নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত: বুধবার দুপুরে যশোর রোড ও ১২ নম্বর জাতীয় সড়কে একাধিক বাইককে ধাক্কা মারে একটি কন্টেনার। এর মধ্যে একটি বাইক আটকে যায় কন্টেনারের চাকায়। ধাক্কা ও ঘর্ষণের অভিঘাতে ওই বাইকে আগুন ধরে যায়। সেই আগুন ছড়িয়ে পড়ে কন্টেনারেও। দাউদাউ করে জ্বলে ওঠে পণ্যবাহী ওই যান। শেষমেশ দমকলের দু’টি ইঞ্জিন এসে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। কন্টেনারের চালককে গ্রেপ্তার করেছে বারাসত থানার পুলিস। চালকের নাম লালবাবু শেখ। তার বাড়ি বর্ধমানে। এই ঘটনায় আরও দু’টি বাইক ক্ষতিগ্রস্ত হলেও কারও আঘাত লাগেনি।
পুলিস ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, এদিন বিকেল ৩টে নাগাদ মধ্যমগ্রাম থেকে একটি খালি কন্টেনার যশোর রোড ধরে দ্রুতগতিতে বারাসতের দিকে আসছিল। হৃদয়পুর মোড়ের কাছে আসতেই কন্টেনারটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তার ধারে দাঁড়িয়ে থাকা পরপর তিনটি বাইকে ধাক্কা মারে। এর মধ্যে একটি বাইক আটকে যায় কন্টেনারের চাকায়। ওই অবস্থায় বাইক নিয়ে ঘষতে ঘষতে প্রায় ১১ নম্বর রেলগেট পর্যন্ত চলে আসে পণ্যবাহী যানটি। এরপরই বাইকে আগুন ধরে যায়। সেই আগুন ছড়িয়ে পড়ে কন্টেনারেও। পথচারীরা চিৎকার করে উঠলে পরিস্থিতি বেগতিক বুঝে চালক গাড়ির গতি আরও বাড়িয়ে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। বারাসত কলেজ, কলোনি মোড় হয়ে হেলাবটতলা মোড় সংলগ্ন একটি সিনেমা হলের সামনে এসে দাঁড়ায় কন্টেনারটি। জাতীয় সড়কের উপরেই দাউদাউ করে জ্বলতে থাকে কন্টেনার ও বাইক। চারদিক কালো ধোঁয়ায় ভরে যায়। ঘটনাস্থলের সামনেই ছিল দু’টি পেট্রল পাম্প। ফলে, বড়সড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারত। বারাসত থানার পুলিস ও ট্রাফিক পুলিসের কর্তারা সঙ্গে সঙ্গে ঘটনাস্থলে আসেন। চলে আসে দমকলের দু’টি ইঞ্জিনও। দমকলের কর্মীরা প্রায় একঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। এর জেরে ১২ নম্বর জাতীয় সড়কে বেশ কিছুক্ষণ যান চলাচল ব্যাহত হয়।
প্রত্যক্ষদর্শী বিভাস মালাকার, অনির্বাণ মোদক বলেন, ওই কন্টেনারের গতি বেশি ছিল। সেটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পরপর তিনটি বাইকে ধাক্কা মারে। এরপর চাকায় আটকে যাওয়া একটি বাইককে প্রায় দুই কিলোমিটার টেনে নিয়ে যায়। বারাসতের ডিএসপি ট্রাফিক নীহাররঞ্জন রায় বলেন, এদিন হৃদয়পুর মোড়ে ঘটনাটি ঘটে। দু’টি বাইকের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। তৃতীয় বাইকটি কন্টেনারের চাকায় আটকে যায় এবং তাতে আগুন ধরে যায়। শেষমেশ ওই অবস্থায় চালক কন্টেনার নিয়ে হেলাবটতলা মোড়ের কাছে চলে আসে। কোনও হতাহতের খবর নেই।