সংবাদদাতা, ঘাটাল: শিক্ষিকা এবং উপযুক্ত পরিকাঠামোর অভাবে কার্যত বন্ধ হওয়ার মুখে বিদ্যাসাগরের জন্মভিটের বীরসিংহ বিদ্যাসাগর বালিকা বিদ্যাপীঠ। ওই স্কুলের ৩২০ জন ছাত্রীর ভবিষ্যৎ এখন গভীর অন্ধকারের মুখোমুখি। পঠনপাঠন লাটে উঠার জোগাড় হওয়ায় ক্ষোভে ফুঁসছেন অভিভাবক থেকে শুরু করে স্থানীয় বাসিন্দারা। ঘাটালের বিধায়ক শীতল কপাট বলেন, বিষয়টি আমরা জানতাম। কিন্তু ‘হাত-পা বাঁধা থাকায়’ এত দিন কিছু করতে পারিনি। এবার স্থায়ী শিক্ষিকা নিয়োগের আগেই অন্য স্কুল থেকে শিক্ষিকা ‘ম্যানেজ’ করে বিদ্যালয়টি চালানোর ব্যবস্থা করা হবে।
বিদ্যাসাগরের ব্যবহৃত চেয়ার, টেবিল, তক্তাপোষ সহ অন্যান্য আসবাবপত্র নিয়েই ১৯৭১ সালে শুরু হয় ওই স্কুলটি। স্কুলের শুরুর পর থেকে পাশাপাশি গ্রামগুলি থেকে মহাপুরুষের জন্মভিটের ওই স্কুলে পড়ার জন্য লাফিয়ে-লাফিয়ে ভিড় বাড়তে শুরু করে। একসময় ওই স্কুলে ছাত্রীর সংখ্যা ৬০০’র আশেপাশে পৌঁছে গিয়েছিল। শিক্ষিকার সংখ্যা ছিল ১২ জন, তিন জন শিক্ষাকর্মী। প্রয়াত প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখোপাধ্যায়ের স্ত্রী শুভ্রা মুখোপাধ্যায় একসময় ওই বালিকা বিদ্যাপীঠেই শিক্ষকতা করেছিলেন।
কিন্তু পূর্বতন সরকারের উৎশ্রীর প্রকল্পের সৌজন্যে সেই শিক্ষিকার সংখ্যা বর্তমানে কমে দাঁড়িয়েছে চারে। এক সঙ্গে ছ’জন, পরে আরও কয়েক জন শিক্ষিকা বদলি হয়ে চলে যান। বর্তমানে টিআইসি বাদে সংস্কৃত, ইতিহাস এবং ভূগোলের একজন করে মোট তিন জন শিক্ষিকা রয়েছেন। আর টিআইসিকে প্রশাসনিক কাজ সামলে ইংরেজির ক্লাস নিতে হয়। মাত্র একজন শিক্ষাকর্মী। ওই স্কুলের অন্যান্য শিক্ষিকারা জানান, বিজ্ঞান বিভাগের কোনো শিক্ষিকা নেই। ফলে রুটিন মেনে সব ক্লাসে নিয়মিত পাঠদান অসম্ভব হয়ে পড়েছে। অভিভাবকরা জানান, বিজ্ঞান বিভাগে কোনো শিক্ষিকা না থাকায় বহু ভালো ছাত্রী ওই স্কুলে ভর্তি হতে চায় না বা পঞ্চম শ্রেণিতে ভর্তি হলেও কয়েকটি ক্লাসের পরে সে অন্য স্কুলে চলে যাচ্ছে।
আক্ষেপের সুর ধরা পড়েছে বিদ্যালয়ের টিচার-ইনচার্জ শ্রাবণী দাসের গলায়। তিনি জানান, উপযুক্ত পরিকাঠামোর ও শিক্ষিকার অভাবে এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান চালানো কার্যত অগ্নিপরীক্ষার শামিল। কোনো শিক্ষিকা হঠাৎ ছুটি নিলে পরিস্থিতি হাতের বাইরে চলে যায়। তখন নির্ধারিত সময়ের আগেই স্কুল ছুটি দিয়ে দিতে বাধ্য হন তাঁরা। এর উপর রয়েছে মিড-ডে মিলের তদারকির ঝক্কি। এই বিপুল কাজের চাপ সামলাতে গিয়ে বাকি তিন সহকর্মীকে নিয়ে রীতিমতো নাজেহাল অবস্থায় পড়েন টিচার-ইনচার্জ। আগামী বছর আরও একজন শিক্ষিকা অবসর নেবেন। ফলে নতুন নিয়োগ না হলে স্কুলটি যে পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাবে, তা বলাই বাহুল্য। শ্রাবণীদেবী আক্ষেপের সুরে জানান, এই দুরবস্থার কথা জানিয়ে জেলা বিদ্যালয় পরিদর্শক দপ্তরে বারবার দরবার করলেও আজ পর্যন্ত কোনো সুরাহা মেলেনি।