নিজস্ব প্রতিনিধি, বরানগর: পানিহাটির পিয়ারলেস নগর আবাসন গেরুয়া শিবিরের শক্ত ঘাঁটি। সেই আবাসনের ভোটে বাইক বাহিনীর দাপাদাপি, মনোনয়ন পত্র জমা দিতে বাধা দেওয়া ও মারধরের অভিযোগ উঠল। ভয়ে মনোনয়নপত্র জমা দিতে পারলেন না অনেকেই। পুলিশের সামনে ঘটা এই সব এই ঘটনায় অভিযুক্ত আবাসনেরই এক বাসিন্দা তথা বিশ্বহিন্দু পরিষদের এক পদাধিকারী। যা নিয়ে পানিহাটি জুড়ে আলোড়ন শুরু হয়েছে। শেষ পর্যন্ত উচ্চ আদালত নিযুক্ত স্পেশাল অফিসার হাইকোর্ট বার লাইব্রেরি ক্লাবে নতুন করে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া, স্ক্রুটিনি ও মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের দিন স্থির করেছেন।
পানিহাটি ট্রাফিক মোড় লাগোয়া বিটি রোডের উপর পিয়ারলেস নগর আবাসনে ১১০টি টাওয়ারে ১,৮৮০টি ফ্ল্যাট রয়েছে। গত বিধানসভা ভোটে আবাসনের তিনটি বুথ থেকে বিজেপি প্রায় ৬২৪ ভোটের লিড পেয়েছিল। পিয়ারলেস নগর অ্যাপার্টমেন্ট ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের নির্বাচন হয় প্রতি তিন বছর অন্তর। এবার ভোট নিয়ে বিতর্ক হাইকোর্ট পর্যন্ত গড়ায়। হাইকোর্টের নির্দেশে স্পেশাল অফিসার নিয়োগ করে ভোট প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। অ্যাসোসিয়েশনের নিয়ম অনুযায়ী প্রতিটি ফ্ল্যাটের একজন করে ভোটার হলেও, একাধিক কারণে এবার মোট ভোটার প্রায় ১৬০০। মোট আসন ৪৮টি। গত ২৩ ও ২৪ অক্টোবর মোট ১১৫টি মনোনয়নপত্র তোলা হয়েছিল। এরপর পূর্বতন বোর্ডের সদস্যদের ভোট থেকে সরে যাওয়ার হুমকি দেওয়া শুরু হয় বলে অভিযোগ। আবাসিকদের আরও দাবি, রাতে বিজেপির পতাকা নিয়ে বাইক বাহিনী তাণ্ডব চালায়। ২৭ তারিখ তা চরম আকার ধারন করে। অভিযোগ, মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার দিন শতাধিক বহিরাগত আবসনে ঢুকে পুলিশের সামনে মনোনয়নে বাধা দেয় ও মারধর করে আবাসিকদের।
হাইকোর্ট নিযুক্ত স্পেশাল অফিসার শুভাশিষ সেনগুপ্ত রিপোর্টে বলেছেন, শম্ভু কুণ্ডু নামের এক ব্যক্তির নেতৃত্বে বহিরাগতরা এসে মনোনয়পত্র জমা দিতে বাধা দেয়। এই পরিস্থিতিতে মনোনয়নপত্র জমা দিতে না পারা ১৩ জন ই-মেলে ও হোয়াটসঅ্যাপে মনোনয়নপত্র পাঠিয়েছেন। কিন্তু এইভাবে মনোনয়নপত্র জমা নেওয়া যায় না। তাই আগামী ৩০ অক্টোবর তাঁরা বার লাইব্রেরি ক্লাবে সশরীরে বা প্রতিনিধি পাঠিয়ে মনোনয়নপত্র জমা দিতে পারবেন। এছাড়া মনোনয়নপত্রের স্ক্রুটিনি ও প্রত্যাহারের কাজও হবে বার লাইব্রেরি ক্লাবে। বহিরাগত এনে মনোনয়নে বাধা ও হামলা চালানোর অভিযোগ ওঠা ওই আবাসনের বাসিন্দা তথা বিশ্বহিন্দু পরিষদের ধর্মপ্রচার বিভাগের সহ প্রমুখ (দক্ষিণবঙ্গ) শম্ভু কুণ্ডু বলেন, ভিত্তিহীন অভিযোগ। ওই স্পেশাল অফিসার পক্ষপাতদুষ্ট। পূর্বতন কমিটি প্রচুর দুর্নীতি করেছে। ওদের কমিটি ছেড়ে চলে যাওয়া উচিত। বিধায়কের বাড়িতে বৈঠকে স্থির হয়েছে, পূর্বতন কমিটির ১৫ জন ও নতুন ৩৩ জনকে নিয়ে বোর্ড গঠন হবে। অ্যাসোসিয়েশনের সম্পাদক তথা প্রাক্তন বায়ুসেনা কর্মী সৌমেন চৌধুরি বলেন, ২০০৭ সাল থেকে এখানে রয়েছি। এমন পরিস্থিতি প্রথম দেখলাম। মাত্র ৬৫ পয়সা প্রতি স্কোয়ারফুটে মেইন্টেনেন্স নিয়ে স্বেচ্ছাশ্রমে আমরা কাজ করি। বিধায়কের বাড়িতে আমাদের যে প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে, তাতে আমরা এখনও কোনও সিদ্ধান্ত নিতে পারিনি। বিধায়কের স্বামী শেখররঞ্জন দেবনাথ বলেন, আদালতের নির্দেশে নির্বাচন হচ্ছে। আমার কিছু বলার নেই।’



