নিজস্ব প্রতিনিধি, বরানগর: ভাগাড় তৈরির জমি জট কাটল পানিহাটিতে। জমি হস্তান্তরে রাজি হল বিলকান্দা-১ গ্রাম পঞ্চায়েত। ইতিমধ্যেই তারা চিঠি দিয়ে পানিহাটি পুরসভাকে সম্মতি জানিয়েছে। পানিহাটিও তার উত্তরে সম্মতি চিঠি দিয়েছে। সেই মতো মহিষপোতা মৌজায় পঞ্চায়েতের ১৫ বিঘা জমি পরিষ্কারের কাজও শুরু করা হয়েছে। এরপর আনুষ্ঠানিকভাবে দুই তরফে জমি হস্তান্তর হলেই আধুনিক ভাগাড়ের জন্য প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম বসবে। আগামী ছ’মাসের মধ্যে প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে জঞ্জাল সমস্যার স্থায়ী সমাধান চাইছে পানিহাটি পুরসভা।
স্থানীয়দের আন্দোলনে পানিহাটি পুরসভার নিজস্ব রামচন্দ্রপুর ডাম্পিং গ্রাউন্ড বন্ধ রয়েছে। প্রায় দেড় বছর ধরে আবর্জনা ফেলার স্থায়ী জায়গা না থাকায় শহর জঞ্জালের পাহাড় হচ্ছিল। পাশের খড়দহ বিধানসভার বিলকান্দা-১ গ্রাম পঞ্চায়েতের মহিষপোতা মৌজায় পুরসভার ৪.২১ একর ফাঁকা জমি রয়েছে। ২০১২ সাল থেকে কল্যাণী এক্সপ্রেসওয়ে লাগোয়া ওই জমিতে পুরসভা ডাম্পিং গ্রাউন্ড তৈরির চেষ্টা চালালেও তা স্থানীয়দের বাধায় আটকে রয়েছে। এই অবস্থায় গত ২৪ এপ্রিল নগরোন্নয়ন দপ্তরে মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিমের নেতৃত্বে বৈঠক হয়। সেখানে মন্ত্রী শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়, সাংসদ সৌগত রায়, পার্থ ভৌমিক, স্থানীয় বিধায়ক নির্মল ঘোষ ছাড়াও পুরসভা, পঞ্চায়েত ও পঞ্চায়েত সমিতির প্রতিনিধিরা হাজির ছিলেন। বৈঠকে বের হয় রফাসূত্র। পঞ্চায়েতের তরফে জমি হস্তান্তরের প্রস্তাব দেওয়া হয়। কল্যাণী এক্সপ্রেসওয়ে লাগোয়া গুরুত্বপূর্ণ জমি ভাগাড় না করে পঞ্চায়েতকে দিতে বলা হয়। বিনিময়ে ওই মৌজায় কিছুটা দূরে পঞ্চায়েতের ভাগাড়ের জন্য রাখা জমি পুরসভাকে দেওয়া হবে জানানো হয়। তাতে দুই পক্ষ রাজি হয়। নগরোন্নয়ন ও কেএমডিএর আধিকারিকরা জমি পরিদর্শন ও পছন্দ করে ভাগাড় তৈরিতে সবুজসঙ্কেত দেন। এরপর পঞ্চায়েতের তরফে বিশেষ সভায় সিদ্ধান্ত করে পুরসভাকে চিঠি দেওয়া হয়। বলা হয়, পুরসভা তার ৪.২১ একর জমি পঞ্চায়েতকে সরকারিভাবে হস্তান্তর করলে পঞ্চায়েতও তার ১৫ বিঘা জমি হস্তান্তর করতে প্রস্তুত। পুরসভাও একইভাবে বোর্ড মিটিং করে জমি হস্তান্তরে সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত নেয়। জমি পরিষ্কারের কাজ শুরু হয়েছে।
পানিহাটি পুরসভার চেয়ারম্যান সোমনাথ দে বলেন, সর্বসম্মতির মাধ্যমে আমরা শহরের জঞ্জাল সমস্যার স্থায়ী সমাধানে উদ্যোগী হয়েছি। খুবই দ্রুত কাজ চলছে। ফাইল চিত্র