সংবাদদাতা, বনগাঁ: ভুয়ো ভোটারদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে তৃণমূলের তৎপরতার মধ্যেই চাঞ্চল্যকর অভিযোগ আনল বিজেপি। বিজেপির দাবি, বনগাঁ মহকুমা জুড়ে অসংখ্য ভুয়ো ভোটার রয়েছে। অভিযোগ, বহু বাংলাদেশি নাগরিক বনগাঁয় পাকাপাকিভাবে বসবাস শুরু করেছেন। স্থানীয় নেতাদের সাহায্যে ভোটার তালিকায় তাঁদের নামও তুলে নিয়েছেন তাঁরা। ভোটার তালিকায় এক বাংলাদেশি নাগরিকের নাম দেখিয়ে রবিবার এই অভিযোগ করেন বিজেপির স্থানীয় সভাপতি দেবদাস মণ্ডল। তাঁর দাবি, বাংলাদেশে যশোর জেলার বাসিন্দা মহম্মদ সহিদুল বিশ্বাস। কিন্তু বাগদা বিধানসভা কেন্দ্রের ভোটার তালিকায় তাঁর নাম রয়েছে! ওই ব্যক্তির বাংলাদেশের পরিচয়পত্র দেখিয়ে এদিন এক সাংবাদিক সম্মেলন করেন তিনি। তাঁর দাবি, তৃণমূল নেতাদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে ওই বাংলাদেশি নাগরিকের। যদিও বিজেপির আনা অভিযোগ অস্বীকার করেছে তৃণমূল। ভুয়ো ভোটার ইস্যুতে তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরব হন সর্বপ্রথম। সেইমতো শনিবার তৃণমূলের বনগাঁর নেতৃত্ব কর্মীদের অভিযানে নামতে নির্দেশ দেন। পরদিনই বিজেপির পাল্টা অভিযোগে সরগরম রাজনৈতিক পরিমণ্ডল। এই বিষয়ে বিজেপির সাংগঠনিক জেলা সভাপতি দেবদাস মণ্ডল বলেন, মহম্মদ সহিদুল বিশ্বাস যশোরের বাসিন্দা। তিনি বাগদায় বয়রা পঞ্চায়েতের মালিদা এলাকার ভোটার। ১১৯ নম্বর বুথের এক তৃণমূল নেতার ঘনিষ্ঠ তিনি। সহিদুল বয়রা পঞ্চায়েতে ঠিকাদার হিসেবে কাজ করেন।’ যদিও এই বিষয়ে বনগাঁ সাংগঠনিক জেলা তৃণমূল সভাপতি বিশ্বজিৎ দাস বলেন, ‘ওই ব্যক্তি তৃণমূলের কেউ নন। তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলে প্রশাসনই যথাযথ পদক্ষেপ করবে।’ অন্যদিকে, দু’দেশের ভোটার তালিকায় তাঁর নাম থাকার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সহিদুল বিশ্বাস। তিনি বলেন, ‘এ ডাহা মিথ্যা অভিযোগ। আমি জন্মসূত্রেই ভারতীয়। সম্পত্তি হাতাতে আমারই এক আত্মীয় আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ আনছেন।’ তবে তৃণমূলের সঙ্গে তাঁর যোগের কথা স্বীকার করেন সহিদুল বিশ্বাস।



