রাজনীতির প্যান্ডেল তৈরি করে, তাতেই বোঝা যায়, অতি ভক্তি চোরের লক্ষণ! 
ব্রাত্য বলেছেন, একটি সমীক্ষায় উঠে এসেছে, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সাম্প্রতিক সময়ে যত বক্তব্য রেখেছেন, তাতে ১৭৩ টি ভাষণের মধ্যে ১১০ টিই মানবতা বিরোধী।  নিজস্ব চিত্র

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ