Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

ভারী যান চলাচলে নিষিদ্ধ রাস্তায় চলছে  ৪০-৫০ টনের পাথরবোঝাই ডাম্পার

ভারী যান চলাচলে নিষিদ্ধ রাস্তায় চলছে  ৪০-৫০ টনের পাথরবোঝাই ডাম্পার
  • ১৫ জানুয়ারি, ২০২৫ ০০:০০
পিনাকী ধোলে, পুরুলিয়া: কাশীপুরের সোনাথলি থেকে তালাজুড়ি পর্যন্ত রাস্তায় ১০টনের বেশি ভারী যান কি চলতে পারে? গত সেপ্টেম্বরে এবিষয়ে জানতে তথ্য জানার আইনে আবেদন করেন তালাজুড়ির বাসিন্দা অমিতাভ ধীবর। গত ১০জানুয়ারি তার জবাব দিয়েছে ডব্লুবিএসআরডিএ(ওয়েস্ট বেঙ্গল রুরাল ডেভেলপমেন্ট এজেন্সি)। জানানো হয়, ওই রাস্তা দিয়ে ১০টনের বেশি ভারী যান চলাচল সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ। তারপরেও কীভাবে ওই রাস্তা দিয়ে ঘনঘন ভারী যান চলাচল করছে? সবকিছু জেনেও কিসের স্বার্থে এব্যাপারে মদত দিচ্ছেন প্রশাসনের আধিকারিকরা? রবিবার সোনাথলি-তালাজুড়ি রাস্তার রাঙ্গনিগোড়ায় পাথর খাদানের ডাম্পরের ধাক্কায় চিটা রঘুনাথপুর গ্রামের বাসিন্দা নির্মল মণ্ডলের(৪২)মর্মান্তিক মৃত্যু হয়। গুরুতর জখম হন তাঁর গর্ভবতী স্ত্রী মঞ্জু মণ্ডল(৩৭)। বর্তমানে তিনি বাঁকুড়ার একটি নার্সিংহোমে ভর্তি। পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, মঞ্জুদেবীর কোমরে ও পায়ে মারাত্মক চোট রয়েছে। মঙ্গলবার বহু সাবধানতা অবলম্বন করে মঞ্জুদেবীর কোমর ও পায়ের এক্স-রে করা হয়। কোমর ও পায়ের সংযোগস্থলের হাড় প্রায় চার পাঁচ টুকরো হয়ে গিয়েছে। মঙ্গলবার তার অপারেশন হওয়ার কথা। গর্ভের সন্তানের অবস্থা আপাতত স্থিতিশীল বলে চিকিত্সকরা জানিয়েছেন। 
Advertisement
ওই দুর্ঘটনার পর ক্র্যাশারে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয়। ঘটনায় রবিবারই আটজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিস। তারপর থেকে প্রতিদিন রাত হলেই পাহাড়পুর সংলগ্ন গ্রামগুলিতে হানা দিতে শুরু করেছে পুলিস। পুলিসি গ্রেপ্তারির ভয়ে বহু গ্রাম কার্যত পুরুষশূন্য হয়ে পড়েছে। বাসিন্দাদের পাল্টা অভিযোগ, কালীপুজোর রাতে কাশীপুর থানায় হামলার ঘটনায় অভিযুক্ত প্রভাবশালীদের আজও গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিস। অথচ এই ঘটনায় বাসিন্দাদের অহেতুক হেনস্তা করা হচ্ছে! যে রাস্তা দিতে ১০টনের বেশি গাড়ি চলাচলের কথা নয়, সেই রাস্তা দিয়ে ভারী ভারী যান চলাচল করছে। তার দায় কি পুলিস এড়িয়ে যেতে পারে?
পাহাড়পুরের খাদান নিয়ে অভিযোগের পাহাড় রয়েছে স্থানীয় বাসিন্দাদের। অভিযোগ, বৈধ কাগজে খাদান থেকে অবৈধভাবে পাথর তোলা হচ্ছে। কাটা হচ্ছে পাহাড়। ওই এলাকায় রমরমিয়ে চলছে একাধিক ক্র্যাশার। সেই সবের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।  অধিকাংশের কাছে নেই জাতীয় পরিবেশ আদালতের ছাড়পত্র। খাদান ও ক্র্যাশারে কর্মরত শ্রমিকদের বিমা থাকা বাধ্যতামূলক। অধিকাংশ শ্রমিকেরই তা করানো হয়নি। এমনকী, তাঁদের জন্য সুরক্ষার পোশাকও নেই। পাথরের গুঁড়ো যাতে আকাশে না উড়ে বেড়ায়, তার ব্যবস্থা করতে হয়। সেই সবের বালাই নেই। তার উপর জনবহুল রাস্তা দিয়ে অতিরিক্ত পাথরবোঝাই করে চলে ট্রাক, ডাম্পার।
অভিযোগ, এক একটি ডাম্পারের ৩৫টন থেকে ৫০টনের বেশি পাথর থাকে। অতিরক্ত পণ্যবাহী গাড়ি চলাচলের ফলে রাস্তার দফারফা হয়ে গিয়েছে আগেই। সরু রাস্তায় অনবরত গাড়ি চলাচলের ফলে বাসিন্দারা এমনিতেই আতঙ্কে ছিলেন। রবিবারের দুর্ঘটনায় মৃত্যুর পর থেকে এখন ওই রাস্তা দিয়ে যেতে ভয় পাচ্ছেন। ছোট ছোট ছেলে মেয়েরা সাইকেল চালিয়ে স্কুলে যাবে কী করে? প্রশ্ন উঠছে, পাথর খাদানে যখন বড় বড় গাড়ি চলবেই, তখন আগে রাস্তার ব্যবস্থা না করেই কেন খাদানের অনুমোদন দিল প্রশাসন? 
কাশীপুরের বিডিও সুপ্রিম দাস বলেন, ‘জেলা পরিষদ ও আরআইডিএফ-এর তরফে ওই এলাকায় রাস্তার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। রাস্তা আরও চওড়া হবে। শীঘ্রই নতুন রাস্তার কাজ শুরু হবে।’ নতুন রাস্তা না হাওয়া পর্যন্ত কি তাহলে বন্ধ থাকবে খাদান? অবশ্য এই প্রশ্নের কোনও উত্তর আধিকারিকদের কাছ থেকে মেলেনি।
সম্পর্কিত সংবাদ