সংবাদদাতা, বোলপুর: বিশ্বভারতীতে কর্মীদের জন্য বায়োমেট্রিক উপস্থিতি ব্যবস্থা চালুর প্রস্তুতি শেষ মুহূর্তে স্থগিত করে দিল বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। বৃহস্পতিবার থেকে বিভিন্ন দপ্তরের কর্মীদের বায়োমেট্রিক তথ্য সংগ্রহ শুরু হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু তার কয়েক ঘণ্টা আগেই সেই সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তি প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়েছে। কেন এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হল, তা নিয়ে এখনও বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের তরফে কোনো ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি। ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্দরে ই শুরু হয়েছে জল্পনা। যদিও গোটা বিষয়টি নিয়ে বিশ্বভারতীর ভারপ্রাপ্ত জন সংযোগ আধিকারিক অতিগ ঘোষের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁকে পাওয়া যায়নি।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গিয়েছে, গত বুধবার বিশ্বভারতীর কর্মসচিব বিকাশ মুখোপাধ্যায়ের স্বাক্ষরিত একটি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হয়। সেখানে জানানো হয়েছিল, কর্তৃপক্ষের নির্দেশ অনুযায়ী বায়োমেট্রিক উপস্থিতি ব্যবস্থা চালুর প্রস্তুতি হিসেবে বৃহস্পতিবার থেকে আগামী মঙ্গলবার পর্যন্ত ধাপে ধাপে বিভিন্ন দপ্তরের কর্মীদের বায়োমেট্রিক তথ্য সংগ্রহ করা হবে। কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগার, পরীক্ষা বিভাগ, অ্যাকাউন্টস, রেজিস্ট্রার অফিস, উপাচার্য দপ্তর, ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ সহ একাধিক বিভাগের জন্য নির্দিষ্ট সময়সূচিও প্রকাশ করা হয়েছিল। সেই অনুযায়ী কর্মীদের নির্দিষ্ট দিনে কম্পিউটার সেন্টারে উপস্থিত হয়ে বায়োমেট্রিক তথ্য জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।
তবে ওই বিজ্ঞপ্তি জারির কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই অবস্থান বদল করে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। বুধবার রাতে বিশ্বভারতীর কর্মসচিব ই-মেল করে জানান, পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত এই বিজ্ঞপ্তি স্থগিত রাখা হচ্ছে। ফলে বৃহস্পতিবার থেকে বায়োমেট্রিক তথ্য সংগ্রহের প্রক্রিয়া শুরু হয়নি। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে সরব হয়েছে বিশ্বভারতী ইউনিভার্সিটি ফ্যাকাল্টি অ্যাসোসিয়েশন। সংগঠনের সভাপতি অধ্যাপক তথাগত চৌধুরী বলেন, আমরা রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের আদর্শ মেনে এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কাজ করি। এখানে বায়োমেট্রিকের মতো নিয়ন্ত্রণমূলক ব্যবস্থা বা অযথা বিধিনিষেধের কোনো ঠাঁই নেই।