সৌম্যজিৎ সাহা, দক্ষিণ ২৪ পরগনা; আর পাঁচ জায়গা যখন আলোয় ঝলমল করত। তখন দূর থেকে ভেসে আসত পুজোর আগমনি থেকে হিন্দি গান। তখন কুলপির রামকৃষ্ণপুর পঞ্চায়েতের পাঁচটি গ্রাম থাকত নিঝুম হয়ে। তাদের পুজোর সময় উচ্ছ্বাস ছিল না। গ্রামের খুদেরা নতুন জামাকাপড় পরে যেত পাঁচ কিলোমিটার দূরে, পুজো দেখতে। এভাবে কেটেছে দশকের পর দশক। গ্রামে কেউ কখনও বারোয়ারি পুজো শুরুর উদ্যোগ নেয়নি। তাঁরা বাঙালির শ্রেষ্ঠ উৎসবে যোগ দিতে যেতেন অন্যত্র। কিন্তু ছবিটা পাল্টাল। এবার দুর্গার আরাধনায় মেতে উঠতে চলেছে কুলপির নিঝুম গ্রামগুলি। পঁচাত্তর বছরের এক বৃদ্ধার উদ্যোগে হচ্ছে দুর্গাপুজো। আয়োজকদের নাম মৌলেগ্রাম রূপরায় ও কর্মকার পাড়ার মহিলা কমিটি। মন্দাকিনী রূপরায় নামে ওই মহিলা তার সভানেত্রী। তাঁর নেতৃত্বেই তৈরি হয়েছে ৬০ জনের প্রমীলা বাহিনী। এখন সবাই ব্যস্ত পুজোর আয়োজনে।
মহিলারা বলেন, চারদিকে পুজোর গন্ধ অথচ আমরা কেউ উপভোগই করতে পারতাম না। এভাবে বছরের পর বছর চলে আসছিল। অষ্টমীর অঞ্জলি দিতে অনেক দূরে যেতে হতো। উৎসবের কিছুই বোঝা যেত না গ্রামে। কিন্তু এবার কথাবার্তা হল। মন্দাকিনীদেবী অন্যান্য মহিলাদের একত্র করে গ্রামে পুজোর আয়োজনের উদ্যোগ নিলেন। গ্রামের সবার সঙ্গে কথা বললেন। সায় মেলার পর শুরু হল প্রস্তুতি। প্রথমবার পুজোতেই থিমের চমক। প্রবীর রূপরায় নামে স্থানীয় এক শিল্পীর নির্দেশনায় তৈরি হচ্ছে মণ্ডপ। থিমের নাম ‘মেয়ে মানেই শক্তি’। এখন পুজোর আয়োজনে ব্যাপক উৎসাহ মৌলেগ্রাম, আলিপাড়া, সাপমারা, মেয়ানপুর এবং রাজারামপুর গ্রামে।
নতুন তাই মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষিত সরকারি অনুদান পাবে না এই পুজো কমিটি। তাই মহিলারা তাঁদের সামর্থ্য মতো লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের টাকা দিয়েছেন। যে যেমন পেরেছেন চাঁদা দিয়ে সাহায্য করেছেন। মন্দাকিনীদেবী অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষিকা। তিনি বলেন, ‘গ্রামে পুজো শুরু করার জন্য এবার প্রতিজ্ঞাবদ্ধ ছিলাম। আমার পাশে দাঁড়িয়েছেন আরও অনেক মহিলা। কেউ আপত্তি করেননি। তারপর পুজো করা হবে বলে ঘোষণা হয়। এখন গ্রামজুড়ে সাজোসাজো রব।