


সোমেন পাল, গঙ্গারামপুর: সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে বদলাচ্ছে নির্বাচনী প্রচারের ভাষা। আর সেই নতুন ধারারই ঝলক দেখা গেল হরিরামপুরে। তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী বিপ্লব মিত্র অভিনব কৌশলে প্রচারের সূচনা করে প্রথম দিনেই নজর কাড়লেন সাধারণ মানুষের। মঙ্গলবার হুডখোলা গাড়িতে চড়ে, সঙ্গে ঝংকার তোলা র্যাপ গানের তালে তালে তিনি কার্যত ছক্কা হাঁকিয়ে দিলেন প্রচারের ময়দানে। এক সময় দেওয়াল লিখন, পোস্টার আর মাইকিং-ই ছিল ভোট প্রচারের প্রধান হাতিয়ার। কিন্তু ডিজিটাল যুগে সেই চিত্র বদলে গিয়েছে। এখন সোশ্যাল মিডিয়া, রিলস ভিডিও আর র্যাপ মিউজিক হয়ে উঠছে নতুন প্রজন্মের কাছে সবচেয়ে আকর্ষণীয় মাধ্যম। সেই পরিবর্তনকেই দক্ষতার সঙ্গে কাজে লাগিয়ে বিপ্লব মিত্র কলকাতার জনপ্রিয় র্যাপ শিল্পীদের দিয়ে নিজের বিধানসভা এলাকার উন্নয়নের চিত্র তুলে ধরেছেন গানের মাধ্যমে। এতে ব্যাপক সাড়া মিলছে যুব সমাজ ও নতুন প্রজন্মের ভোটারদের মধ্যে।
প্রচারের প্রথম দিনেই প্রখর রোদ উপেক্ষা করে বাগিচাপুর এলাকায় জনসংযোগ সারেন তিনি। তাঁর আগের গাড়িতে বাজতে থাকে সেই বিশেষ র্যাপ গান, যা এখন কার্যত প্রচারের মুখ্য আকর্ষণ। এলাকায় পৌঁছতেই আবাল-বৃদ্ধ-বনিতা ঘর থেকে বেরিয়ে এসে প্রার্থীকে শুভেচ্ছা ও আশীর্বাদ জানান। যা গোটা প্রচারের পরিবেশকে করে তোলে উৎসবমুখর।
জেলার রাজনৈতিক ইতিহাসে এই ধরনের র্যাপ গানের মাধ্যমে প্রচার নিঃসন্দেহে নতুন অধ্যায়। ইতিমধ্যেই সেই গান সোশ্যাল মিডিয়া থেকে শুরু করে কর্মীদের মোবাইলে মোবাইলে ছড়িয়ে পড়েছে। হয়ে উঠেছে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু। দলীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, আবার জিতবে মমতা এই বার্তার পাশাপাশি প্রার্থীর নিজস্ব র্যাপ গানকে হাতিয়ার করেই চলবে গোটা বিধানসভা জুড়ে প্রচার। সব মিলিয়ে হরিরামপুরের রাজনৈতিক ময়দানে এবার র্যাপ সংগীতকে ঘিরে তৈরি হয়েছে এক নতুন উত্তাপ। যেখানে প্রচারের সুরেই ফলাফলের ইঙ্গিত স্পষ্ট। যদিও বিরোধীরা কটাক্ষ করতে ছাড়েনি। বিজেপির পক্ষ থেকে এই প্রচার কৌশলকে শহুরে সংস্কৃতি বলে আখ্যা দেওয়া হয়েছে। এবং দাবি করা হয়েছে এর কোনো প্রভাব গ্রামীণ এলাকায় পড়বে না। এই প্রসঙ্গে তৃণমূল প্রার্থী বিপ্লব মিত্র বলেন, সময়ের সঙ্গে প্রচারের ধরন বদলানো জরুরি। মানুষ যা পছন্দ করে, তাদের কাছে পৌঁছনোর জন্য সেই মাধ্যমই ব্যবহার করা হয়েছে। গত ১৫ বছরে এলাকায় যে উন্নয়ন হয়েছে, সেটাই গানের মাধ্যমে তুলে ধরা হয়েছে। যুবসমাজ ব্যাপক সাড়া দিচ্ছে। হরিরামপুরের বিজেপি প্রার্থী দেবব্রত মজুমদার বলেন, এই সমস্ত র্যাপ সংগীতে আমাদের জেলার মতো গ্রামীণ এলাকায় কোনো প্রভাবই পড়বে না। এটা শহুরে সংস্কৃতি। পাঁচ বছরে কোনো কাজ হয়নি। বিধানসভা ভোটের আগে এখন মানুষকে গান শোনালে তা তেতো মনে হবে।