Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

বাংলার শিক্ষা পোর্টাল চারদিন ধরে অকেজো, থমকে রেজিস্ট্রেশন থেকে কন্যাশ্রী, সবুজ সাথীর কাজও

রাজ্যের শিক্ষাব্যবস্থায় স্বচ্ছতা এবং আধুনিকতা বৃদ্ধিতে তৈরি হয়েছিল ‘বাংলার শিক্ষা’ পোর্টাল। ২০১৯ সালে তৈরি হওয়ার পর করোনাকালে অপরিহার্য হয়ে ওঠে পোর্টালটি।

বাংলার শিক্ষা পোর্টাল চারদিন ধরে অকেজো, থমকে রেজিস্ট্রেশন থেকে কন্যাশ্রী, সবুজ সাথীর কাজও
  • ১৩ জুন, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, রানাঘাট ও কলকাতা: রাজ্যের শিক্ষাব্যবস্থায় স্বচ্ছতা এবং আধুনিকতা বৃদ্ধিতে তৈরি হয়েছিল ‘বাংলার শিক্ষা’ পোর্টাল। ২০১৯ সালে তৈরি হওয়ার পর করোনাকালে অপরিহার্য হয়ে ওঠে পোর্টালটি। কিন্তু গত চারদিন ধরে অজ্ঞাত কারণে বন্ধ সেই পোর্টাল। বহু চেষ্টা করেও খুলছে না সেটি। ফলে স্কুলভিত্তিক একাধিক প্রকল্প ও বিভিন্ন রেজিস্ট্রেশন করতে গিয়ে বিপাকে পড়তে হচ্ছে রাজ্যের স্কুলগুলিকে। 

Advertisement

কী পরিস্থিতি? হাওড়া থেকে নদীয়া, উত্তরবঙ্গ থেকে দক্ষিণবঙ্গ, সমস্ত স্কুলেই বর্তমানে একাদশ শ্রেণির রেজিস্ট্রেশন হচ্ছে। কিন্তু সেই রেজিস্ট্রেশন করতে গিয়েই দেখা দিয়েছে সমস্যা। চারদিন ধরে পোর্টাল ‘লগইন’ করার চেষ্টায় ব্যর্থ হচ্ছে স্কুলগুলি। ফলে নবম শ্রেণি ও একাদশ শ্রেণির রেজিস্ট্রেশন প্রক্রিয়া থমকে গিয়েছে। বাংলার শিক্ষা পোর্টালই রাজ্যের স্কুলশিক্ষার ‘ডেটা বেস’। তাই পোর্টাল লগইন করতে না-পারায় ঐক্যশ্রী, কন্যাশ্রী, সবুজসাথীসহ বিভিন্ন প্রকল্পের কাজও স্তব্ধ হয়ে গিয়েছে। আবার যদি কেউ এক স্কুল থেকে অন্য স্কুলে ট্রান্সফার নিতে চান তাহলেও অপরিহার্য বাংলার শিক্ষা পোর্টাল। কারণ বর্তমান স্কুল থেকে ‘ট্রান্সফার আউট’ না করলে, নতুন স্কুল ওই পড়ুয়াকে ‘ট্রান্সফার ইন’ করতেই পারবে না। 
কেন খুলছে না পোর্টাল? এর উত্তর দপ্তরের তরফে দেওয়া হয়নি স্কুলগুলিতে। ফলে প্রতিদিন স্কুল টাইমে পোর্টাল খোলার চেষ্টা করে যাচ্ছে স্কুলগুলি। হাওড়ার পশ্চিম বালি এলাকার রঘুনাথপুর নফর অ্যাকাডেমির প্রধান শিক্ষক চন্দন মিশ্র বলেন, ‘কয়েকদিন ধরেই এই সমস্যা হচ্ছে। প্রত্যেকেই এখন একাদশ শ্রেণির রেজিস্ট্রেশন আপডেট করছেন। মাধ্যমিকের পর প্রতিটা স্কুলেই অন্যান্য জায়গা থেকে ছাত্ররা ভর্তি হয়েছে। ফলে সেগুলি ডেটা বেসে তোলা দরকার, কিন্তু হচ্ছে না।’ 
একই সমস্যার কথা উঠে এসেছে নদীয়ার শান্তিপুরের রাধারানি নারী শিক্ষা মন্দিরের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকা তপতী মুখোপাধ্যায়ের বক্তব্যেও। তিনি বলেন, ‘আমাদের ২,৩০০ পড়ুয়া। ফলে পোর্টাল না-খুললে সমগ্র ডেটা বেস পাওয়া যাচ্ছে না। সমস্ত পড়ুয়ার সামগ্রিক তথ্যই থাকে ওই পোর্টালে। চারদিন ধরে সেটি কাজ করছে না। ড্রপ আউট তালিকা থেকে নতুন রেজিস্ট্রেশন, এমনকী স্কুল-সম্পর্কিত একাধিক প্রকল্পের কোনও নতুন আবেদন করতে পারছি না। আশা করব, সমস্যাটি তাড়াতাড়ি মিটে যাবে।’ 
বিষয়টি নিয়ে শিক্ষাদপ্তরের তরফে জানানো হয়েছে, এই পোর্টালকে কেন্দ্র করে নানা কাজ এখন 
চলছে। তাই এইসময় তা বন্ধ থাকা কাঙ্ক্ষিত নয়। তবে, আজকালের মধ্যে সেটি পুরোপুরি চালু হয়ে যাবে। শিক্ষকদের বেতন থেকে কন্যাশ্রী—সবকিছুর সার্ভার এই পোর্টালের সঙ্গে সম্পৃক্ত। সেগুলিকে একজায়গায় আনা হচ্ছে। তরুণের স্বপ্ন প্রকল্পে গতবছর যে প্রতারণার ঘটনা সামনে এসেছিল, সেসব ঠেকাতেও ঢেলে সাজা হচ্ছে পোর্টালটিকে। সেই কারণেই পোর্টালটি সাময়িকভাবে কাজ করছে না।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ