Bartaman Logo
১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
বর্তমান / বিদেশ

দুর্গাপুজোয় আমিষ নিষিদ্ধের পক্ষে নন ব্রিটেনের প্রবাসী বাঙালিরা

বাঙালির দুর্গাপুজো মানেই ভক্তি, ভোগ, খাওয়া-দাওয়া, দেদার আড্ডা। কেউ কিছু ঠিক করে দিতে চাইলে প্রশ্ন উঠবেই।

দুর্গাপুজোয় আমিষ নিষিদ্ধের পক্ষে নন ব্রিটেনের প্রবাসী বাঙালিরা
  • ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

রূপাঞ্জনা দত্ত, লন্ডন: বাঙালির দুর্গাপুজো মানেই ভক্তি, ভোগ, খাওয়া-দাওয়া, দেদার আড্ডা। কেউ কিছু ঠিক করে দিতে চাইলে প্রশ্ন উঠবেই। পবিত্রতার দোহাই দিয়ে পুজোর জায়গা থেকে আমিষ দূরে রাখতে বলেছে বিশ্ব হিন্দু পরিষদ। বাংলার বিভিন্ন প্রান্তে দেবীকে আমিষ ভোগ দেওয়া হয়। দুর্গাপুজোর অন্যতম সম্পদ এই সাংস্কৃতিক, সামাজিক বৈচিত্র্য। খাওয়ার পাশাপাশি থিমের পুজো নিয়েও বিতর্ক কম হচ্ছে না। এই উৎসব ধর্ম, শিল্পের এক অনবদ্য মিলনক্ষেত্র। দুর্গাপুজোর এই ঐতিহ্যকে তুলে ধরতে চাইছেন ব্রিটেনের প্রবাসী বাঙালিরা। লন্ডন থেকে ওয়ারউইকশায়ার। দু’দশকের বেশি সময় ধরে ব্রিটেনের বিভিন্ন প্রান্তে দুর্গাপুজো হচ্ছে। চলতি বছরে বেশকিছু পুজো ২৫ বছরে পা দেবে। হাজার হাজার কিলোমিটার দূরে থাকলেও বাঙালির বৈচিত্র্যময় সংস্কৃতিকে তুলে ধরছেন উদ্যোক্তারা। 

Advertisement

এবিষয়ে লন্ডনের উদ্যোগপতি সুদীপ রায় বলেন, ‘বাংলার ধর্ম কোনো নির্দিষ্ট রূপ মেনে চলে না। কালীকে মেয়ে হিসাবে পুজো করতেন সাধক রামপ্রসাদ। রাস্তায় শ্রীকৃষ্ণের নামগান করতেন গৌরাঙ্গ। উদারতার এই বার্তাকে বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরেছিলেন স্বামী বিবেকানন্দ। এর জন্য কেউ রাজনৈতিক বা প্রাতিষ্ঠানিক কর্তৃপক্ষের থেকে অনুমতি নেননি। দেবীর রুপ নিয়ে কোনো রাজনৈতিক দলের নির্দেশ দেওয়া এই ইতিহাসের পরিপন্থী।’ থেমস দুর্গা প্যারেডের আয়োজক অনির্বাণ মুখোপাধ্যায়ের কথায়, ‘ব্রিটেনে মূলত কমিউনিটি হলে দুর্গাপুজো করা হয়। দেবীকে নিরামিষ ভোগ দেওয়া হলেও হলের মধ্যে আমিষ খাবার বিক্রি হয়। হিন্দু উৎসব হলেও আমাদের রীতি গুজরাত ও মহারাষ্ট্রের নবরাত্রির থেকে আলাদা। বাংলায় দেবীকে ইলিশ দেওয়া হয়। পাঁঠা বলি হয়। তাই প্যান্ডেলের পবিত্রতার জন্য আমিষের প্রসঙ্গ তোলার কোনো প্রয়োজন পড়ে না।’ প্রয়াস ইউকের সদস্য ভাস্কর ভট্টাচার্য বলেন, ‘আমরা দেবীকে মেয়ে হিসাবে বাড়িতে স্বাগত জানাই। বিভিন্ন বাড়ির পুজোয় আজও একই রীতি মানা হয়। অন্যদিকে বারোয়ারি পুজোয় থিমের বৈচিত্র্য চোখে পড়ে। আমার মনে হয়, ঐতিহ্য আর সৃজনশীলতা একসঙ্গে থাকতেই পারে।’ একই বার্তা দিয়েছেন ওয়ারউইকশায়ার সর্বজনীন শারদোৎসবের অন্যতম সদস্য ডঃ শুভলগ্না চট্টোপাধ্যায়। তাঁর স্পষ্ট বক্তব্য, ‘মা দুর্গা মেয়ে হিসাবে বাপের বাড়ি আসেন। এই উৎসবের অবিচ্ছদ্য অংশ খাওয়া-দাওয়া। মাছ সহ বিভিন্ন আমিষ ভোগ বাঙালি ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের অঙ্গ। তাই পুজোতে খাবারে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করতে চাইলে সাংস্কৃতিক দূরত্ব তৈরি হবেই।’  

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ