


সংবাদদাতা, কান্দি: এবার বাঙালিদের চোর অপবাদ দিয়ে হেনস্তার অভিযোগ বিহার পুলিশের বিরুদ্ধে। জেলার ছয় ফেরিওয়ালাকে থানায় আটকে রাখার অভিযোগ। শনিবার বাড়ি ফিরেই তাঁরা এই ঘটনার প্রতিবাদে সরব হয়েছেন। হেনস্তার হাত থেকে বাঁচতে রাজ্য সরকারের হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন।
প্রসঙ্গত, জেলা থেকে বহুবছর ধরে অসংখ্য ফেরিওয়ালা বিহারে ব্যবসা করছেন। অধিকাংশই সেখানে মহিলাদের ঝরা চুলের বদলে বাসনপত্র কিংবা নগদ টাকা দিয়ে থাকেন। অভিযোগ, গত ২৪ ফেব্রয়ারি রাতে বিহারের জাহানাবাদে চুরির অপবাদ দিয়ে জেলার ছয় ফেরিওয়ালাকে বিহার পুলিশ হেনস্তা করে। তাঁদের প্রায় ১৮ ঘণ্টা থানায় বসিয়ে রাখা হয়। ছাড়া পেয়ে তাঁরা শনিবার বিহার থেকে বাড়ি ফিরে আসেন। ওই ছয় ফেরিওয়ালা হলেন জেলার সামশেরগঞ্জ থানার তারিকুল শেখ ও মিন্টু শেখ, রেজিনগর থানার সাইদুল শেখ, শক্তিপুর থানার জিতলাল শেখ ও ভরতপুর থানার বাগানপাড়ার সামিম শেখ ও মকসুদ আনসারি।
ওই ছয় ফেরিওয়ালার সূত্রে জানা গিয়েছে, বহু বছর ধরেই তাঁরা জাহানাবাদে ব্যবসা করছেন। সেখানে চুল ছাড়াও ভাঙাচোরা মোবাইলও কেনেন। এই গণ্ডগোলের সূত্রপাত একটি ভাঙা মোবাইল কেনা নিয়ে। সামশেরগঞ্জের তারিকুল একটি পুরনো মোবাইল কেনার পর সেটি ব্যবহার করছিলেন। তখনই জানা যায়, সেটি চুরির মোবাইল। এরপর ঘটে যত বিপত্তি। তারিকুল জানান, এটি চুরির মোবাইল কি না, আমিও জানতাম না। কিন্তু পুলিশ মোবাইল চুরির অভিযোগ পাওয়ার পর টাওয়ার লোকেশন ট্র্যাক করে ২৪ তারিখ রাতে আমাদের ভাড়া বাড়িতে হানা দেয়। প্রথমে দুইজনকে ও পরে আরও চারজনকে থানায় ধরে নিয়ে যায়। সেখানে আমাদের চরম হেনস্তা করা হয়। আমাদের চোর অপবাদ দেওয়া হয়। প্রায় ১৮ ঘণ্টা পর জেলার শক্তিপুর গ্রামে মিয়া গ্রামের যুবক আশরাফুল মিঁয়া আমাদের থানা থেকে ছাড়িয়ে আনেন।
ভরতপুরের মকসুদ আনসারি বলেন, শুধু আমাদের থানায় নিয়ে যাওয়া হয়েছিল তাই নয়, পুলিশ আমাদের চোর সাজিয়ে আদালতে পাঠানোর ব্যবস্থাও করেছিল। আমাদের কয়েক লক্ষ টাকার ভাঙাচোরা সামগ্রীও থানায় উঠিয়ে নিয়ে গিয়েছিল। আমার প্রশ্ন, শুধু বাঙালি বলেই কি আমাদের উপর এই অত্যাচার? আশরাফুল বলেন, ফেরিওয়ালাদের বিপদের কথা জানতে পেরেই বিহার পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করি। ওঁদের প্রমাণ দিতে হয় যে, এঁরা কেউ চোর নয়। রাজ্য সরকারের কাছে এই ঘটনায় হস্তক্ষেপের দাবি জানানো হচ্ছে। বাঙালিদের এভাবে চোর অপবাদ দেওয়া কোনোমতে মেনে নিতে পারছি না। বিহারে চোর অপবাদে পুলিশি হেনস্থা। বাড়ি ফিরলেন ভরতপুরের দুই যুবক। -নিজস্ব চিত্র