নিজস্ব প্রতিনিধি, বিধাননগর: আইল্যান্ডে বাইক ঘোরানোর সময় সামান্য বচসা হয়েছিল দু’জনের। বাইকটি কেন গাড়ির সামনে চলে এল, তা নিয়েই গাড়ি চালকের সঙ্গে ঝামেলা বাধে অ্যাপ-বাইক চালকের। তর্ক আর না বাড়িয়ে বাইক চালক সেখান থেকে চলেও গিয়েছিলেন। কিন্তু গাড়ির চালক তখনও রাগে গরগর করছেন। তাই বাইক চালককে ধরার জন্য গাড়ি নিয়ে তাঁর পিছু ধাওয়া করেন তিনি। সেই তাড়া খেয়ে রাস্তার উপরেই মর্মান্তিকভাবে মৃত্যু হল বাইক চালকের! মঙ্গলবার রাতে সল্টলেক শহরের এই ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। ঘটনাস্থল থেকেই অভিযুক্ত গাড়ি চালককে গ্রেপ্তার করেছে বিধাননগর দক্ষিণ থানার পুলিস।
পুলিস জানিয়েছে, মৃতের নাম আয়াজ হোসেন (২১)। বাড়ি কলকাতার কাশীপুরে। তিনি পেশায় একজন অ্যাপ-বাইক চালক ছিলেন। ধৃতের নাম পীযূষ আগরওয়াল। তাঁর বাড়ি সল্টলেকের ই এফ ব্লকে। পারিবারিক ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন তিনি। পুলিস ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, রাত সাড়ে ১২টা নাগাদ এই ঘটনা ঘটে। সল্টলেকের ১২ নম্বর ট্যাঙ্কের সামনের অ্যাইল্যান্ডে পীযূষের দামি গাড়ির সামনে চলে আসেন আয়াজ। তখন আয়াজের বাইকে কোনও যাত্রী ছিলেন না। তিনি একাই ছিলেন। পীযুষের সঙ্গে কথা কাটাকাটির পর আয়াজ সেচ আবাসনের দিক থেকে খালপাড়ের দিকে যেতে শুরু করেন। ওই রাস্তাটি খানাখন্দে ভরা। অভিযোগ, পীযূষ গাড়ি নিয়ে ওই রাস্তা দিয়েই আয়াজের পিছু ধাওয়া করেন। ভয়ে আয়াজও জোরে চালাতে থাকেন। কাস্টমসের আবাসন পেরিয়ে খালপাড়ের রাস্তায় ওঠার মুখে বাইক নিয়ে পড়ে যান আয়াজ। মাথায় হেলমেট থাকলেও গুরুতর আঘাত পান তিনি। সঙ্গে সঙ্গে স্থানীয়রা জড়ো হয়ে যান। বেগতিক বুঝে পীযূষও তাঁকে রাস্তা থেকে তোলার চেষ্টা করেন। ততক্ষণে দুর্ঘটনার খবর পেয়ে হাজির হয়েছে বিধাননগর দক্ষিণ থানার পুলিস। জখম আয়াজকে বিধাননগর মহকুমা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। স্থানীয়রাই গাড়ি চালককে ঘিরে রেখেছিল। পুলিস ঘটনাস্থল থেকে তাঁকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়।
রাতেই আয়াজের পরিবারের সদস্যরা চলে আসেন সল্টলেকে। পরিবারের তরফে লিখিত অভিযোগও দায়ের করা হয়। তার ভিত্তিতে পুলিস পীযূষকে গ্রেপ্তার করে বিএনএসের ১০৬ (১) ধারায় চালকের গাফিলতিতে মৃত্যুর মামলা রুজু করেছে। বুধবার ধৃতকে বিধাননগর মহকুমা আদালতে পেশ করা হলে বিচারক তাঁকে ৬ দিনের জেল হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছেন। ঘটনাস্থল সংলগ্ন এলাকার বাসিন্দারা বলেন, ‘গাড়িটি খুব জোরে তাড়া করেছিল বাইকটিকে। হঠাৎ প্রচণ্ড শব্দ ও চিৎকার শুনে আমরা দৌড়ে আসি। রাস্তার ধারে কয়েকজন বসেছিল। সবাই ঘিরে ধরায় গাড়ির চালক পালাতে পারেননি।’ এক পুলিস আধিকারিক বলেন, ‘পীযূষ গাড়ি নিয়ে বাইক চালককে তাড়া করেছিলেন। তার ফলেই এই দুর্ঘটনা। ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে।’