Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

দিল্লিতে সাধারণতন্ত্র দিবসে কুচকাওয়াজে বাংলার ট্যাবলো ‘দুয়ারে সরকার’ প্রকল্প

সরকারি প্রকল্পের সুবিধা পেতে সাধারণ মানুষকে দৌড়তে হতো এক অফিস থেকে আর এক অফিসে। অফিসের বাবুদের মেজাজ-মর্জির উপর নির্ভর করতে হতো।

দিল্লিতে সাধারণতন্ত্র দিবসে কুচকাওয়াজে বাংলার ট্যাবলো ‘দুয়ারে সরকার’ প্রকল্প
  • ১৭ জুলাই, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

প্রীতেশ বসু, কলকাতা; সরকারি প্রকল্পের সুবিধা পেতে সাধারণ মানুষকে দৌড়তে হতো এক অফিস থেকে আর এক অফিসে। অফিসের বাবুদের মেজাজ-মর্জির উপর নির্ভর করতে হতো। ২০২০ সালের ১ ডিসেম্বর থেকে পশ্চিমবঙ্গে এমন ঘটনা কার্যত ইতিহাস হয়ে গিয়েছে। কারণ, ওই দিন থেকেই মানুষের দুয়ারে গিয়ে পরিষেবা প্রদান শুরু করে রাজ্য সরকার। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই কর্মকাণ্ডের নাম দেন ‘দুয়ারে সরকার’। প্রতি বছর অন্তত দু’বার এলাকাভিত্তিক ‘দুয়ারে সরকার’ শিবির করে জনগণের পরিষেবা নিশ্চিত করে রাজ্য। এই প্রকল্পের মাধ্যমে জনগণের পাশে থাকার যে বার্তা রাজ্য সরকার দিয়েছে, সেটাই এবার দিল্লির রাজপথ থেকে তুলে ধরা হবে দেশবাসীর সামনে। ২০২৬ সালের সাধারণতন্ত্র দিবসের কুচকাওয়াজে বাংলার ট্যাবলোর বিষয়বস্তু হতে চলেছে ‘দুয়ারে সরকার’ প্রকল্প।  

Advertisement

সূত্রের খবর, রাজ্যের এই সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে ইতিমধ্যে চিঠি পাঠানো হয়েছে কেন্দ্রকে। সম্প্রতি পাঠানো ওই চিঠিতে বলা হয়েছে, ‘রাজ্যের মানুষের দোরগোড়ায় জনকল্যাণমূলক প্রকল্পের সুবিধা পৌঁছে দিচ্ছে দুয়ারে সরকার। তাই এবারের সাধারণতন্ত্র দিবসের কুচকাওয়াজে এই প্রকল্পকে থিম করে ট্যাবলো তৈরির সিদ্ধান্ত হয়েছে।’ কতগুলি শিবির হয়েছে এবং এর মাধ্যমে কতজন মানুষ উপকৃত হয়েছেন, সেই তথ্য কেন্দ্রকে ইতিমধ্যে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। প্রসঙ্গত, এখনও পর্যন্ত ন’বার ‘দুয়ারে সরকার’ শিবিরের আয়োজন হয়েছে রাজ্যজুড়ে। মোট ক্যাম্পের সংখ্যা ৭ লক্ষ ৭৫ হাজার ৪৩। প্রায় ১০ কোটি পরিষেবা প্রদান করা হয়েছে শিবির থেকে। শেষতম ‘দুয়ারে সরকার’ শিবির হয়েছে চলতি বছরের ২৪ জানুয়ারি থেকে ১ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত। এই পর্বে মোট ১ লক্ষ ৬ হাজার ৪৮টি ক্যাম্পের মাধ্যমে খাদ্যসাথী, স্বাস্থ্যসাথী, মেধাশ্রী, কন্যাশ্রী, লক্ষ্মীর ভাণ্ডার, কৃষকবন্ধু, রূপশ্রী, স্টুডেন্ট ক্রেডিট কার্ড সহ মোট ৩৭টি প্রকল্পের সুবিধা প্রদান করেছে রাজ্য। প্রস্তাবিত ট্যাবলো ডিজাইন করার ক্ষেত্রে এই বিষয়গুলি মাথায় রাখা হচ্ছে বলেই জানা গিয়েছে। ট্যাবলোয় থাকবে ভ্রাম্যমাণ ‘দুয়ারে সরকার’ শিবিরের বিষয়টিও। মূলত সুন্দরবন, জঙ্গলমহল এবং পাহাড়ের প্রত্যন্ত অঞ্চলে মানুষের কাছে পরিষেবা পৌঁছে দিতে ভ্রাম্যমাণ শিবিরের আয়োজন করে সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসন। 
কোন কোন রাজ্যের ট্যাবলো কুচকাওয়াজে স্থান পাবে, তা ঠিক করে কেন্দ্রের অধীন একটি বিশেষজ্ঞ কমিটি। রাজ্যের সঙ্গে তাদের প্রথম বৈঠক ইতিমধ্যে হয়ে গিয়েছে বলেই খবর। ধাপে ধাপে চলে বাছাই প্রক্রিয়া। কোনও রাজনৈতিক বার্তা না থাকায় এক্ষেত্রে রাজ্যের ট্যাবলো বাদ পড়ার তেমন কোনও আশঙ্কা নেই বলেই মনে করছে প্রশাসনিক মহল। ২০২৫ সালে রাজ্যের ট্যাবলো তৈরি হয়েছিল ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ এবং ‘লোকপ্রসার’ প্রকল্পের ভিত্তিতে। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ