নিজস্ব প্রতিনিধি, আসানসোল: প্রথম থেকেই কিছুটা ব্যতিক্রমী জামুড়িয়ায় পরিচিত গাইনোকোলজিস্ট বিজন মুখোপাধ্যায়। বিজেপি প্রার্থী হয়েই ছুটে এসেছিলেন বিদ্রোহী কবি নজরুল ইসলামের জন্মভিটে চুরুলিয়ায়। সাম্যর কবির গলায় মালা দিয়েই শুরু করেছিলেন রাজনৈতিক প্রচার। সংখ্যালঘু এলাকা থেকে প্রচার শুরু করায় বহু কটাক্ষও শুনতে হয়েছে তাঁকে। তবু মুখের হাসি মিলিয়ে যায়নি। শাসক দলের দাপুটে শ্রমিক নেতা হরেরাম সিংকে হারিয়ে বিধায়ক হয়েছেন তিনি। এবার সেই চুরুলিয়া থেকেই নিজের উন্নয়ন কাজের সূচনা করতে চান তিনি। শিল্পাঞ্চলের প্রত্যন্ত এলাকা চুরুলিয়ায় ১০ শয্যার একটি হাসপাতাল চালু করতে চলেছেন তিনি। পুরানো স্বাস্থ্য কেন্দ্রেই ১০ শয্যার ইন্ডোর স্বাস্থ্য পরিষেবা চালু হবে। শুধু চুরুলিয়া নয়, জামুড়িয়ার সামগ্রিক স্বাস্থ্য পরিকাঠামো উন্নয়নের ভাবনা রয়েছে বিধায়কের।
জামুড়িয়ার আখলপুরে হাসপাতাল রয়েছে। বিগত পাঁচ বছরে এই হাসপাতালের পরিকাঠামোর উন্নয়ন হয়েছে। ৩০ শয্যার হাসপাতাল হয়েছে। কিন্তু, পর্যাপ্ত চিকিৎসক, স্বাস্থ্যকর্মী নার্স না থাকায় মানুষ স্বাস্থ্য পরিষেবা নিয়ে খুশি ছিলেন না। জনবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়া বেশিরভাগ তৃণমূল নেতাই তা উপলব্দি করতে পারেননি। কিন্তু, ভোট প্রচারে অনাড়ম্বরভাবে গ্রামে ঘোরা ডাক্তারবাবু ধরে নিয়েছিলেন মানুষের অসন্তোষ। তিনি প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, চিকিৎসক হিসাবে তিনি চেষ্টা করবেন। এবার সেই প্রতিশ্রুতি পূরণেও তৎপর হয়েছেন তিনি।
জামুড়িয়া বিধানসভার মধ্যে রয়েছে বাহাদুরপুর গ্রামীণ হাসপাতাল। সেখানের স্বাস্থ্য পরিষেবাও তথৈইবচ। বিশাল এলাকাজুড়ে হাসপাতালটি থাকলেও পরিকাঠামো উন্নয়ন হয়নি। জামুড়িয়া ব্লকের মূল হাসপাতালের এই পরিষেবা নিয়েও মানুষের মধ্যে ক্ষোভ জন্মেছিল। জামুড়িয়ায় রয়েছে বৃহৎ শিল্পতালুক। কোটি কোটি টাকার রাজস্ব আদায় হয় অথচ সেই এলাকারই পরিকাঠামো উন্নয়ন হয়নি। শ্রমিকদের ছোটো দুর্ঘটনা হলেও তাঁকে নিয়ে যেতে হয় আসানসোল বা দুর্গাপুরে। স্থানীয় বাসিন্দাদের ক্ষেত্রেও একই অবস্থা। এই পরিস্থিতিতে জামুড়িয়ায় একজন চিকিৎসক বিধায়ক হওয়ায় মানুষের প্রত্যাশা বেড়েছে। তাঁরা স্বপ্ন দেখছেন, চিকিৎসার জন্য কথায় কথায় আসানসোল, দুর্গাপুর ছুটতে হবে না। সদ্য রাজ্য সরকারের বিধায়ক প্রতিনিধি স্বাস্থ্যদপ্তরের শীর্ষ কর্তাদের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করেছেন। সেখানে একেবারে সামনের সারিতে দেখা গিয়েছে জামুড়িয়ার বিধায়ক বিজন মুখোপাধ্যায়কে। তাতে মানুষের প্রত্যাশার পারদ আরও বেড়েছে।
বিজনবাবু বলেন, আমি ইতিমধ্যেই একাধিক প্রস্তাব নিয়ে অগ্রসর হয়েছি। তার মধ্যে চুরুলিয়ায় ১০ শয্যার হাসপাতালে চালু হওয়া প্রায় চূড়ান্ত হয়ে গিয়েছে। আখলপুর ও বাহাদুরপুর হাসপাতালের উন্নয়ন পরিকল্পনাও করে নিয়েছি। শুধু পরিকাঠামো করলে হবে না। পর্যাপ্ত চিকিৎসক, নার্সদের নিযুক্ত করতে হবে। তিনি আরও বলেন, আমি পরিকল্পনা করেছি আমার বিধানসভা এলাকার প্রত্যন্ত এলাকাগুলিতে স্বাস্থ্য শিবির আয়োজন করে বিনামূল্যে চিকিৎসা করব।