Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

ভাগাভাগি নিয়ে সদস্যদের নিত্যকলহ, টেন্ডার বাতিল 

ভাগাভাগি নিয়ে সদস্যদের নিত্যকলহ, টেন্ডার বাতিল 
  • ১৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫ ০০:০০
Prefer us on Google
অগ্নিভ ভৌমিক, নাকাশিপাড়া: পছন্দের ঠিকাদার কাজ না পেলেই টেন্ডার বাতিল। ‘ভাগ বাটোয়ারা’ ঠিকঠাক পেলে গোঁসা। সদস্যদের মধ্যে বনিবনার অভাব, নিত্য ঝগড়া। পঞ্চায়েত ভবনের সভাঘরে মিটিংয়ের পর মিটিং। সমাধান সূত্র অধরা।অতঃপর, ওয়ার্ক অর্ডার অথৈ জলে। স্তব্ধপঞ্চায়েত এলাকার উন্নয়ন! ‘উইপোকা’ ধরছে পঞ্চদশ অর্থ কমিশনের টাকায়।
Advertisement
নাকাশিপাড়া ব্লকের একাধিক পঞ্চায়েতে কমিশনের টাকা খরচে ব্যর্থতার ময়নাতদন্তে উঠে আসছে এমন চাঞ্চল্যকর তথ্য। সবমিলিয়ে পাঁচ কোটি টাকার বেশি ওয়ার্ক অর্ডার ব্লকে আটকে রয়েছে বলে জানা গিয়েছে। যা নিয়ে ব্যাপক শোরগোল পড়েছে নাকাশিপাড়াতে। কাজে পিছিয়ে থাকা পঞ্চায়েতের তালিকায় তৃণমূলের পঞ্চায়েতের পাশাপাশি রাম-বাম পরিচালিত এবং বিজেপি পরিচালিত পঞ্চায়েতও রয়েছে। বিষয়টি নিয়ে অত্যন্ত ক্ষুব্ধ জেলা প্রশাসনের আধিকারিকরা। 
কৃষ্ণনগর সদরের মহকুমাশাসক শারদ্বতী চৌধুরী বলেন, নাকাশিপাড়া ব্লকের বেশ কিছু পঞ্চায়েতে কাজ নিয়ে সমস্যা রয়েছে। বেশ কিছু বিষয় আমাদের নজরে এসেছে। আমরা পঞ্চায়েতের সঙ্গে আলোচনা করছি। যাতে দ্রুত কাজ এগিয়ে নিয়ে যাওয়া যায়। কিন্তু তারপরেও কোনোও পঞ্চায়েত যদি কাজ নিয়ে গড়িমসি করে, আমরা তাদের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে। 
পঞ্চদশ অর্থ কমিশনের দ্বিতীয় কিস্তির টাকা ঢোকার আগেইপ্রয়োজনীয় কাজ এগিয়ে রাখার নির্দেশ দিয়েছে জেলা প্রশাসন। সেইমতো পঞ্চায়েতগুলি পঞ্চদশ অর্থ কমিশনে দ্বিতীয় দফা কত টাকা পেতে পারে, তার আনুমানিক হিসেবে করা হয়েছে। সেই অনুমানিক বারদ্দ থেকে জেলা পরিষদ, পঞ্চায়েত সমিতি ও গ্রাম পঞ্চায়েতগুলিকে কাজের আগাম ওয়ার্ক অর্ডার দেওয়া হচ্ছে। যাতে টাকা ঢুকলেই দ্রুত, ব্যয় করা যায়। কিন্তু তাতেও দেখা যাচ্ছে,‌ নাকাশিপাড়া ব্লকের বেশ কিছু পঞ্চায়েত অনেকটই  পিছিয়ে। তাদের মধ্যে অন্যতম হল, মাঝেরগ্রাম, নাকাশিপাড়া, বীরপুর-২, ধনঞ্জয়পুর এবং বিক্রমপুর পঞ্চায়েত। এই সব পঞ্চায়েতে ঘনঘন টেন্ডার বাতিল হওয়ায় ক্ষুব্ধ প্রশাসনের আধিকারিকরা। 
জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, টাইড এবং আনটাইড ফান্ড মিলিয়ে মাঝেরগ্রাম পঞ্চায়েতকে ৩৯ লক্ষ ২৯ হাজার টাকা প্রাথমিকভাবে দেওয়া হয়েছে।‌ কিন্তু সেখানে এখনও পর্যন্ত কোনও কাজের ওয়ার্ক অর্ডার দেওয়া হয়নি। পঞ্চায়েতের সিপিএম প্রধান তেঁতুল রাজোয়ার বলেন, আমরা কাজের জন্য দ্রুত টেন্ডার করছি। বিজেপি পরিচালিত নাকাশিপাড়া পঞ্চায়েতেরও একই অবস্থা। পঞ্চায়েতের প্রাপ্ত ৪২ লক্ষ ৩৪ হাজার টাকার কানাকাড়িও খরচ করতে পারেনি। তৃণমূল পরিচালিত বিক্রমপুর পঞ্চায়েতেও একই ছবি। ব্লকের মধ্যে পারফরম্যান্সের নিরিখে সবচেয়ে তলানিতে রয়েছে এই পঞ্চায়েত। ৫৮ লক্ষ ৪৯ হাজার টাকার ওয়ার্ক অর্ডার বকেয়া পড়ে রয়েছে। ভালো পারফরমেন্স করেছে হরনগর, বীরপুর-২ এবং ধর্মদা পঞ্চায়েত। ধর্মদা পঞ্চায়েতের পঞ্চায়েত সমিতির তৃণমূলের সদস্য সঞ্জীব বল বলেন, উন্নয়নের কাজ কোনওভাবেই আটকে থাকুক, আমরা চাইনা। তাই সকলে‌ মিলে উন্নয়নের কাজকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া হবে।
জেলা প্রশাসন সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, নাকাশিপাড়া ব্লকের ১৫টি পঞ্চায়েতের জন্য পঞ্চদশ অর্থ কমিশনের মোট ৭ কোটি ২ লক্ষ টাকা ধরা হয়েছিল। যার মধ্যে এখনও পর্যন্ত ১ কোটি ৬৭ লক্ষ টাকার ওয়ার্ক অর্ডার ইস্যু করা হয়েছে। নাকাশিপাড়া ব্লকের বিডিও স্নেহাশিস দত্ত বলেন, গ্রাম পঞ্চায়েত একটি স্বশাসিত সংস্থা। আমরা তাদের গাইড করি। যে সমস্ত পঞ্চায়েতে সমস্যা রয়েছে, তাদের সঙ্গে বসে আমরা কাজ এগিয়ে নিয়ে যাব।
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ