নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা ও সংবাদদাতা মালদহ: একই স্কুলের দুই শিক্ষক মাধ্যমিকের পৃথক দু’টি পরীক্ষায় অনৈতিক কাজ করতে গিয়ে সাসপেনশনের মুখে পড়লেন। এমনই অভূতপূর্ব নজির গড়েছে মথুরাপুর বিএসএস হাইস্কুল। এর আগে গণিতের শিক্ষক ইতিহাসের উত্তর লিখে এনে পরীক্ষার্থীদের সাহায্য করতে গিয়ে ধরা পড়েন সেই স্কুলে। তিনি সাসপেন্ড হন। আবার একই স্কুলে জীবনবিজ্ঞান পরীক্ষার দিন শৌচাগারে গিয়ে ওই বিষয়েরই শিক্ষককে মোবাইলে প্রশ্নপত্রের ছবি তোলার সময় ধরেন পর্ষদ মনোনীত শিক্ষক তথা ভেন্যু সুপারভাইজার। তাঁকেও সাসপেন্ড করছে পর্ষদ।
বৃহস্পতিবার মাধ্যমিকের অপশনাল ইলেকটিভ বিষয়গুলির পরীক্ষা ছিল।
মাধ্যমিক শেষের সাংবাদিক বৈঠকে পর্ষদ সভাপতি রামানুজ গঙ্গোপাধ্যায় বিএসএস স্কুলের ঘটনাটির কথা জানান। পর্ষদ সূত্রে এও জানা গিয়েছে, এই ঘটনায় অভিযোগ প্রমাণ হলে চাকরি পর্যন্ত যেতে পারে অভিযুক্ত শিক্ষকের। শুধু তাই নয়, ওই স্কুল সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের মোবাইল জমা রাখার রেজিস্টার রেখেছিল কি না, তাও জানতে চাইবে পর্ষদ।
এ নিয়ে অবশ্য স্কুলের প্রধান শিক্ষকের কোনও বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে, স্কুল সূত্রের খবর, এদিন জীবনবিজ্ঞানের পরীক্ষা থাকায় ওই শিক্ষককে পরিদর্শকের ভূমিকায় রাখতে চায়নি কর্তৃপক্ষ। তবে তিনি নিজেই স্কুলে এসে হাজির হন। অনুপস্থিত এক ছাত্রের প্রশ্নপত্র হস্তগত করে তিনি সেটির ছবি তুলতে শৌচাগারে যান। তাঁর গতিবিধি নিয়ে, সেইসময়ই অন্য স্কুল থেকে পরিদর্শনে আসা সেই শিক্ষকের সন্দেহ হওয়ায় তিনি শৌচাগারে গিয়ে তাঁকে হাতেনাতে ধরেন।
এর আগে সহকর্মী শিক্ষককে শাস্তির মুখে পড়তে দেখেও কেন এই শিক্ষকও এমন দুঃসাহসী পদক্ষেপ করলেন, তা ভেবেই অবাক পর্ষদ। ঘটনাটির তদন্ত শুরু হয়েছে। তবে, প্রাথমিক প্রমাণ ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে বলেই জানা গিয়েছে।