Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / খেলা

ভারতকে স্বপ্ন দেখাচ্ছেন স্পিনাররা

ভারতকে স্বপ্ন দেখাচ্ছেন স্পিনাররা
  • ৩ নভেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
মুম্বই: প্রথম দিনে ১৪ উইকেট, দ্বিতীয় দিনে ১৫। দু’দিনে ২৯ উইকেট পড়া ওয়াংখেড়েকে মনে হচ্ছে স্পিনের স্বর্গরাজ্য। আর সেজন্যই তৃতীয় টেস্ট দাঁড়িয়ে রয়েছে রোমাঞ্চকর বাঁকে। আপাতত ১৪৩ রানে এগিয়ে নিউজিল্যান্ড। হাতে মাত্র এক উইকেট। ভারত অবশ্যই চাইবে যত দ্রুত সম্ভব সফরকারী দলের ইনিংসে দাঁড়ি টানতে। কিন্তু বল একহাত করে ঘুরতে থাকা পিচে দেড়শো রানের টার্গেটও সহজ নয়। ফলে ঘরের মাঠে ০-৩ হোয়াইটওয়াশের আশঙ্কা থাকছে। রোহিত শর্মার দল অবশ্য সিরিজ ১-২ করতে মরিয়া। তার জন্য অবশ্য রবিবার সকালে ব্যাট হাতে উড়নচণ্ডী হলে চলবে না। আগ্রাসনের সঙ্গে দরকার সতর্কতাও। 
Advertisement
এই পিচে জুটি ভাঙা মানে দ্রুত আরও কয়েকটি উইকেট খোয়ানো। শনিবার সকালে যেমন শুভমান গিল ও ঋষভ পন্থের পার্টনারশিপ বড় লিডের স্বপ্ন দেখাচ্ছিল। দু’জনেই অবশ্য জীবন পেয়েছিলেন। মাত্র ৩৬ বলে পঞ্চাশে পৌঁছেন পন্থ। যখন মনে হচ্ছে ক্যাচ ফেলার জন্য কড়া মাসুল গুনতে হবে কিউয়িদের, তখনই তিনি আউট। সঙ্গে সঙ্গে পাল্টে গেল সমীকরণ। প্রবলভাবে লড়াইয়ে ফিরল ব্ল্যাক ক্যাপসরা। গিল একটা দিক ধরে রেখে শতরানের সম্ভাবনা জাগালেও অন্যপ্রান্তে শুধু আয়ারাম গয়ারাম পর্ব। এর জন্য ব্যাটিং অর্ডারে ঘনঘন পরিবর্তনও অনেকাংশে দায়ী। বেঙ্গালুরু টেস্টে যে সরফরাজ খান চার নম্বরে নেমে দুরন্ত সেঞ্চুরি হাঁকিয়েছিলেন, নিজের শহরে তিনি নামলেন আটে। এবং ব্যাট হাতে কেমন যেন দিশাহারাই দেখাল তাঁকে।
মুম্বই শহরে জন্মানো আজাজ প্যাটেল তিন বছর আগে ওয়াংখেড়েতে ইনিংসে দশ উইকেটের নজির গড়েছিলেন। আরব সাগরের পাড়ে টেস্ট কেরিয়ারে দ্বিতীয়বার পাঁচ উইকেট পকেটে পুরলেন তিনি। একসময় মনে হচ্ছিল, লিড হয়তো পাবেই না টিম ইন্ডিয়া। শেষপর্বে ওয়াশিংটন সুন্দরের ধুমধাড়াক্কার সৌজন্যে তা অবশ্য সম্ভব হয়েছে। মূল্যবান ২৮ রানের লিড পেয়েছে ভারত। 
নিউজিল্যান্ডের দ্বিতীয় ইনিংসে প্রথম ধাক্কাটা দেন আকাশ দীপ। কিউয়ি অধিনায়ক টম লাথামকে বোল্ড করেন তিনি। এরপর পুরোটাই ঘূর্ণির ভেলকি। ডেভন কনওয়ে ফিরলেন সুন্দরের বুদ্ধিদীপ্ত স্পিনে। রাচীন রবীন্দ্র ক্রিজ ছেড়ে বেরিয়ে হদিশই পেলেন না অশ্বিনের ফ্লাইটের। দিনের অন্তিম লগ্নে দুটো ম্যাজিক ডেলিভারিও করলেন অ্যাশ। স্বপ্নের ক্যারম বলে ছিটকে দিলেন গ্লেন ফিলিপসের স্টাম্প। এরপর সেট ব্যাটসম্যান উইল ইয়ংকেও ফেরালেন দুরন্ত ক্যারম বলেই। ফিরতি ক্যাচ লুফলেন নিজেই। তবে তার আগেই তিনি হয়ে গিয়েছিলেন ম্যাচের সেরা ক্যাচের দাবিদার। জাদেজার বলে তুলে মেরেছিলেন ড্যারিল মিচেল। লং অন থেকে পিছনে প্রায় ১৯ মিটার দৌড়ে ঝাঁপিয়ে ক্যাচ তালুবন্দি করেন অশ্বিন। প্রথম ইনিংসে কোনও উইকেট না পাওয়া তারকা স্বমহিমায় ফিরলেন ওই দুরন্ত ক্যাচের পরেই। অন্যপ্রান্তে জাদেজা যথারীতি ভয়ঙ্কর মূর্তিতে চেপে ধরলেন প্রতিপক্ষকে। অশ্বিন-জাদেজা জুটিতে আসা সাত উইকেটই কিউয়ি ইনিংসে ভাঙন ধরাল। 
তাতে অবশ্য জয়ের নিশ্চয়তা নেই। চতুর্থ ইনিংসে রান তাড়া করা কঠিন চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠবে। এই পিচে কোন বল বেমক্কা ঘুরবে, কোনটা লাফাবে কিংবা গড়িয়ে আসবে, বোঝা দায়। তাই টিকে থাকার পাশাপাশি দ্রুত রান তোলাও জরুরি। সেজন্যই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে রোহিত, বিরাটের অভিজ্ঞতা। স্পিনাররা নিজেদের দায়িত্ব পালন করেছেন, এবার দুই মহাতারকার পালা। কিন্তু তাঁদের ফর্মের যা দশা, তাতে ভরসা কোথায়!
সম্পর্কিত সংবাদ