Bartaman Logo
১ জুন, ২০২৬
বর্তমান / খেলা

শক্তিশালী বোলিংয়ে বাজিমাত বেঙ্গালুরুর, বুড়ো হাড়ে ভেলকি ভুবনেশ্বরের, বেগুনি টুপি রাবাডার দখলে

ব্যাট দিয়ে ভয় দেখাও, আর ম্যাচ জেতো আগুনে বোলিংয়ে— বদলে যাওয়া রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর সাফল্যের মন্ত্র।

শক্তিশালী বোলিংয়ে বাজিমাত বেঙ্গালুরুর, বুড়ো হাড়ে ভেলকি ভুবনেশ্বরের, বেগুনি টুপি রাবাডার দখলে
  • ১ জুন, ২০২৬ ০৪:০০

আমেদাবাদ: ব্যাট দিয়ে ভয় দেখাও, আর ম্যাচ জেতো আগুনে বোলিংয়ে— বদলে যাওয়া রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর সাফল্যের মন্ত্র। এই ফর্মুলাতেই টানা দ্বিতীয়বার আইপিএল চ্যাম্পিয়ন বিরাট কোহলিরা। ‘ই সালা কাপ নামদু’ এখন আর স্বপ্ন নয়, অভ্যাস। তার জন্য কৃতিত্ব প্রাপ্য বোলারদের। রবিবার আমেদাবাদে ফাইনালে রীতিমতো দাপট দেখান ভুবনেশ্বর, হ্যাজলউড, রসিখরা। তাঁদের বিধ্বংসী বোলিংয়ের সামনে অসহায় গুজরাত ৮ উইকেটে ১৫৫ রানের বেশি তুলতে পারেননি। আর ভুবিদের গড়ে দেওয়া সেই মঞ্চে জয়ের ফুল ফোটালেন ‘চেজ মাস্টার’ বিরাট কোহলি। ৪২ বলে ৭৫ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলে ভিকে মাঠ ছাড়লেন হাসিমুখে।  

Advertisement

একটা সময় আরসিবি মানেই ছিল বিস্ফোরক ব্যাটিং আর দুর্বল বোলিংয়ের অদূরদর্শী পরিকল্পনা। তাই কোহলি, গেইল, ডি’ভিলিয়ার্সদের দাপটে পাহাড়প্রমাণ রান তুলেও সাফল্যের মুখ দেখা হত না বোলিং ব্যর্থতার কারণে। তিনবার ফাইনালে উঠেও মরীচিকার মতোই সরে গিয়েছে ট্রফি। অবশেষে ভুল সংশোধন ২০২৫ মেগা নিলামে। তারকাপ্রথা থেকে বেরিয়ে ভারসাম্যযুক্ত দল গড়ায় জোর দেয় আরসিবি থিঙ্কট্যাঙ্ক। কোহলি, পাটীদার ও যশ দয়াল ছাড়া সব ক্রিকেটারকেই রিলিজ করে দেয় তারা। মেগা নিলামে মুম্বই, হায়দরাবাদের মতো টিমগুলি যেখানে তারকা ক্রিকেটারদের ধরে রাখতে ৭০-৭৫ কোটি টাকা খরচ করে, সেখানে আরসিবি হাঁটে কৌশলী পথে। স্ট্র্যাটেজি স্পষ্ট— ব্যাটিং ও বোলিংয়ে সঠিক ভারসাম্য আনা। সেখানে তাদের সেরা চার চমক ছিল—হ্যাজলউড, ভুবনেশ্বর, ফিল সল্ট ও জিতেশ শর্মাকে সাকুল্যে ৪৫.৭৫ কোটি টাকায় নেওয়া।
৩৬ বছর বয়সি ভুবনেশ্বর কুমারকে অনেকেই বাতিলের খাতায় ফেলে দিয়েছিলেন। কিন্তু, জাত চেনাতে ভুল হয়নি বর্ষীয়ান পেসারের। ১৭টি উইকেট নিয়ে বেঙ্গালুরুকে ২০২৫ আইপিএল চ্যাম্পিয়ন করতে বড় ভূমিকা রাখেন তিনি। এবার তো আরও ক্ষুরধার ভুবি। তুলে নেন ২৮টি উইকেট। তবুও বেগুনি টুপি নিয়ে গেলেন কাগিসো রাবাডা। অবশ্য ভুবিকে যোগ্য সঙ্গত করেন হ্যাজলউড (১৫) ও তরুণ তুর্কি রসিখ (১৯)। বোলিং ইউনিটের এই রূপান্তরেই আরসিবি এমন ভয়ঙ্কর।
হ্যাজলউড তো বলেই দিলেন, ‘প্রথমবার ট্রফি জেতার জন্য আমাদের লম্বা সময় অপেক্ষা করতে হয়েছে। গতবছরের তুলনায় এবার অবশ্য আমরা অনেক রিল্যাক্সড ছিলাম। অসাধারণ বল করেছে ভুবি। আমার তো মনে পড়ছে না ও কোনো ম্যাচে ৩৫ রানের চেয়ে বেশি দিয়েছে বলে।’ স্বয়ং ভুবির গলায় তৃপ্তি, ‘ট্রফি জেতাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। পার্পল ক্যাপ না পাওয়ার জন্য তাই কোনো দুঃখ নেই। আমাদের পরিকল্পনাগুলো কাজে এসেছে আগাগোড়া। সেটাই আনন্দের।’  
স্কোরবোর্ড- গুজরাত টাইটান্স: সুদর্শন ক জিতেশ বো ভুবনেশ্বর ১২, শুভমান ক পাটীদার বো হ্যাজলউড ১০, নিশান্ত ক পাদিক্কাল বো রাসিখ ২০, বাটলার স্টাম্প জিতেশ বো ক্রুণাল ১৯, ওয়াশিংটন অপরাজিত ৫০, আরশাদ ক রসিখ বো হ্যাজলউড ১৫, তেওয়াটিয়া ক পাটীদার বো রসিখ ৭, হোল্ডার ক হ্যাজলউড বো ভুবনেশ্বর ৭, রশিদ ক শেফার্ড বো রসিখ ৭, রাবাডা অপরাজিত ৩। অতিরিক্ত ৫, মোট ১৫৫-৮ (২০ ওভারে)। উইকেট পতন: ১-২২, ২-২৬, ৩-৫৫, ৪-৭৩, ৫-৯৯, ৬-১১৫, ৭-১৪২, ৮-১৫১। বোলিং: ডাফি ৪-০-৩৮-০, ভুবনেশ্বর ৪-০-২৯-২, হ্যাজলউড ৪-০-৩৭-২, রসিখ ৪-০-২৭-৩, ক্রুণাল ৪-০-২৩-১। 
বেঙ্গালুরু: বেঙ্কটেশ ক রাবাডা বো সিরাজ ৩২, বিরাট অপরাজিত ৭৫, পাদিক্কাল ক আরশাদ বো রাবাডা ১, পাটীদার ক রাবাডা বো রশিদ ১৫, ক্রুণাল এলবিডব্লু বো রশিদ ১, ডেভিড ক বাটলার বো আরশাদ ২৪, জিতেশ অপরাজিত ১১, অতিরিক্ত ২, মোট  ১৬১-৫ (১৮ ওভার), উইকেট পতন: ১-৬২, ২-৬৩, ৩-৮৯, ৪-৯১, ৫-১৩২। বোলিং: সিরাজ ৪-০-৩৬-১, রাবাডা ৩-০-৪৪-১, হোল্ডার ২-০-১৬-০, রশিদ ৪-০-২৫-২, আরশাদ ৪-০-৩২-১, প্রসিদ্ধ ১-০-৭-০।  বেঙ্গালুরু জয়ী ৫ উইকেটে।

সম্পর্কিত সংবাদ