


নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাকপুর: কয়েক মাস পর ফের অশান্ত হয়ে উঠল ভাটপাড়া। মেঘনা জুট মিলের একটি গোলমালকে কেন্দ্র করে বুধবার রাতে গুলি, বোমাবাজির পর বৃহস্পতিবার দুপুরে ফের বোমা পড়ল। আটচালা বাগান পুলিস ফাঁড়ির কাছেই একটি টালির বাড়িতে বোমা পড়ে। গোটা এলাকা থমথমে হয়ে যায়। দোকানপাট সব বন্ধ ছিল। বুধবারের ওই গোলমালের ঘটনায় বৃহস্পতিবার প্রাক্তন বিজেপি সাংসদ অর্জুন সিংকে দু’বার তলব করে জগদ্দল থানা। কিন্তু যেতে পারবেন বলে ই-মেল করে পুলিসকে জানিয়ে দেন অর্জুন। এদিন বিকেল পাঁচটা নাগাদ জগদ্দল থানার আইসি মধুসূদন মন্ডলের নেতৃত্বে বিশাল পুলিস বাহিনী সোজা চলে আসে অর্জুন সিংয়ের বাড়ি মজদুর ভবনে আসেন। এরপর বাড়ির দোতলার অফিস ঘরে ঘণ্টাখানেক জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় অর্জুন সিংকে। ওই সময় বাইরে জড়ো হয় তাঁর অনুগামীরা। গোটা এলাকায় তীব্র উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। র্যাফ, কমব্যাট ফোর্স মোতায়ন রয়েছে। এরমধ্যে বিজেপির রাজ্য সভাপতি অর্জুন সিংকে ফোন করেন।
পরে সাংবাদিকদের অর্জুন সিং বলেন, আমার ৩০ বছরের আর্মস লাইসেন্স। আমি আজ পর্যন্ত কাউকে গুলি চালাইনি। রাত দশটা কুড়িতে বোমা গুলির আওয়াজ শুনে বের হয়েছিলাম। মেঘনা মিলের গেটে যখন পৌঁছাই, তখন সেখানে কেউ ছিলনা। একটি ছেলে পড়েছিল। তাকে হাসপাতালে নিয়ে যাবার জন্য আমি বলি। মিল গেটের সিসি ক্যামেরার ফুটেজ পরীক্ষা করলেই সব বোঝা যাবে।
বারাকপুর পুলিস কমিশনারেটের ডিসি (উত্তর) গণেশ বিশ্বাস বুধবার রাতের একটি ভিডিও ফুটেজ প্রকাশ করেছেন। তাতে অর্জুন সিংকে হেঁটে যেতে দেখা যাচ্ছে। অবশ্য তৃণমূল বিধায়ক সোমনাথ শ্যাম সাংবাদিক বৈঠক করে স্পষ্ট দাবি করেছেন, অর্জুন সিং নিজে হাতে গুলি চালিয়েছেন। তাতেই সাদ্দাম হোসেন গুলি বিদ্ধ হয়েছে। বর্তমানে তিনি বাইপাসের ধারে একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। বিজেপি নেতাকে গ্রেপ্তার করতে হবে, না হলে বৃহত্তর আন্দোলন হবে। বারাকপুরের সাংসদ পার্থ ভৌমিক জানিয়েছেন, গুন্ডারাজ বন্ধ করা হবেই। এদিকে বারাকপুরের পুলিস কমিশনার অজয় ঠাকুর বলেন, গোটা ঘটনার তদন্ত চলছে। এফআইআর’এ নাম থাকার জন্য অর্জুন সিংকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। পুলিসের তরফেও আইনজীবীদের সঙ্গে পরামর্শ করা হচ্ছে। গোলমালের ঘটনায় যুক্ত থাকার অভিযোগে চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।