নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ভিন রাজ্যে বাইক চুরি করে সটান কলকাতায়। বিক্রি হলেই হাতে আসবে মোটা টাকা। ক্রেতার কাছে বাইক আনার খবর পৌঁছে যাওয়ায় অগ্রিম টাকা হাতে চলে আসে তার। ঠিক হয়, ধর্মতলার এক পানশালায় ওই টাকায় বন্ধুদের নিয়ে হবে সেলিব্রেশন। ওই বাইকে চেপেই ধর্মতলার একটি বারে এসে জমিয়ে ফূর্তি করে তারা। বিনা হেলমেটে ফেরার পথে নজরে পড়ে কর্তব্যরত ট্রাফিক পুলিস কর্মীদের। ট্রাফিক বিধি ভেঙে বাইক চালানোর অভিযোগে বাইকচালক ও আরোহীকে আটকায় পুলিস। বাইকের নম্বরপ্লেট যাচাই করতেই উর্দিধারীরা জানতে পারেন, বাইকটি ওড়িশা থেকে চুরি করে আনা হয়েছে। সে কথা স্বীকারও করে মদ্যপ যুবক। পরে তাকে গ্রেপ্তার করে হেয়ার স্ট্রিট থানার পুলিস।
মঙ্গলবার রাতে ওল্ড কোর্ট হাউস স্ট্রিট ক্রসিংয়ে ঘটনাটি ঘটে। এই ক্রসিং কলকাতা পুলিসের হেড কোয়ার্টার ট্রাফিক গার্ডের অন্তর্ভুক্ত। সেখানে তখন ডিউটিতে ছিলেন সার্জেন্ট অতনু আচার্য। তিনি দেখেন, ছাই রঙের একটি বাইকে চেপে দু’জন যুবক আসছে। তাদের কারও মাথায় হেলমেট নেই। পুলিস দেখে গতি বাড়িয়ে পালানোর চেষ্টা করলে কনস্টেবল করুণচন্দ্র মণ্ডলের তৎপরতায় বাইকটিকে পাকড়াও করা সম্ভব হয়। ‘কেন হেলমেট নেই?’— প্রশ্ন করলে প্রসঙ্গ এড়িয়ে অসংলগ্ন কথা বলতে শুরু করে চালক। সেই সময় তার মুখ থেকে মদের গন্ধ পান সার্জেন্ট।
ব্রেথ অ্যানালাইজার দিয়ে পরীক্ষা করলে দেখা যায়, বাইকচালকের শ্বাসে প্রায় ৮০ শতাংশ অ্যালকোহলের উপস্থিতি রয়েছে। জেরাপর্বে সে স্বীকার করে, বাইকটির মালিক নয় সে নয়। সার্জেন্ট বাইকের নম্বরপ্লেট যাচাই করতে গেলে চুরির সূত্র খুঁজে পান। বাইকের প্রকৃত মালিকের সঙ্গে যোগাযোগ করে পুলিস। জানা যায়, ২৫ আগস্ট সেটি চুরি যায়। ওড়িশা পুলিসে এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন বাইকের মালিক। তার ভিত্তিতে মামলা রুজু করে ওড়িশা পুলিস। এরপর ট্রাফিক গার্ডের তরফে হেয়ার স্ট্রিট থানায় যোগাযোগ করা হয়। ঘটনাস্থলে আসে থানার পুলিস। গ্রেপ্তার করা হয় অভিযুক্ত যুবককে। বাইকটি বাজেয়াপ্ত করে ওড়িশা পুলিসের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে কলকাতা পুলিস। আদালতের নির্দেশ দিলে চুরি যাওয়া বাইকটি তুলে দেওয়া হবে মালিকের হাতে।