সংবাদদাতা, বিষ্ণুপুর: অস্থায়ী কর্মীদের আন্দোলনের জেরে দু’দিন পুরসভার অফিস তালা বন্ধ ছিল। শনিবার পুলিশি প্রহরায় অফিসের তালা খোলা হল। এনিয়ে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে পুলিশের বচসা বাধে। এদিন পুরসভার এগজিকিউটিভ অফিসার আন্দোলনকারীদের প্রতিনিধিদের সঙ্গে কথা বলেন। সাধারণ মানুষের স্বার্থে তাঁরা পুর পরিষেবা চালু রাখার আবেদন জানান। শেষপর্যন্ত অফিস চালু হলেও দাবি না মেটা পর্যন্ত আন্দোলন জারি থাকবে বলে অস্থায়ী কর্মীরা জানান। এদিকে গত তিনদিন ধরে কর্মবিরতির জেরে শহরে ময়লা জমতে শুরু করেছে।
আন্দোলনকারী দিলবার খান বলেন, একদিকে আমাদের দু’মাসের বেতন বকেয়া রয়েছে। অন্যদিকে বিনা নোটিসে ১৭৩ জন ষাটোর্দ্ধ কর্মীকে ছাঁটাই করা হয়েছে। তার প্রতিবাদে কর্মবিরতি আন্দোলন চলছে। এদিন জোর করে পুরসভা খোলা হয়েছে। তবে আমাদের দাবি না মেটানো পর্যন্ত আন্দোলন চলবে। দাবি সংক্রান্ত একটি স্মারকলিপি এদিন আবার পুরসভার আধিকারিকের দেওয়া হয়েছে।
বিষ্ণুপুরের বিধায়ক বলেন, রাজ্য সরকারের নির্দেশে ষাটোর্দ্ধ এবং ভুয়ো কর্মীদের ছাঁটাইয়ের প্রক্রিয়া চলছে। সবকিছু নিয়ম মেনেই হচ্ছে। তারপরেও সাধারণ মানুষ কেন পুর পরিষেবা থেকে বঞ্চিত থাকবেন। তাই এদিন পুরসভায় কাজকর্ম শুরু হয়েছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, কিছুদিন আগে বকেয়া বেতনের দাবিতে বিষ্ণুপুর পুরসভার অস্থায়ী কর্মীরা এক সপ্তাহ দু’বার কর্মবিরতি করেন। পরে বিষ্ণুপুরের বিধায়ক শুক্লা চট্টোপাধ্যায়ের আশ্বাস পেয়ে কর্মবিরতি তুলে নেওয়া হয়। তারপর বিধায়ক বিষয়টি নিয়ে পুরমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পালের সঙ্গে দেখা করেন। তাঁর নির্দেশে বৃহস্পতিবার পুরসভার ষাটোর্দ্ধ ১৭৩ জন কর্মীকে ছাঁটাইয়ের বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়। তার জেরেই কর্মীদের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। পুজোর আগে এভাবে বিনা নোটিসে এক সঙ্গে এতজনকে ছাঁটাই করার প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার থেকে সব অস্থায়ী কর্মী একত্রিত হয়ে আন্দোলনে নামে। এদিন পুরসভায় তালা খুলতেও বাধা দেওয়া হয়। এদিন পুরসভার এগজিকিউটিভ অফিসার সহ অন্যান্য স্থায়ী কর্মীরা অফিসে এসেও ফিরে যান। অনেকে বিভিন্ন প্রয়োজনে পুরসভায় এসে ফিরে যান। এদিন অফিসের তালা খোলার সময় পুলিশের সঙ্গে আন্দোলনকারীদের তুমুল বচসা হয়। যদিও আপত্তি অগ্রাহ্য করে পুরসভায় কাজকর্ম চালু হয়। তবে আন্দোলনকারীরা তাঁদের কর্মবিরতি বজায় রেখেছেন। এদিকে তিনদিন ধরে শহরের ময়লা না তোলায় অনেক আবর্জনা জমে গিয়েছে।