সংবাদদাতা, শিলিগুড়ি: দোলে রঙিন হল শিলিগুড়ি। পলাশের রং যেন আছড়ে পড়ল শহরের আনাচে কানাচে। আবিরের রংয়ে রাঙা হয়ে উঠল পথ। তাতে মিশল হলুদ-সবুজ আরও কত রং। পাড়ায় পাড়ায় এই উত্সবের ভিড়ে মিশে গেল সাত থেকে সত্তর। মোটের উপর শিলিগুড়িতে শান্তিতে মিটল দোল উত্সব। যদিও বাইক বাহিনীর তাণ্ডব ছিল চোখে পড়ার মতো। চলে দেদার বেলেল্লাপনা। অশান্তি পাকানো এবং মদ্যপ অবস্থায় শুক্রবার ও শনিবার, দুদিনে পুলিসের হাতে গ্রেপ্তার প্রায় ২৫০জন। শুক্রবার ভক্তিনগর থানার অন্তর্গত একটি এলাকায় এক কিশোরীকে যৌন নির্যাতনের অভিযোগে দুই ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিস। এদিকে, সীমান্তে দোলে শামিল হন বিএসএফ জওয়ানরাও।
শুক্রবার সকাল থেকে উত্সব মুখর হয়ে ওঠে শহর শিলিগুড়ি। পাড়ায়-পাড়ায় বড় মাঠে বিভিন্ন ক্লাব ও সংগঠন বসন্ত উৎসবের আয়োজন করে। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত শহরজুড়ে বসন্ত উৎসবে উপস্থিত থেকেছেন শহরের মেয়র গৌতম দেব। সকলের সঙ্গে মিলে আবির মেখেছেন, গান গেয়েছেন। রঙের উৎসবে মাতেন তৃণমূল জেলা সভানেত্রী পাপিয়া ঘোষ, মহকুমা পরিষদের সভাধিপতি অরুণ ঘোষও। উত্সবে শিলিগুড়ির বিজেপি বিধায়ক শঙ্কর ঘোষ, আনন্দময় বর্মন হাজিন হন।
শিলিগুড়ির সূর্যনগর ফ্রেন্ডস ইউনিয়ন, ওয়াইএমএ, কলেজপাড়া, বাঘা যতীন পার্ক, বসুন্ধরা সর্বত্র বসন্ত উৎসবের আসর বসে। শনিবারও রঙ খেলা উপলক্ষ্যে সকাল থেকে পিচকারি হাতে ছোটদের নেমে যেতে দেখা যায়। তবে এদিন, দোকানপাট শহরের সেভাবে খোলেনি।
কিন্তু শান্তিতে দোল উৎসব কাটলেও শহরবাসীর আতঙ্কের কারণ হয়ে উঠেছিল যুবক-যুবতীদের বাইক, স্কুটার নিয়ে দাপাদাপি। শুক্রবার কার্যত রাত পর্যন্ত পাড়া থেকে শহরের বড় রাস্তা দিয়ে দলে দলে যুবক-যুবতীরা বেপরোয়া গতিতে বাইক, স্কুটার নিয়ে দাপিয়ে বেড়িয়েছে। দুর্ঘটনাগ্রস্ত হয়েছে অনেকে। তবে শহরের কোথাও কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি বলে জানিয়েছেন শিলিগুড়ি মেট্রোপলিটন পুলিসের ডিসিপি (পূর্ব) রাকেশ সিং। তিনি বলেন, শান্তিপূর্ণভাবে দোল উৎসব কেটেছে। শুক্র ও শনিবার দু’দিন শহরজুড়ে পর্যাপ্ত পুলিস মোতায়েন ছিল। মদ্যপান সহ ছোটখাটো নানা অভিযোগে ২৫০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পরে তাদেরকে ব্যক্তিগত মুচলেকায় ছেড়ে দেওয়া হয়।এদিকে, ময়নাগুড়িতেও হুজ্জুতির অভিযোগে ২৯ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে ময়নাগুড়ি থানার আইসি সুবল ঘোষ জানিয়েছেন।