Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

ধুঁকতে থাকা ভাগীরথী দুগ্ধ প্রকল্পে ১২ কোটি মুনাফা, গত আর্থিক বর্ষে সার্বিক উৎপাদন বেড়েছে ১৫ শতাংশ

ধুঁকতে থাকা ভাগীরথী দুগ্ধ প্রকল্পের লাভ হওয়ায় খুশি সংস্থার কর্মী থেকে আধিকারিকরা। ভাগীরথী দুগ্ধ সমবায়ে ২০২৪-’২৫ আর্থিক বর্ষে ১২ কোটি টাকা লাভ হয়েছে।

ধুঁকতে থাকা ভাগীরথী দুগ্ধ প্রকল্পে ১২ কোটি মুনাফা, গত আর্থিক বর্ষে সার্বিক উৎপাদন বেড়েছে ১৫ শতাংশ
  • ১৭ জুলাই, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, বহরমপুর: ধুঁকতে থাকা ভাগীরথী দুগ্ধ প্রকল্পের লাভ হওয়ায় খুশি সংস্থার কর্মী থেকে আধিকারিকরা। ভাগীরথী দুগ্ধ সমবায়ে ২০২৪-’২৫ আর্থিক বর্ষে ১২ কোটি টাকা লাভ হয়েছে। বরাবর আর্থিক ক্ষতিতে ধুঁকতে থাকা এই সংস্থাটি জেলা প্রশাসনের কড়া নজরদারিতে কাজ করছে। জেলাশাসক এনিয়ে বারবার বৈঠক করেছেন। প্রয়োজনীয় পদক্ষেপও করেছিলেন। রাজ্যের অন্যতম বৃহৎ দুগ্ধ উৎপাদনকারী এই সংগঠনের হাল ফেরায় সকলেই খুশি। প্রতিদিন নিয়ম করে দুগ্ধ চাষিদের কাছ থেকে ১ লক্ষ ৩০ হাজার থেকে ১ লক্ষ ৪০ হাজার কিলোগ্রাম দুধ কিনছে এই সংস্থা। হাসি ফুটছে গো-পালকদের মুখে। সার্বিকভাবে দুধের উৎপাদন বেড়েছে প্রায় ১৫ শতাংশ।

Advertisement

জেলাশাসক রাজর্ষি মিত্র বলেন, ভাগীরথী দুগ্ধ প্রকল্প এই জেলার তথা রাজ্যের সবথেকে বড় ‘মিল্ক ইউনিয়ন’। দৈনিক ১ লক্ষ ২০ হাজার থেকে ১ লক্ষ ৪০ হাজার লিটার পর্যন্ত দুধ বাজারজাত করতে পারি। দীর্ঘদিন থেকে আমাদের চেষ্টা ছিল ভাগীরথীর ‘প্রোডাক্ট লাইন’ আরও বাড়ানোর। এখানকার তিন-চার রকমের দুধ বিক্রি হয়। এছাড়াও, আমরা পনির, দই ও লস্যি বাজারজাত করেছি। গত অর্থবর্ষে আমরা লাভবান হতে পারছি।
ভাগীরথী মিল্ক ইউনিয়নের ম্যানেজিং ডিরেক্টর বিজয় অধিকারী বলেন, বর্তমানে ১ লক্ষ ৩০ হাজার লিটার দুধ চাষিদের কাছ থেকে কিনছি। মাঝেমধ্যে ১ লক্ষ ৪০ হাজার লিটার দুধও নেওয়া হয়। সেই পরিমাণ দুধ বেরিয়ে যাচ্ছে। ঘি, পনির, দই ও লস্যি আগের মতো উৎপাদিত হচ্ছে। ব্যাপক চাহিদার জেরে আমরা কুলিয়ে উঠতে পারছি না। প্রতিবছরই ১০-১২ শতাংশ উৎপাদন বাড়ানোর লক্ষ্য রয়েছে আমাদের। ২০২৪-’২৫ আর্থিক বর্ষে ১২ কোটি টাকা লাভ হয়েছে।
জানা গিয়েছে, এখানে কেজি প্রতি ৭০০ টাকা দরে ঘি বিক্রি হচ্ছে। বাজারের চলতি দামের থেকে ১০০ টাকা কমে ভালো ঘি পাচ্ছেন ক্রেতারা। ২০০ গ্রাম পনির ৮০ টাকা দরে বিক্রি করা হয়। এক লিটার (স্ট্যান্ডার্ড) দুধের দাম ৩০ টাকা। চাষিদের থেকে ৩৮.৫০ টাকা কেজি দরে দুধ কেনা হচ্ছে।
কান্দি, ডোমকল, লালবাগ ও বহরমপুর সদর মহকুমা থেকে বাল্ক মিল্ক নিয়ে কুলিং প্রসেস করার পর একাধিক বড় ট্যাঙ্কারে করে চলে আসে পঞ্চাননতলার এই ফ্যাক্টরিতে। জেলার পাঁচটি জায়গায় কুলার সিস্টেম আছে। পাঁচটি প্ল্যাট থেকে ক্রমাগত দুধ আসতে থাকে। তারপর তা প্রসেস করার পর বাজারজাত করা হচ্ছে।
বেলডাঙার বাসিন্দা, গোপালক রমেন ঘোষ বলেন, ভাগীরথীতে সারা বছরই কমবেশি দুধের জোগান দিই। এখন ৩৮.৫০ টাকা কেজি দরে দুধ কিনছে মিল্ক ইউনিয়ন। নির্দিষ্ট সময়ে আমরা টাকাও পেয়ে যাই। অনেক বছর ধরে এই সংস্থা লাভ করতে পারছিল না। কিন্তু, গত বছর লাভ হওয়ায় আমরা সকলেই খুশি। উৎপাদন যত বাড়বে, আমাদের কাছ থেকেও তত বেশি পরিমাণে দুধ নেওয়া হবে।

সম্পর্কিত সংবাদ