ইসলামাবাদ, ১৮ নভেম্বর: অবাক কাণ্ড বটে! দিদিমার ৪০তম মৃত্যুবার্ষিকী। আর সেই উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে খরচ হল ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ৪০ লক্ষ টাকা। এতটা পড়ে অবাক হওয়ার মত কিছু হয়নি। মনে হতেই পারে এ আর এমন কী? বড় লোকেদের খেয়াল, এ তো হতেই পারে। কিন্তু এখানেই ‘কাহানি মে ট্যুইস্ট’! এখানে কোনও ধনী পরিবারের অনুষ্ঠানের কথা বলা হচ্ছে না। এটা এক ভিক্ষুকের পরিবারের অনুষ্ঠান। যেখানে পরিবারের সকল সদস্যই দিন গুজরান করেন ভিক্ষা করেই। তাঁদের পরিবারের এই জমকালো অনুষ্ঠানে হাজির হয়েছিলেন প্রায় ২০ হাজার নিমন্ত্রিত অতিথি। শুধু ভোজ খাওয়ানোই নয়। নিমন্ত্রিতদের সসম্মানে তাঁদের বাড়ি অবধি পৌঁছে দিতে ওই পরিবারের পক্ষ থেকে বন্দোবস্ত করা হয়েছিল দু’ হাজার গাড়িরও। আর অনুষ্ঠানের এমন জাঁকজমক যা আচ্ছা আচ্ছা কোটিপতিকেও লজ্জায় ফেলে দিতে পারে। অভাবনীয় এই ঘটনাটি ঘটেছে পাকিস্তানের গুজরানওয়ালায়। জানা গিয়েছে সে দেশের মুদ্রায় অনুষ্ঠান বাবদ ওই ভিক্ষুক পরিবার খরচ করেছে ১.২৫ কোটি টাকা। এমন অত্যাশ্চর্য অনুষ্ঠানবাড়ির ভোজের মেনুও ছিল বেশ ‘দমদার’। লাঞ্চে ছিল পাকিস্তানের ঐতিহ্যবাহী খাবার সিরি পায়ে, মোরব্বা এবং মাংসের বিভিন্ন সুস্বাদু পদ। আর ডিনারে ছিল টেন্টার মটন, নান মটরগঞ্জ (মিষ্টি ভাত) এবং রকমারি ডেসার্টের আইটেম। বিশাল সেই জনসমাগমের জন্য মোট ২৫০টি খাসি কাটা হয়েছিল বলে খবর। আর এমন অনুষ্ঠানের পর পরই তার ভিডিও স্যোশাল মিডিয়ায় রীতিমতো ভাইরাল হয়ে গিয়েছে। হাসির রোল উঠেছে নেটিজেনদের মধ্যেও। চলছে বিতর্কও। কেউ কেউ আবার পাকিস্তানিদের ভিক্ষা করার পদ্ধতি শিখে নেওয়ার প্রস্তাব রাখছেন। কেউ আবার বলছেন, এটি সত্যি যে পাকিস্তানে যদি কেউ ভিক্ষা চাওয়ার কায়দা শিখে নেয়, তা হলে তাঁকে কোনও দিনও না খেয়ে মরতে হবে না।



