


নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: রাজ্যে মাত্র দেড় শতাংশ রেশন গ্রাহকের আধার নম্বর সংযুক্তিকরণ হয়নি। খাদ্য দপ্তরের সাম্প্রতিক পর্যালোচনা বৈঠকের রিপোর্ট থেকে জানা যাচ্ছে, ৯৮.৫ শতাংশ গ্রাহকের আধার নম্বর সংযুক্তিকরণ হয়েছে। আধার নম্বরের বায়োমেট্রিক যাচাই (ই-কেওয়াইসি) হয়েছে ৯৭.৩৭ শতাংশ গ্রাহকের। রেশন গ্রাহকদের আধার নম্বর ও বায়োমেট্রিক যাচাইয়ের প্রক্রিয়ায় দেশের মধ্যে পশ্চিমবঙ্গের অবস্থান উপরের দিকে। কয়েক মাস আগে প্রকাশিত কেন্দ্রীয় সরকারের একটি রিপোর্ট অনুযায়ী, রাজ্যে ৯৩ শতাংশ গ্রাহকের ই-কেওয়াইসি হয়েছিল। সেই সময় মাত্র তিন-চারটি রাজ্য এক্ষেত্রে পশ্চিমবঙ্গের থেকে সামান্য এগিয়েছিল। রেশন বণ্টন ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা আনতে কেন্দ্রীয় সরকার আধার সংযুক্তিকরণ ও বায়োমেট্রিক যাচাইয়ের উপর জোর দিয়েছে। তবে বিজেপি এবং এনডিএ শাসিত রাজ্যগুলি এ ব্যাপারে অনেকটাই পিছিয়ে আছে। কেন্দ্রীয় সরকারের রিপোর্ট অনুযায়ী, মাত্র ১৫টি রাজ্য ৮০ শতাংশের বেশি ই-কেওয়াইসি করেছে। কিছুদিন আগে কেন্দ্রীয় খাদ্যমন্ত্রক লিখিত হুঁশিয়ারি দিয়ে জানিয়েছিল, গ্রাহকদের ই-কেওয়াইসি না করালে রাজ্যগুলির খাদ্য বরাদ্দ ও ভর্তুকি বন্ধ করে দেওয়া হবে। তবে সেই হুঁশিয়ারি এখনও কার্যকর করতে পারেনি কেন্দ্র।
কিন্তু রাজ্য খাদ্যদপ্তর আধার সংযুক্তিকরণ ও যাচাইয়ে অনেকটা এগিয়ে রয়েছে। রাজ্যের সব ব্লকে ৯৩ শতাংশের বেশি বায়োমেট্রিক যাচাই হয়েছে। বাঁকুড়ার শালতোড়া ও হাওড়ার উলুবেড়িয়ার দু’টি ব্লকে এই প্রক্রিয়া সবথেকে কম হয়েছে। আধার সংযুক্তিকরণ প্রক্রিয়ায় অনিয়ম ঠেকাতে গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশ দেওয়া হয়েছে খাদ্যদপ্তরের বৈঠকে। রেশন কার্ডের সঙ্গে কোনও নতুন আধার নম্বর যুক্ত করতে চাইলে বিশেষ সতর্কতা নিতে হবে। খাদ্যদপ্তরের আধিকারিকরা বলছেন, কিছু গ্রাহকের নানা কারণে আধার নম্বর না থাকতে পারে। ই-কেওয়াইসি করতে সমস্যা হতে পারে। তাদের জন্য বিকল্প ব্যবস্থা রয়েছে। কোনও বৈধ গ্রাহক যাতে রেশনের খাদ্যসামগ্রী পাওয়া থেকে বঞ্চিত না হন,তো নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে। তবে অল ইন্ডিয়া ফেয়ার প্রাইস শপ ডিলারস ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক বিশ্বম্ভর বসু জানিয়েছেন, ই-কেওয়াইসি না হওয়ার জন্য বেশ কিছু গ্রাহক খাদ্যসামগ্রী পাওয়ার ক্ষেত্রে সমস্যায় পড়ছেন। বিষয়টি খাদ্যদপ্তরের শীর্ষকর্তাদের জানানো হয়েছে। ই-কেওয়াইসি ছাড়া কোনও গ্রাহককে রেশন দিলে ডিলারদের শাস্তির মুখে পড়তে হচ্ছে।
এদিকে, সারা দেশে রেশন ডিলারদের কমিশন বৃদ্ধি করে কুইন্টাল প্রতি ২০০ টাকা করার জন্য কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামণকে চিঠি দিয়েছেন তৃণমূল কংগ্রেস এমপি সৌগত রায়। কেন্দ্রীয় সরকারের প্রকল্পে খাদ্য সরবরাহ করলেও রাজ্যভিত্তিক কমিশনের টাকা আলাদা হওয়ায় সমস্যা হচ্ছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে চিঠিতে।