Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

বাগজোলা খালে নিয়মিত ফেলা হয় আবর্জনা, নির্বিকার পুরসভাগুলি

বাগজোলা খালে নিয়মিত ফেলা হয় আবর্জনা, নির্বিকার পুরসভাগুলি
  • ১৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫ ০০:০০
Prefer us on Google
নিজস্ব প্রতিনিধি, বরানগর: মজে যাওয়া বাগজোলা খালের স্বাস্থ্য ফেরাতে একাধিক পরিকল্পনা নেওয়ার কাজ চলছে। নিকাশির মুখগুলিতে লকগেট বসানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে। এই কাজে বরাদ্দ হয়েছে কোটি টাকারও বেশি। কিন্তু খালে আবর্জনা ফেলা বন্ধ হচ্ছে না। মানুষ লাগাতার সে কাজ করে যাচ্ছেন। সচেতনতা আজও তিমিরে। পরিবেশবিদদের বক্তব্য, নিয়মিত নজরদারি চালাতে হবে। মানুষকে সচেতন করতে পুরসভাগুলি গা ছাড়া মনোভাব দেখায়। সে কারণেই এই ঘটনা ঘটে চলেছে।
Advertisement
কামারহাটি, বরানগর, দক্ষিণ দমদম পুর এলাকার জল নিকাশির অন্যতম মাধ্যম বাগজোলা খাল। আবর্জনার কারণে সে খাল নাব্যতা হারিয়ে মজে গিয়েছে। বর্ষা হলেই বিস্তীর্ণ এলাকা জলমগ্ন হয়ে পড়ে। এ সমস্যা ক্রমে বাড়ছে। প্রত্যেক বছরই নতুন নতুন এলাকা জলমগ্ন হয়ে পড়ছে। যেখানে একসময় গোড়ালি সমান জল জমত, সেখানে এখন হাঁটুর উপর উঠে যাচ্ছে জল। নিকাশির নোংরা জল গৃহস্থ বাড়িতে ঢুকছে। নাভিশ্বাস উঠছে নাগরিকদের। বছরভর খাল থেকে দূষণ ছড়ায়। খাল দূষণমুক্ত করতে গ্রিন ট্রাইবুনালে মামলা চলছে। যদিও পুরসভাগুলির গা ছাড়া মনোভাবের জন্য বাড়ছে সমস্যা। রাজ্য সরকার মাঝেমধ্যেই খালে আবর্জনা ফেলা বন্ধ করতে কড়া নির্দেশ দেয় পুরসভাগুলিকে। কিন্তু পরিস্থিতির বদল হয় না। এখনও দক্ষিণ দমদমে থাকা খাটালের খড়, গোবর সহ বিভিন্ন আবর্জনা সরাসরি খালে পড়ে। বাসিন্দারা পলিব্যাগে আবর্জনা ভরে খালে ফেলেন। যশোর রোডে বাগজোলা খালের উপর ব্রিজ রয়েছে। তার নীচে জাল দিয়ে আবর্জনা আটকানো আছে। সেখানে প্রতিদিন আবর্জনা ভরে ওঠে। যশোর রোড থেকে দমদম রোডের মধ্যবর্তী অংশে বাগজোলা খাল থেকে নৌকা করে প্লাস্টিক ও কাচের বোতল সংগ্রহ করে জীবিকা নির্বাহ করেন কিছু মানুষ। মহম্মদ আনসার নামের এক ব্যক্তি বলেন, ‘বহু বছর ধরে আমরা এই কাজ করছি। উৎসব-অনুষ্ঠানের সময় আবর্জনার পরিমাণ বাড়ে। সকালে কয়েক ঘণ্টা খালে ঘুরলেই নৌকা ভরে যায়।’ খালে আবর্জনা ফেলা বন্ধ করা ও নিয়মিত পরিষ্কার করার বিষয়ে বিভিন্ন বোর্ড মিটিংয়ে সরব হন কাউন্সিলাররা। অনেকে খাল পাড় বরাবর জালের ফেন্সিং দেওয়ার দাবি তোলেন। কিন্তু পরিস্থিতি পাল্টায় না। এখনও খালে আবর্জনা ফেলেন শহরবাসীদের একাংশ। অভিযোগ, পুরসভা দূষণ রুখতে নিয়মিত নজরদারি চালায় না। দক্ষিণ দমদম পুরসভার সিআইসি(স্বাস্থ্য) সঞ্জয় দাস যদিও এ অভিযোগ উড়িয়ে বলেন, ‘নিয়মিত নজরদারি করা হয় বলেই আবর্জনা কম পড়ে। তবে বাগজোলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছে এমন ড্রেন থেকে আবর্জনা পড়ে। রাতের অন্ধকারে অনেকে খালে আবর্জনা ফেলেন। খালে জঞ্জাল ফেলা রুখতে কড়া পদক্ষেপের বিষয়ে ভাবনাচিন্তা চলছে।’ - নিজস্ব চিত্র
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ