Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

দেশের সব পুরসভায় আর্থিক শৃঙ্খলার জন্য হাতিয়ার বাংলার ডিজিটাল ব্যবস্থা, পরামর্শ ক্যাগের

সাধারণ মানুষের করের টাকা খরচ করে কেন্দ্র এবং রাজ্য সরকারের কাজের উপর নজরদারি চালায় সিএজি (ক্যাগ)। এবার দেশের সমস্ত পুরসভায় আর্থিক শৃঙ্খলা নিশ্চিত করতে বাংলার ডিজিটাল ব্যবস্থাকে হাতিয়ার করতে উদ্যোগী হয়েছে ভারতের এই স্বাধীন সাংবিধানিক সংস্থা।

দেশের সব পুরসভায় আর্থিক শৃঙ্খলার  জন্য হাতিয়ার বাংলার ডিজিটাল ব্যবস্থা, পরামর্শ ক্যাগের
  • ১২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

প্রীতেশ বসু , কলকাতা: সাধারণ মানুষের করের টাকা খরচ করে কেন্দ্র এবং রাজ্য সরকারের কাজের উপর নজরদারি চালায় সিএজি (ক্যাগ)। এবার দেশের সমস্ত পুরসভায় আর্থিক শৃঙ্খলা নিশ্চিত করতে বাংলার ডিজিটাল ব্যবস্থাকে হাতিয়ার করতে উদ্যোগী হয়েছে ভারতের এই স্বাধীন সাংবিধানিক সংস্থা। 

Advertisement

আগামী দিনে দেশের পুর ব্যবস্থায় আর্থিক স্বচ্ছতার লক্ষ্যে নয়া ন্যাশনাল মিউনিসিপাল অ্যাকাউন্টস ম্যানুয়াল বা জাতীয় পুর হিসাবরক্ষণ ম্যানুয়াল আনতে চলেছে ক্যাগ। আর্থিক লেনদেনের ক্ষেত্রে নয়ছয় বন্ধ করতে পুরসভাগুলির কী করণীয়, সেই সংক্রান্ত পরামর্শ থাকবে এই ম্যানুয়ালে। সূত্রের খবর, সেই ম্যানুয়ালেই জায়গা পাচ্ছে বাংলার ‘পুর হিসাব ২.০’। রাজ্যের ১২৮টি পুরসভার দৈনিক আয়-ব্যয়ের রিয়েল টাইম হিসেব রাখতে এই অনলাইন ব্যবস্থাপনা চালু হচ্ছে মার্চ মাস থেকে। ইতিমধ্যে একাধিক পুরসভায় দুবার পাইলট প্রোজেক্ট চালিয়ে এই ব্যবস্থার পরীক্ষাও করে নিয়েছে রাজ্য। 
নবান্নের এক কর্তার কথায়, এমন অনেক পুরসভা আছে যাদের নিজস্ব আয়ের হিসেব পাওয়া যায় না। পেলেও তা নির্ধারিত সময়ের অনেক পরে। ব্যয়ের হিসেবের ক্ষেত্রেও পরিস্থিতি অনেকটাই এক। সেই কারণেই নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে হিসেব পেতে কয়েকবছর আগে ‘পুর হিসাব’ পোর্টাল চালু করা হয়। কিন্তু, তাতেও কার্যসিদ্ধি না-হওয়ায় এবার ‘পুর হিসাব ২.০’ চালু করা হচ্ছে। এখানে দৈনন্দিন আয়-ব্যয়ের হিসেব পোর্টালে প্রতিদিন তোলা বাধ্যতামূলক হবে। একমাত্র যান্ত্রিক ত্রুটির ক্ষেত্রেই ছাড় পেতে পারে পুরসভা কর্তৃপক্ষ। ফলে আয়ের তো বটেই, খরচের উপরেও রাজ্য স্তর থেকে নজরদারি চালানো সম্ভব হবে। তাতে বাড়বে স্বচ্ছতা। নবান্ন সূত্রে খবর, এছাড়া পুর হিসাব পোর্টালের সঙ্গে সম্পত্তি কর আদায় পোর্টাল এবং অর্থদপ্তরের আইএফএমএস পোর্টালের সংযুক্তিকরণের প্রস্তাবও দেওয়া হচ্ছে।  
পুরসভাগুলির অডিট সংক্রান্ত একটি বৈঠকে রাজ্যের এই নয়া ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে জানতে পারেন এজি বেঙ্গলের কর্তারা। সূত্রের খবর, রাজ্যের এই কর্মকাণ্ডের কথা তাঁরাই তুলে ধরেন ক্যাগের কাছে। পশ্চিমবঙ্গের এই অনলাইন ব্যবস্থাপনাকে গোটা দেশে রূপায়ণের পরমার্শ দিতে উদ্যোগ নেয় ক্যাগ। এনিয়ে ডেপুটি এজি সিরাজ মধুকর ওয়ানির নেতৃত্বে সম্প্রতি একটি বৈঠক হয়েছে।
রাজ্যের এক পদস্থ কর্তা জানান, নগরোন্নয়নের একাধিক কাজ নিয়ে এর আগে বাংলার সুখ্যাতি করতে বাধ্য হয়েছে কেন্দ্র। তার জন্য পুরস্কৃতও করা হয়েছে রাজ্যের বহু পুরসভাকে। এবার ক্যাগ পরামর্শ দিলে দেশের অন্যান্য রাজ্যেও বাংলার পদ্ধতি মেনেই চলবে আর্থিক শৃঙ্খলা বৃদ্ধির কাজ।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ