নয়াদিল্লি: বুধবার লোকসভায় পাস হয়েছে ‘অনলাইন গেমিং বিল।’ এই বিলের উদ্দেশ্য হল, অনলাইনে গেম খেলে আয়ের ব্যাপারকে পুরোপুরি নিষিদ্ধ করা। এতে নানা সামাজিক সমস্যা তৈরি হচ্ছে বলে মনে করছে কেন্দ্রীয় সরকার। সেই ভাবনা থেকেই এই বিল। মুশকিল হল, এতে খেলাধুলায় স্পনসরশিপের ক্ষেত্রে বিশাল প্রভাব পড়বে। বিশেষ করে ক্রিকেটে। কারণ, ক্রিকেটে স্পনসর হিসেবে বিপুল পরিমাণ অর্থ দেয় গেমিং সংস্থাগুলোই।
এখন ভারতীয় ক্রিকেট দলের টাইটেল স্পনসর ড্রিম ইলেভেন। প্রায় ৩৫৮ কোটি টাকার চুক্তিতে তারা এই স্বত্ব পেয়েছে। ২০২৩ সালের জুলাই থেকে এই চুক্তির মেয়াদ ২০২৬ সালের মার্চ পর্যন্ত। অর্থাৎ, প্রতি বছর ড্রিম ইলেভেন দিচ্ছে প্রায় ১২০ কোটি টাকা। মাই ইলেভেন সার্কেলের সঙ্গেও অনেকটা একই ধরনের চুক্তি রয়েছে বোর্ডের। ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগের (আইপিএল) ফ্যান্টাসি গেমিং রাইটস তারা পাঁচ বছরের জন্য পেয়েছে ৬২৫ কোটি টাকায়। অর্থাৎ, প্রতি বছর তারা দিচ্ছে প্রায় ১২৫ কোটি টাকা। ২০২৪ থেকে এই চুক্তির মেয়াদ ২০২৮ সাল পর্যন্ত।
রাজ্যসভায় বিলটি পাশ হয়ে গেলে বিসিসিআই হারাবে দুটো স্পনসর। শুধু তাই নয়, অনেক প্রাক্তন এবং বর্তমান ক্রিকেটারও এই দুই সংস্থার সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ। এই তালিকায় মহেন্দ্র সিং ধোনি, রোহিত শর্মা, ঋষভ পন্থ, হার্দিক পান্ডিয়া, শ্রেয়স আয়াররা রয়েছেন। ড্রিম ইলেভেনের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ তাঁরা। ফলে ধোনি-রোহিতরাও আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়বেন।
বিসিসিআই অবশ্য আগেও টাইটেল স্পনসর নিয়ে সমস্যায় পড়েছে। ২০১৯ সালে চীনের সঙ্গে সম্পর্কের অবনতির জেরে মাঝপথেই ভেঙে যায় আইপিএলের টাইটেল স্পনসর ভিভোর সঙ্গে চুক্তি। সেই বছরই ভারতীয় ক্রিকেট দলের জার্সি স্পনসর হয় বাইজু। কিন্তু তারা দেউলিয়া হয়ে পড়ায় সেই চুক্তি বাতিল হয়। ক্রিকেট মহল মনে করছে যে, ড্রিম ইলেভেন ও মাই ইলেভেন সার্কেল সরে গেলেও স্পনসরের অভাব হবে না।