সংবাদদাতা, আলিপুরদুয়ার: বন্যপ্রাণী হত্যা ও দেহাংশ পাচার রোধে জলদাপাড়া জাতীয় উদ্যান কর্তৃপক্ষের উল্লেখযোগ্য সাফল্য। প্যাঙ্গোলিনের আঁশ ও চামড়া পাচারের অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত ভুটানের এক নাগরিককে শুক্রবার তিন বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিল আলিপুরদুয়ার জেলা আদালত। আদালত সাজাপ্রাপ্ত ভুটানের ওই নাগরিককে ২৫ হাজার টাকাও জরিমানা করেছে।
বনদপ্তর জানিয়েছে, ভুটানের ওই ব্যক্তির নাম দেওবাহাদুর লিম্বু ওরফে গোবর্ধন। বাড়ি ভুটানের সামসি জেলার গোমটু ব্লকের কালাপানিতে। চলতি বছরের মার্চ মাসে কালচিনির পশ্চিম সাঁতালি গ্রামে অসমগামী ৩১সি জাতীয় সড়ক থেকে ভুটানের ওই ব্যক্তিকে গ্রেফতার করে বনদপ্তর। ধৃতের কাছ থেকে বনদপ্তর ২ কেজি ২৩৪ গ্রাম প্যাঙ্গোলিনের আঁশ ও প্যাঙ্গোলিনের চামড়া বাজেয়াপ্ত করে।
ভুটানের ওই নাগরিকের বন্যপ্রাণীর দেহাংশ পাচারে যুক্ত থাকার কথা বনদপ্তরের কাছে আগে থেকেই ছিল। সেই মতো জলদাপাড়া জাতীয় উদ্যানের পশ্চিমের রেঞ্জার অয়ন চক্রবর্তীর নেতৃত্বে ওই ব্যক্তিকে ধরতে বনদপ্তর একটি টিম তৈরি করে। ধারাবাহিক নজরদারি ও গোয়েন্দা তথ্য আদানপ্রদানের মাধ্যমে অবশেষে মার্চ মাসে সাফল্য মেলে। বনদপ্তরের কাছে খবর আসে প্যাঙ্গোলিনের আঁশ ও চামড়া বিক্রি করতে আলিপুরদুয়ারে আসবে ভুটানের ওই ব্যক্তি। সেই মতো অয়নবাবুর নেতৃত্বে বিশেষ টিম ফাঁদ পেতে পশ্চিম সাঁতালিতে জাতীয় সড়কে ভুটানের ওই নাগরিককে প্যাঙ্গোলির দেহাংশ সহ গ্রেপ্তার করে।
ধৃতের বিরুদ্ধে ১৯৭২ সালের বন্যপ্রাণী আইনে মামলা রজু করে বনদপ্তর। মামলার শুনানি শেষে মাত্র ছ’মাসের মধ্যেই আদালত অভিযুক্ত ব্যক্তিকে এই সাজা দিল বলে জানিয়েছে জলদাপাড়া কর্তৃপক্ষ। বনদপ্তর জানিয়েছে, বাজেয়াপ্ত আঁশ ছিল ৩-৪টি মৃত প্যাঙ্গোলিনের। জলদাপাড়া জাতীয় উদ্যানের ডিএফও প্রবীণ কাসোয়ান বলেন, বন্যপ্রাণী হত্যা বা দেহাংশ পাচারের দ্রুততম সাজাগুলির মধ্যে ছিল এই মামলাটি। আদালতের শুক্রবারের রায়ে আশা করি বন্যপ্রাণী হত্যা বা বন্যপ্রাণীর দেহাংশ পাচারের আগে দুষ্কৃতীরা দশবার ভাববে।